৪ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
jugantor
সিলেটে করোনা পরিস্থিতি
৪ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

  সিলেট ব্যুরো  

০৬ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইকবাল হোসেন

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেক হাসপাতালই তা মানছে না। সিলেটের চারটি হাসপাতাল ঘুরে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে শুক্রবার মারা গেছেন ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী।

তিনি সিলেট নগরীর কুমার পাড়ার বাসিন্দা। বন্দরবাজারের আরএল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী তিনি। ইকবাল হোসেনের ছেলে তিহাম হোসেন বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। প্রথমেই নগরীর সোবাহানীঘাট এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অক্সিজেন ব্যবস্থার অনুরোধ করলেও কর্তব্যরতরা নিয়মকানুন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে তারা বাবাকে রাখবেন না বলে জানিয়ে দেন। নর্থ-ইস্ট হাসপাতালে নিতে বলেন। পরে বাবাকে দক্ষিণ সুরমার নর্থ-ইস্ট হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের হাসপাতালে সিট নেই। তাই রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। তখন আমরা পরিচিত এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবকিছু বন্ধ পাওয়া যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর এক নিরাপত্তাকর্মী এসে জানান, হাসপাতালের সবাই ঘুমিয়ে রয়েছেন। বাবাকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে বলেন। এরপর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে তারা সিসিইউতে নিয়ে ইসিজি করেন। এরপরই হাসপাতালের ইর্মাজেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে একইভাবে মারা যান দুই নারী। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিলেও কার্যত কিছুই হচ্ছে না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটের সচেতন মহল। জানতে চাইলে শামসুদ্দিন হাসপাতালের আরএমও, সিলেটের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও দুটি পিসিআর ল্যাবের জন্য চিঠি : করোনা পরীক্ষার জন্য সিলেট বিভাগে আরও দুটি পিসিআর ল্যাব চালু দরকার বলে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. ইউনুছুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিদিনই সিলেটে বাড়ছে করোনা টেস্ট। প্রচুর মানুষ নমুনা দিতে আসেন। সিলেটে মাত্র দুটি ল্যাব থাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যকের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করে সিলেট বিভাগে আরও দুটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আক্রান্ত ৯১, মৃত্যু ৩ : বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, সিলেটে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)-এর ১২ সদস্য, পুলিশ, চিকিৎসক ও দুই সাংবাদিকসহ ৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ জন সিলেট জেলার এবং ৩১ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। মারা গেছেন তিনজন।

সিলেটে করোনা পরিস্থিতি

৪ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

 সিলেট ব্যুরো 
০৬ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ইকবাল হোসেন
‌ইকবাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেক হাসপাতালই তা মানছে না। সিলেটের চারটি হাসপাতাল ঘুরে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে শুক্রবার মারা গেছেন ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী।

তিনি সিলেট নগরীর কুমার পাড়ার বাসিন্দা। বন্দরবাজারের আরএল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী তিনি। ইকবাল হোসেনের ছেলে তিহাম হোসেন বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। প্রথমেই নগরীর সোবাহানীঘাট এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অক্সিজেন ব্যবস্থার অনুরোধ করলেও কর্তব্যরতরা নিয়মকানুন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে তারা বাবাকে রাখবেন না বলে জানিয়ে দেন। নর্থ-ইস্ট হাসপাতালে নিতে বলেন। পরে বাবাকে দক্ষিণ সুরমার নর্থ-ইস্ট হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের হাসপাতালে সিট নেই। তাই রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। তখন আমরা পরিচিত এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবকিছু বন্ধ পাওয়া যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর এক নিরাপত্তাকর্মী এসে জানান, হাসপাতালের সবাই ঘুমিয়ে রয়েছেন। বাবাকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে বলেন। এরপর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে তারা সিসিইউতে নিয়ে ইসিজি করেন। এরপরই হাসপাতালের ইর্মাজেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে একইভাবে মারা যান দুই নারী। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিলেও কার্যত কিছুই হচ্ছে না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটের সচেতন মহল। জানতে চাইলে শামসুদ্দিন হাসপাতালের আরএমও, সিলেটের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও দুটি পিসিআর ল্যাবের জন্য চিঠি : করোনা পরীক্ষার জন্য সিলেট বিভাগে আরও দুটি পিসিআর ল্যাব চালু দরকার বলে জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. ইউনুছুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিদিনই সিলেটে বাড়ছে করোনা টেস্ট। প্রচুর মানুষ নমুনা দিতে আসেন। সিলেটে মাত্র দুটি ল্যাব থাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যকের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করে সিলেট বিভাগে আরও দুটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আক্রান্ত ৯১, মৃত্যু ৩ : বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, সিলেটে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)-এর ১২ সদস্য, পুলিশ, চিকিৎসক ও দুই সাংবাদিকসহ ৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ জন সিলেট জেলার এবং ৩১ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। মারা গেছেন তিনজন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস