করোনাকালে বরিশাল মহানগর

সর্বোচ্চ সংক্রমণ পুলিশে কাজ চলছে গ্রুপ ভিত্তিতে

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ০৬ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। মাত্র ২৩ দিনে এখানে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০৫ সদস্যের। এর ৯৮ জনই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের। শুধু পুলিশ সদস্য নন, তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। সব মিলিয়ে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

একের পর এক দফতর ও থানায় সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো দফতর বা থানা লকডাউন করেনি পুলিশ বিভাগ। করোনার বিস্তার ঠেকাতে মাঠে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সব দফতর ও থানাতেই সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তাদের প্রশংসা করেছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ প্রশংসা করেন।

বরিশালে পুলিশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ১৪ মে- একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের গাড়ি চালকের। পরে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ও যারা মাঠে কাজ করছেন তাদের করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৯৮ সদস্যের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। একই সময়ে বরিশাল রেঞ্জের ৬ জেলায় করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে আরও ৭ জনের।

আক্রান্তদের সিংহভাগ মাঠপর্যায়ে কর্মরত কনস্টেবল হলেও উচ্চপর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যেও শনাক্ত হচ্ছে করোনা। ৩১ মে সংক্রমণ ধরা পড়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার প্রলয় চিসিমর। এছাড়া কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এআর মুকুলও করোনা আক্রান্ত। কোতোয়ালি থানাতেই ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও ২ জন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর রয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে আলাপকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রশাসন) নূরুল ইসলাম বলেন, ‘১০ পুলিশ সদস্যের মধ্যে করোনা ধরা পড়লেও থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। নগরীর আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন চেকপোস্ট সামলানো আর নিয়মিত টহলও অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য দফতরে কারও করোনা সংক্রমণ হলে স্বাভাবিকভাবেই সেটি লকডাউন করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। আমরা চরম ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, ‘সারাক্ষণ মাঠে থাকা ও সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করছি আমরা, তাই আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাপকতা এতটা হতে পারে তা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। মাত্র ২৪ দিনে পুলিশ ও তাদের সদস্যরা মিলে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১২১। প্রতিদিনই বাড়ছে এ সংখ্যা। সবচেয়ে যেটি বড় সমস্যা তা হল- উপসর্গহীন করোনা রোগী। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এ সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে আশার কথা, এখন পর্যন্ত কেউ গুরুতর অবস্থায় যায়নি। তাছাড়া সুস্থ হয়ে ওঠা সদস্যদের সংখ্যাও কম নয়।’

কোনো দফতর লকডাউন না করে কাজ চালানো প্রসঙ্গে শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের প্রস্তুতি ছিল। সদস্যদের সাজানো হয়েছে গ্রুপ ভিত্তিতে। কোনো একটি দফতরে একজনের করোনা সংক্রমণ হলে আমরা সেই গ্রুপকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দ্বিতীয় গ্রুপকে কাজে লাগিয়েছি। এভাবে ৮-১০টি করে গ্রুপ স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। ঘুরে ঘুরে তারাই দায়িত্ব পালন করছে। ফলে জনসাধারণকে ঝুঁকির মুখে না ফেলে দায়িত্ব পালন করে যেতে পারছি আমরা।’

পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে করোনা প্রশ্নে বিএমপির কর্মকাণ্ড এবং সংক্রমণ প্রসঙ্গে খোঁজ নেন। সংক্রমণের শিকার পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি পুলিশ সড়ক পরিবহন সেক্টরে সবরকম চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশনা দেন।

বরিশাল জেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৩২ জনের। এরমধ্যে বরিশাল নগরে রয়েছে ৪১৬ জন। এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৫ জন। মারা গেছেন ৪ জন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত