রামেকে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা
jugantor
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অঘোষিত ধর্মঘট
রামেকে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অঘোষিত ধর্মঘটে রয়েছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ আট দফা দাবিতে ২৮ জুন থেকে তারা দায়িত্ব পালন করছেন না। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতারা বলছেন, তাদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত। কারও কারও করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এছাড়া তাদেরকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না। প্রতিনিয়তই তারা আক্রান্তের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে নিয়মিত কাজে যোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালের অন্তত ১৫টি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের ভোগান্তি। করোনা আতঙ্কের কারণে ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর উপস্থিতি কম। কিন্তু যারা বাধ্য হয়ে হাসপাতালে আসছেন, তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থোপেডিক (এক নম্বর ওয়ার্ড) বিভাগে চিকিৎসাধীন তানোর উপজেলা সদরের এক যুবক বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমার বাম পা ভেঙে গেছে। তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছি না। বাইরের ক্লিনিকগুলোতেও ডাক্তাররা ঠিকভাবে বসছেন না। ফলে সেখানেও চিকিৎসা নিতে পারছি না। এ কারণে শারীরিকভাবে খুব কষ্টে আছি।

একই ধরনের কথা জানিয়েছেন নিউরো মেডিসিন (ওয়ার্ড-৭), শিশু (ওয়ার্ড-১০), গাইনি (২২), মেডিসিন (১৪), কিডনি (ওয়ার্ড-২০/১১) এবং কার্ডিওলোজি (ওয়ার্ড-৩২) বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের আট দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সংক্রমিত হওয়ার পর প্রত্যেক ইন্টার্ন চিকিৎসকের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা প্রদান, মানসম্মত থাকার জায়গা, মানসম্পন্ন খাবার, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রয়োজনবোধে হাই ফ্লো অক্সিজেন থেরাপি (এইচএফওটি) ও আইসিইউ সাপোর্টের নিশ্চয়তা। এছাড়া রয়েছে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান এবং সাত দিন দায়িত্ব পালনের পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন থাকার ব্যবস্থা করা।

রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনন দাস বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫৫ এবং ৫৬ ব্যাচের প্রায় দু’শ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু চার মাসেও চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করেনি। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান করোনা আক্রান্ত। আমাদের আরও ১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া কমপক্ষে ২০ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। এ কারণে আমরা রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সুরক্ষাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছি। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ আগামী দু’একদিনের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেবে। আমরা অচিরেই কাজ শুরু করব।

সার্বিক বিষয়ে রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনেকেই করোনা আক্রান্ত। এর ফলে তারা দায়িত্ব পালন করছেন না। এ কারণে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তারা কিছু দাবি জানিয়েছেন। আমরা সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই তারা কাজে ফিরবেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অঘোষিত ধর্মঘট

রামেকে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৪ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অঘোষিত ধর্মঘটে রয়েছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ আট দফা দাবিতে ২৮ জুন থেকে তারা দায়িত্ব পালন করছেন না। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতারা বলছেন, তাদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত। কারও কারও করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এছাড়া তাদেরকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না। প্রতিনিয়তই তারা আক্রান্তের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে নিয়মিত কাজে যোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালের অন্তত ১৫টি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের ভোগান্তি। করোনা আতঙ্কের কারণে ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর উপস্থিতি কম। কিন্তু যারা বাধ্য হয়ে হাসপাতালে আসছেন, তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থোপেডিক (এক নম্বর ওয়ার্ড) বিভাগে চিকিৎসাধীন তানোর উপজেলা সদরের এক যুবক বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমার বাম পা ভেঙে গেছে। তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছি না। বাইরের ক্লিনিকগুলোতেও ডাক্তাররা ঠিকভাবে বসছেন না। ফলে সেখানেও চিকিৎসা নিতে পারছি না। এ কারণে শারীরিকভাবে খুব কষ্টে আছি।

একই ধরনের কথা জানিয়েছেন নিউরো মেডিসিন (ওয়ার্ড-৭), শিশু (ওয়ার্ড-১০), গাইনি (২২), মেডিসিন (১৪), কিডনি (ওয়ার্ড-২০/১১) এবং কার্ডিওলোজি (ওয়ার্ড-৩২) বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের আট দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সংক্রমিত হওয়ার পর প্রত্যেক ইন্টার্ন চিকিৎসকের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা প্রদান, মানসম্মত থাকার জায়গা, মানসম্পন্ন খাবার, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রয়োজনবোধে হাই ফ্লো অক্সিজেন থেরাপি (এইচএফওটি) ও আইসিইউ সাপোর্টের নিশ্চয়তা। এছাড়া রয়েছে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান এবং সাত দিন দায়িত্ব পালনের পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন থাকার ব্যবস্থা করা।

রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনন দাস বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫৫ এবং ৫৬ ব্যাচের প্রায় দু’শ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু চার মাসেও চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করেনি। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান করোনা আক্রান্ত। আমাদের আরও ১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া কমপক্ষে ২০ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। এ কারণে আমরা রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সুরক্ষাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছি। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ আগামী দু’একদিনের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেবে। আমরা অচিরেই কাজ শুরু করব।

সার্বিক বিষয়ে রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনেকেই করোনা আক্রান্ত। এর ফলে তারা দায়িত্ব পালন করছেন না। এ কারণে চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তারা কিছু দাবি জানিয়েছেন। আমরা সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই তারা কাজে ফিরবেন।