মিয়ানমারে জেড খনি ধসে ১১৩ শ্রমিক নিহত

  যুগান্তর ডেস্ক ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে একটি জেড পাথরের খনিতে ভূমি ধসে ১১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কাচিন রাজ্যের জেড সমৃদ্ধ হপাকান্ত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারি বর্ষণের কারণে ভূমি ধস হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফায়ার সার্ভিস দফতর। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

ওপেন পিট পদ্ধতিতে খোঁড়া এসব খনিতে রত্নপাথর খোঁজার সময় মাটি, কাদা ও খনি বর্জ্য সরিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়, যাকে বলে টেইলিং। ভারি বর্ষণের মধ্যে শ্রমিকরা পাথর সংগ্রহ করার সময় আড়াইশ’ ফুট উঁচু বিশাল এক কাদার স্তূপ ধসে পড়ে। ফলে খনিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে জল-কাদার বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয় এবং বহু শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন।

অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছে জানিয়ে মিয়ানমারের মন্ত্রী উ তিন সোয়ে জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তা তারলিন মাউং জানান, শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও মৃতদেহ কাদার নিচে চাপা পড়ে আছে।

৩৮ বছর বয়সী খনি শ্রমিক মাউং খাইং বলেছেন, দৌড়াও, দৌড়াও চিৎকার শুনলাম। এক মিনিটের মধ্যে পাহাড়ের নিচে থাকা সবাই গায়েব হয়ে গেল। অনেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল, কিন্তু কেউ তাদের সাহায্য করতে পারেনি। ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, একটি অনুসন্ধানকারী ও উদ্ধারকারী দল উপত্যকা দিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।

বিশ্বে সবুজ রংয়ের প্রায়-স্বচ্ছ রত্ন পাথর জেডের সবচেয়ে বড় উৎস মিয়ানমার। সেখানে উত্তোলিত জেড পাথরের বেশির ভাগই প্রতিবেশী দেশ চীনে রফতানি হয়। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন প্রদেশ আর হপাকান্ত জেডের খনির জন্য বিখ্যাত। সরকারের কার্যকর তদারকি না থাকায় মে থেকে অক্টোবরে বৃষ্টির মৌসুমে ওই এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই হয়ে থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবুজ রত্নখচিত পাথর তুলতে যান হতদরিদ্র শ্রমিকরা। গত বছর এপ্রিলে হপাকান্তের খনি এলাকার একটি পুকুরের উঁচু পাড় ধসে ৫৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত