ব্যবসায়ীদের অভিমত

বাজেটে অপ্রাপ্তির পাল্লাই ভারি

কোম্পানির প্রচার ব্যয়ে সীমা বহাল * রাজস্ব কর্মকর্তাদের তল্লাশি ক্ষমতাও রইল * ৫ দিনের মধ্যে বিল অব এন্ট্রি জমা দিতে হবে

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে উদ্যোক্তাদের প্রাপ্তি শুধু কর্পোরেট কর সামান্য ছাড়। অগ্রিম আয়কর ও উৎসে করের কারণে সেখানেও সুফল পাওয়া যাবে না। উল্টো বাজেটে কোম্পানির প্রচার ব্যয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের সীমা কমানোয় কার্যকর করহার বাড়বে। তার ওপর রাজস্ব কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারী তল্লাশি ক্ষমতা বহাল, আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি ৫ দিনের মধ্যে জমার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এসব বিধিবিধান করোনাভাইরাস মহামারীর মতো আপৎকালীনের জন্য তো নয়ই, সাধারণ সময়েই ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা বাড়াবে এবং ব্যয় বৃদ্ধি করবে। প্রকৃতপক্ষে বাজেটে অপ্রাপ্তিই বেশি বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
মঙ্গলবার যুগান্তরের কছে উল্লিখিত মন্তব্য করে তারা আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনা সরকারি ও বেসরকারি খাত- সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ দাঁড় করিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতিকে সচল রাখতে একের পর এক সুচিন্তিত ও প্রাজ্ঞ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ব্যবসা ও উৎপাদনশীল খাতে প্রণোদনা ও সহায়তা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বাজেটে গৃহীত রাজস্ব পদক্ষেপের কারণে সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ল। শুধু রাজস্ব আদায়কে প্রাধান্য দিয়ে বাজেটে নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অর্থনীতি সচল করার কোনো পদক্ষেপ নেই। উল্টো পদে পদে ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করার পদক্ষেপ রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের আরও অভিমত, দুই মাসের বেশি ‘লকডাউন’এর কারণে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোগ-চাহিদা কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা, বিক্রি কমে গেছে। কোনো রকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং নীতিসহায়তামূলক পদক্ষেপ নেয়াটাই প্রয়োজন ছিল। ভোগ-চাহিদা বাড়ানো এবং মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দেয়ার পদক্ষেপ দরকার ছিল। কিন্তু বাজেটে নেয়া পদক্ষেপের কারণে প্রতিষ্ঠানের আয় আরও কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে লোকসান কমাতে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ে মনোযোগী হবে। মানুষের আয় কমে গেলে ভোগ-চাহিদা কমবে। তখন অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে, যা মোকাবেলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বারের (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, সংশোধনীতে আমরা হতাশ। ভ্যাট আপিলের জমা এবং উপকরণ কর রেয়াত ছাড়া ব্যবসায়ীদের কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি, যা এই করোনার সময় সমীচীন হয়নি। তিনি আরও বলেন, এমনিতে ব্যবসার অবস্থা ভালো না। সামনের দিনগুলোয় কী হবে, তা কেউ বলতে পারছে না। কিন্তু ঠিকই অগ্রিম আয়কর ও উৎসে কর কাটা হচ্ছে, যা পরে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আগাম কর আদায় যৌক্তিক নয়।
ফরেন ইনভেস্টর চেম্বারের (ফিকি) সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, বাজেট হতাশ করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যার কথাগুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি; কিন্তু লাভ হয়নি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কোনো সুবিধা দেয়া হয়নি। সাধারণ কোম্পানির কর্পোরেট করে যে ছাড় দেয়া হয়েছে, এরও সুফল পাবে না অন্য সব পদক্ষেপেরে কারণে। দুঃখ লাগে, করোনা মহামারীর এই সময়ে এনবিআর শুধু ট্যাক্স আদায়ের কথা ভেবেছে, ব্যবসার কথা ভাবেনি। অথচ হওয়া উচিত ছিল, ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল করে ট্যাক্স আদায় বাড়ানো। তিনি আরও বলেন, এমনিতে মার্কেটে চাহিদা কমে গেছে। কোম্পানিগুলো টিকে থাকতে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। এতে কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব ফেলবে। এ সময় উচিত ছিল, খরচকে উৎসাহ দেয়া। নতুন চাহিদার সৃষ্টি না হলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে আরও সময় লাগবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের কথা চিন্তা করে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়ন করতে চেয়েছেন। কিন্তু বাজেটে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা ব্যবসায়ী মহল ও জনসাধারণ কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এমনিতেই অভ্যন্তরীণ ভোগ-চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করছে। টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর, অগ্রিম আয়কর আদায় ব্যবসার ওয়ার্কিং ক্যাপিটালকে সংকুচিত করবে। তিনি আরও বলেন, এনবিআরকে কর আদায় বাড়াতে হবে, সেটা আমরাও বুঝি। সেজন্য তো করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। অনলাইনে রিটার্ন জমার পদ্ধতি চালু করতে পারলে কর আদায় বহুগুণ বাড়বে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত