কাজল ফকিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ১৬ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড (মাওনা চৌরাস্তা) গ্রামে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, জমি জরবদখল, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনাসহ একাধিক মামলায় কাজল ফকিরের (৫৫) হয়রানির শিকার ব্যক্তিরা বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

কাজল ফকির ওই গ্রামের বারেক ফকিরের ছেলে এবং শ্রীপুর শিল্পাঞ্চল থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে জমি জবরদখলের অভিযোগ করেন ঢাকা উত্তরার বাসিন্দা সৈয়দ হুমায়ুন কবির। গাজীপুরের জয়দেবপুর ও শ্রীপুর থানায় কাজল ফকিরকে অভিযুক্ত করে প্রতারণা, জমি জরবদখল, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনাসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন।

বিভিন্ন মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২৫ মার্চ ভোর ৫টার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় ট্রাকযোগে সহযোগীদের নিয়ে শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে নুরুল ইসলাম তালুকদারের বসতবাড়ি ও প্লাস্টিক কারখানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোরপূর্বক প্রবেশের প্রতিবাদ করায় কাজল ফকির ও তার সহযোগীরা বাড়ির নারী-পুরুষের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা কারখানার মেশিনপত্রসহ আনুমানিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ট্রাকযোগে নিয়ে যায়। তারা বাড়ির যাতায়াতের রাস্তায় টিনের ঘর নির্মাণ করে। শ্রীপুর থানার তৎকালীন এসআই আবু জাফর মোল্লা এ ঘটনায় গাজীপুর আদালতে তদন্তপূর্বক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

ঢাকা উত্তরার সৈয়দ আবুল হোসেনের ছেলে সৈয়দ হুমায়ুন কবির ২০১৭ সালের ৩১ মে কাজল ফকির ও তার সহযোগীদের নামে জয়দেবপুর থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেন। জমি বিক্রির কথা বলে দরদাম সাব্যস্ত করে অভিযুক্তরা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ২ কোটি ও নগদ ৫৫ লাখ টাকা বায়না নেয়। জমি বুঝিয়ে না দিলে সৈয়দ হুমায়ুন কবির তাদের কাছে টাকা ফেরত চায়। ওই পরিস্থিতিতে সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে অভিযুক্তরা হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।

৯ মার্চ সকাল সোয়া ৬টায় সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের মালিকানাধীন শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড (মাওনা চৌরাস্তা) জমিতে সশস্ত্র অবস্থায় কাজল ফকির জোরপূর্বক গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মালিকানা সাইনবোর্ড স্থাপন করে। তারা অফিস গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সিসি ক্যামেরা ভাংচুর, জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন, গেটে তাদের নাম লিখিয়ে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। বাধা দিলে হামলাকারীরা অফিসের লোকদের মারধর করে ম্যানেজার গাফফারের কাছ থেকে নগদ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় কাজল ফকির ও তার সহযোগীরা জমির কেয়ারটেকার কামরুলের মাথায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় ওইদিনই শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করা হয়। শ্রীপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাজেন্দ্রপুর ফরেস্ট ডাকবাংলোর পূর্বপাশে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরকদ্রব্য বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।

ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রীপুর থানা পুলিশ তদন্ত করে তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান। শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, অভিযুক্ত কাজল ফকিরকে অতি সম্প্রতি গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। তার মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটি আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে ও কয়েকটি তদন্তাধীন রয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত