বরিশাল সদর হাসপাতাল

ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে বেহাল চিকিৎসাসেবা

চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের এ মহামারীর সময়ে বরিশাল আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) চিকিৎসাসেবা মিলছে না। এ কারণে জেলার হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। ঘুরছেন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।

করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন না বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। সাংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯ জুন কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের ডার্মাটোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এমদাদুল্লাহ খান মারা যওয়ার পর থেকে চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসতে ভয় পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কক্ষের দরজা বন্ধ। ওয়ার্ডগুলোতেও চিকিৎসক নেই। ওয়ার্ডবয়রা জানান, কোনো কোনো চিকিৎসক এসে কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে হাসপাতালে আসতে পারেননি।

তবে একাধিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ডিউটি করার জন্য যে প্রতিরোধক সামগ্রী (পিপিই) দেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত ও কার্যকর নয়। মাত্র কয়েক দিন আগে চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ডা. এমদাদুল্লাহ খান করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। যে কারণে তাদের পরিবার ভীত হয়ে তাদের কর্মস্থলে আসায় বাধা প্রদান করছে।

জানা যায়, এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন থেকে মেয়ের চিকিৎসা করাতে আসা সোনিয়া আক্তার জানান, তার ১৪ বছরের মেয়ে কয়েক দিন আগে গাছ থেকে পড়ে ব্যথা পেয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখান থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরমর্শ দেয়া হয়। দুই দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

জানা যায়, এ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন ৬০-৭০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিজেদের পরীক্ষাগার না থাকায় এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য নগরীর শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হয়। পরীক্ষাগার না থাকলেও করোনা চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট আছে তাদের। সেখানে বর্তমানে ১১ জন রোগী চিকিৎসারত আছেন।

এ হাসপাতালে কতজন চিকিৎসক কর্মরত ও দৈনিক কতজন চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন- এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসব তথ্য তার জানা নেই। তবে প্রায় সবাই অফিস করেন বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসাইন বলেন, স্থানীয় উদ্যোগে ১৯১২ সালে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৪ সালে বরিশালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন হওয়ার আগপর্যন্ত এ হাসপাতালটিই ছিল বরিশাল অঞ্চলের জনগণের চিকিৎসার প্রধান ভরসা। বর্তমানে ২০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতাল নাম দেয়া হলেও হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার কিছুই নেই।

বরিশাল সদর হাসপাতাল উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি তারিক বিন ইসলাম জানান, বরিশাল জেলার লক্ষাধিক মানুষের ভরসার জায়গা এ হাসপাতাল। কিন্তু চলমান সংকটময় মুহূর্তে এখানকার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার নানা অভিযোগ তার কাছেও এসেছে। হাসপাতালটির চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান থাকবে তারা যেন বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ করেন।

বরিশাল জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য মানুওয়ারুল ইসলাম অলি জানান, হাসপাতালটির পরিষেবাগুলো থমকে যওয়ার পথে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত