এইচএসসি পরীক্ষা

প্রশ্নফাঁস রোধে ১১ পদক্ষেপ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মার্চ ২০১৮, ১৮:১২ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্নফাঁস রোধে ১১ পদক্ষেপ

এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে ১১টি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী চিহ্নিত হলে প্রথমে বহিষ্কার করা হবে। এরপর সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে পাঠানো হবে কারাগারে।

এক্ষেত্রে চিহ্নিত অভিভাবকও রেহাই পাবেন না। ফাঁস এবং নকলে সহায়তার দায়ে চিহ্নিত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হবে। এমনকি প্রশ্নফাঁসে কোনো ‘মূল হোতা’ চিহ্নিত হলে ক্রসফায়ার দেয়ার পরিকল্পনাও আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২ এপ্রিল এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে রোববার বিকালে জাতীয় মনিটরিং এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওইসভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগ দেন। তারা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুরক্ষা এবং ফাঁস রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এর জবাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান এবং বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানরাও বক্তৃতা করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে ১১ দফা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর বাইরে পরীক্ষাকালে প্রশ্নফাঁসে জড়ানোর দায়ে কোনো হোতা চিহ্নিত হলে তাকে ‘ক্রসফায়ার’ দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

তবে ‘ক্রসফায়ারের’ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেননি। রোববারের বৈঠকে অবশ্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব পরোক্ষভাবে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস রোধে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এর সঙ্গে কেউ জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনোভাবেই তাকে রেহাই দেয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের ব্যাপারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সবার বিবেককে স্পর্শ করা উচিত।’

মন্ত্রণালয়ের নেয়া ১১টি পদক্ষেপের মধ্যে আছে-

এক.

প্রশ্নফাঁস এবং নকলে সহায়তার দায়ে চিহ্নিত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হবে। এক্ষেত্রে সরকারি কলেজশিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলাসহ নেয়া হবে বিভাগীয় প্রক্রিয়া (ডিপি)।

আর বেসরকারি কলেজশিক্ষকের এমপিও বাতিলসহ চাকরিচ্যুত করা হবে। চাকরিচ্যুতির জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ-মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিকে (জিবি) বলা হবে। তারা ব্যবস্থা না নিলে জিবি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এরপর সেই কমিটির মাধ্যমে চাকরিচ্যুতি নিশ্চিত করা হবে।

দুই.

১৪৪ ধারার মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। শিক্ষক তো নয়ই, কোনো কর্মকর্তাও ১৪৪ ধারার মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না। কারও কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটানোর অপরাধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিন.

দুইয়ের অধিক সেট প্রশ্ন ছাপানো হয়েছে। প্রত্যেকটি সেটই পাঠানো হবে কেন্দ্রে। তবে কোন সেটে পরীক্ষা হবে তা পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এরপর তা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হবে।

চার.

এখন থেকে প্রশ্নপত্র দুই প্যাকেটে যাবে। এর মধ্যে ভেতরের প্যাকেট থাকবে সিলগালা। বাইরের প্যাকেট থাকবে বিশেষ সিকিউরিটি কোডের টেপ লাগানো।

পাঁচ.

এসএসসির মতো এইচএসসিতেও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে হলে প্রবেশ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে পরীক্ষার্থীকে আর কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হবে না।

ছয়.

যদি বিশেষ কারণে কোনো পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেরি হয়, তবে রেজিস্টার খাতায় তার সব তথ্য সংগ্রহ করে তাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে। একাধিক দিন এমন হলে আর তাকে ঢুকতে দেয়া হবে না। এসব তথ্য কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাত.

ট্রেজারি থেকে বের করার পর কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

আট.

পরীক্ষা কেন্দ্রের দূরত্ব অনুযায়ী ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হবে।

নয়.

পরীক্ষাকালীন বিকাশ, রকেটসহ মোবাইল ব্যাংকিং কঠোর নজরদারিতে থাকবে। সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ করে নিকটের থানায় অবহিত করতে হবে। নইলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা।

দশ.

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও থাকবে নজরদারিতে।

এগার.

ট্রেজারি থেকে বের হওয়ার পর প্রশ্নফাঁসের প্রথম উদ্দেশ্য থাকে নকল। উপজেলা সদরের বাইরে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলার কেন্দ্রগুলো এক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ওইসব কেন্দ্রও থাকবে বিশেষ নজরদারিতে।

মন্ত্রণালয়ে সভা : এদিকে মন্ত্রণালয়ের সভায় প্রশ্নপত্র বিতরণ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষাগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো রোধ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়।

এতে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক ও গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, ২ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। চলবে ১৪ মে পর্যন্ত।

ঘটনাপ্রবাহ : এইচএসসি-২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter