করোনা জয়ের গল্প

সূর্যাস্ত দেখা সেই লোকটি

ডাক্তার লিউ কই: ‘একজন ডাক্তার হিসেবে এটা আমার কাছে একটা বড় খবর, আমার রোগী করোনা জয় করে বাড়ি ফিরছেন।’

  আশরাফুল আলম পিনটু ০৫ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায় নেয়ার সময় হাসপাতালের কর্মীরা তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। ‘করোনাজয়ী’ হিসেবে সার্টিফিকেটও দেয়া হয় তাকে। সংবর্ধনার জবাবে ওয়াঙ জিন বলেন, ‘আমি এখন খুব ভালো আছি। আগের মতো হাঁটতে পারছি। আমি ফিরে এসেছি মৃত্যুর কিনার থেকে...

মর্মস্পর্শী এ ছবিটার কথা কি আপনার মনে আছে? ৮৭ বছর বয়সী একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী আর বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে একজন চিকিৎসক সূর্যাস্ত দেখছেন। ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। রোগীর নাম ওয়াঙ জিন। আর ডাক্তার লিউ কই।

বেশিরভাগ মানুষই এটিকে ‘মহামারীর সবচেয়ে উষ্ণতম দৃশ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। শুভেচ্ছা জানান চিকিৎসক এবং রোগীকে। প্রথমবারের মতো হুবাই প্রদেশের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেনমিন হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন ওয়ার্ডের বাইরে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ হয়েছিল কোভিড-১৯ আক্রান্ত এই রোগীর।

‘প্রবীণ লোকটি প্রায় এক মাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্নতায় তিনি কিছুটা হতাশায় ভুগছিলেন। আমি ভেবেছিলাম সূর্যের আলো তাকে উদ্দীপ্ত করতে পারে।’ সূর্যাস্ত দেখার ব্যাপারে তার চিকিৎসক লিউ কই বলেন।

তিনি আরও জানান, একদিন বিকালে বৃদ্ধের সিটি স্ক্যান করিয়ে ফেরার পথে হাসপাতালের রাস্তায় ট্রলি-বিছানা থামিয়েছিলেন। রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। রোগীটি কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিষয়টি ডাক্তার লিউর মনে আসে এবং রোগীও রাজি হয়ে যান।

উহানে চিকিৎসাসেবা দিতে সাংহাই থেকে আসা ২৭ বছর বয়সী এ ডাক্তার এবং তার সহকর্মীদের তত্ত্বাবধানে বৃদ্ধ রোগীটির অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়।

‘উহান আসার পর থেকে আমরা চব্বিশ ঘণ্টা কাজ চালিয়ে গেছি। আমিও কিছুক্ষণ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে চেয়েছিলাম।’ ডাক্তার লিউ কই বলেন, ‘যদিও আমরা মাত্র পাঁচ মিনিট বাইরে কাটিয়েছি। এতেই রোগীর মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়। ওয়ার্ডে ফিরে আসার পর তিনি শিগগিরই ঘুমিয়ে পড়েন।’

রোগী নিজে একজন বেহালাবাদক। এরপর তিনি প্রতিদিনই গান করেছেন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ধীরে ধীরে। বিদায় নেয়ার সময় হাসপাতালের কর্মীরা তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। ‘করোনাজয়ী’ হিসেবে সার্টিফিকেটও দেয়া হয় তাকে। সংবর্ধনার জবাবে ওয়াঙ জিন বলেন, ‘আমি এখন খুব ভালো আছি। আগের মতো হাঁটতে পারছি। আমি ফিরে এসেছি মৃত্যুর কিনার থেকে।’

ডাক্তার লিউ কই উপস্থিত থাকতে না পারায় ভিডিও কলে কথা বলেন করোনাজয়ী ওয়াঙ জিনের সঙ্গে। ডাক্তার লিউ কইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নার্সরা আমার সেবা করেছেন আন্তরিকভাবে। আমাকে তারা ছোট শিশুর মতোই যত্ন করেছেন। এটা তাদের জন্য খুব সহজ ছিল না। আমি হাসপাতালের সব কর্মী ও তাদের পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত