দল নিবন্ধন আইনের খসড়া প্রসঙ্গে সুজন

ইসির সিদ্ধান্ত সংবিধানের মূলনীতির অন্তরায়

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনের খসড়ায় দলীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার শর্ত শিথিল করে নির্বাচন কমিশন বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেছে। খসড়ায় যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তাতে নতুন কোনো দল নিবন্ধন পাবে না। নির্বাচন কমিশনের এসব সিদ্ধান্ত সংবিধানের মূলনীতি বা স্পিরিটের অন্তরায়। বৃহস্পতিবার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, বেলার নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনের খসড়ায় যেসব শর্ত রাখা হয়েছে সেগুলো কার স্বার্থে? সেগুলো কি জনগণের স্বার্থে; নাকি রাজনৈতিক দলের স্বার্থে, নাকি কোটারীদের স্বার্থে? রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখা বা নারীর ক্ষমতায়নের বিরোধিতা করে আসছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী।

আর ইসি খসড়া আইনে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার শর্ত শিথিল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক করার কোনো বিধান খসড়া আইনে নেই। এতে নিবন্ধনে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তাতে নতুন কোনো দল নিবন্ধন পাবে না। তিনি বলেন, হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান থাকলেও মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

আসলে ইসি জনস্বার্থে কাজ করছে না। নতুন দল নিবন্ধন শর্তে কড়াকড়ি আরোপের সমালোচনা করে ড. শাহদীন মালিক বলেন, নির্বাচনে সবার গণতান্ত্রিকভাবে অংশগ্রহণ সংবিধানের স্পিরিট। কিন্তু ইসির খসড়া আইন সংবিধানের মূলনীতির অন্তরায়। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের শর্ত শিথিলও সংবিধানের অন্তরায়। তিনি বলেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যদি মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেব। নির্বাচন কমিশন আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমিশন জাতির অগ্রগতির পথে বড় অন্তরায় হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।

সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে ইসি যেসব প্রস্তাব করেছে সেগুলো অগণতান্ত্রিক, অগ্রহণযোগ্য ও সংবিধানবিরোধী। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে জনগণের অধিকার চর্চা সংকুচিত করার উদ্যোগ নিতে পারে, তা পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় আইন পাস হলে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না। দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ইসি রাজনৈতিক দলের কাছে নতজানু মনোভাব দেখাচ্ছে।

২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যেক স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিধান এমনভাবে শিথিল করা হয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নের পথ বাধাগ্রস্ত করবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে দুই বছর সময় বাড়িয়ে দিতে পারত। কিন্তু তা না করে নতজানু মনোভাব দেখিয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে এমন শর্ত দেয়া হয়েছে যে নতুন কেউ নিবন্ধন পাবে না। এসব শর্ত শিথিল করা উচিত।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ : এদিকে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ রাজনৈতিক দলের প্রত্যেক স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার সময়সীমা বেঁধে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। খসড়া আইনে ‘মহিলা’ শব্দ ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে ‘নারী’ শব্দ ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে শর্ত আরোপের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গ নারী, জাতিগত, ধর্মীয় ও অন্যান্য সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর অধিকারবিরোধী ঘৃণ্য বক্তব্য রাখলে নিবন্ধন বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে নারী প্রগতি সংঘ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত