করোনার ধাক্কায় কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে ৫০%

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ধাক্কায় মাত্র তিন মাসে ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত থাকায় ঋণের আবেদনই করতে পারেননি কৃষকরা। তবে স্বল্প পরিসরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কিছু ঋণ বিতরণ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালীন ব্যাংকিং সীমিত ছিল। ফলে অন্য ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। তবে এখন সব ব্যাংক ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী হোসেন প্রধানিয়া যুগান্তরকে বলেন, সীমিত ব্যাংকিংয়ের কারণে কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। করোনার কারণে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক কাঙ্ক্ষিত ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। তবে এ সময়েও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক তার নির্ধারিত লক্ষ্য ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চে কৃষি খাতে ৩ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো, যা আগের বছরের মার্চের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। গত বছরের এই মাসে ৬ হাজার ২২২ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। পরের মাস এপ্রিলে কৃষিঋণ বিতরণে ধস নামে।

এপ্রিলে মাত্র ৪৯৬ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। আগের বছর একই সময় ঋণ দেয় ২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এপ্রিলে ঋণ বিতরণ কমে প্রায় ৭৯ শতাংশ। এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে ঋণ বিতরণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। তবে তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কম।

আগের বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ১ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে। সব মিলিয়ে লকডাউনের তিন মাসে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। আগের বছরের এই তিন মাসে ঋণ দেয় ১০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ঋণ বিতরণ কমেছে ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। কিন্তু ১১ মাসে (জুলাই-মে) পর্যন্ত বিতরণ করেছে ১৮ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এক মাসে ৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করতে হবে। এছাড়া আগের বছরের আলোচ্য ১১ মাসে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ দেয় ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে ঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ।

জানা গেছে, এই লকডাউনের পুরোটাই সচল ছিল কৃষি খাত। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় সংকটের সময় কৃষি খাতকে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে নেয়া হবে। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

কৃষি খাতে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির জন্য আগামী ১ বছর সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার। কৃষকদের ১ এপ্রিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। আর ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে সরকার। এছাড়া কৃষি খাতে ঋণের অন্তত ৬০ শতাংশ শস্য খাতে দিতে হবে। কিন্তু সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী কৃষকদের সেবা দিতে এগিয়ে আসেনি ব্যাংকগুলো। সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা ছিল শুধু শহরাঞ্চলে।

উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রায় সব ব্যাংকের শাখা বন্ধ ছিল। সংকটের সময় ঋণ পাচ্ছেন না কৃষকরা। নতুন ফসল আবাদে ঋণের জন্য আবেদনই করতে পারেননি তারা। এদিকে লকডাউনে শাখা বন্ধ থাকায় কৃষিঋণের আদায়ও অনেক কমে গেছে। এপ্রিলে আদায় হয়েছে মাত্র ৭৬৭ কোটি টাকা। আগের বছরে এই মাসে আদায় হয়েছিল ১ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। মে মাসে আদায় আরও কমে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকায় নেমে আসে।

আগের বছরের মে মাসে আদায় হয় ১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। এগারো মাসে আদায় ২০ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা থেকে কমে ১৮ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। সামগ্রিকভাবে আদায় কার্যক্রম কমেছে সাড়ে ১১ শতাংশ।

তবে এপ্রিল ও মে মাসে আদায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম স্বাভাবিক ধারায় ছিল। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি- এই নয় মাসে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ হয় ১৫ হাজার ৯২ কোটি। আগের বছর ছিল ১৪ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। কৃষি ঋণ বৃদ্ধি পায় ৭ শতাংশ। অন্যদিকে আদায়ের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩২১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৫ হাজার ৫০৮ কোটি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত