দু’সপ্তাহের মধ্যেই মিলবে কার্যকর টিকার খোঁজ
jugantor
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
দু’সপ্তাহের মধ্যেই মিলবে কার্যকর টিকার খোঁজ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর সম্ভাব্য কোন টিকা কার্যকর, তা দুই সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম। শুক্রবার এ তথ্য দেন তিনি। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সংস্থাটির স্পেশাল এনভয় ড. ডেভিড নাবারো জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের কাক্সিক্ষত ভ্যাকসিন (টিকা) হাতে পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত আড়াই বছর।

এদিকে ব্রাজিল সরকার সেদেশে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের তৈরি করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশেও সিনোভ্যাক তাদের ট্রায়াল চালাতে পারে। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম জানান, বিশ্বজুড়ে ৩৯টি দেশ থেকে ৫৫০০ জন রোগীকে এরই মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় পরীক্ষায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে কোন ভ্যাকসিন কার্যকর। আশা করা হচ্ছে, ইতিবাচক ফলই আসবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশগুলোকে দ্বন্দ্বের পরিবর্তে বাস্তবতার নিরিখে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব দেশকে জেগে ওঠার কথা বলেছে। ডব্লিউএইচওর জরুরি অবস্থার পরিচালক মাইকেল রায়ান সাংবাদিকদের বলেন, মানুষকে জেগে উঠতে হবে। তথ্য মিথ্যা নয়। বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মিথ্যা নয়।

এর আগে প্রথমদিকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছিল বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি নিয়মিত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন খাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েছে, করোনা রোগীকে সুস্থ করতে এর কোনো প্রভাব নেই। বরং এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীনকে অনুমতি দিল ব্রাজিল : চীনের রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সিনোভ্যাকের তৈরি করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিন ব্রাজিলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি পেয়েছে। শুক্রবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আনভিসা এ অনুমোদন দেয়। ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যের সরকারি গবেষণা কেন্দ্র ইনস্টিটিউট বুটান্টানের নেতৃত্বে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা হবে। ১১ জুন এ ব্যাপারে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। চুক্তি অনযায়ী, করোনার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনের শুধু পরীক্ষাই নয়, বরং সফল হলে ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদন কাজেও প্রযুক্তিগত সহায়তা করবে চীন। ২৯ জুন সাও পাওলো রাজ্যের গভর্নর জোয়াও ডোরিয়া বলেন, কোভিড-১৯ এর এই ভ্যাকসিনটির পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধন করেছেন। ব্রাজিলের ছয়টি রাজ্যের অন্তত ১২টি গবেষণা কেন্দ্র ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই রাজ্যগুলো হল- সাও পাওলো, রিও ডি জেনেরিও, মিনাস গেরাইস, ব্রাসিলিয়া, রিও গ্রান্ডে ডো সুল ও পারানা।

বাংলাদেশেও পরীক্ষা চালাবে চীনের সিনোভ্যাক : সিনোভ্যাক বাংলাদেশের করোনা রোগীদের ওপর টিকার ট্রায়াল চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিডিডিআর,বি’র বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই ৪ হাজার মানুষের ওপর সিনোভ্যাকের টিকার ট্রায়াল শুরু হবে। মূলত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে রাজি হতে পারে। কারণ, এই ট্রায়ালে চীন সফল হলে করোনার টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে আইসিডিডিআর,বি’র এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, বাংলাদেশ কেবল চীনের সিনোভ্যাকই নয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি টিকার ট্রায়ালের জন্যও আগ্রহী। মূলত চীনের করোনাভাইরাসের টিকার ট্রায়াল দিয়ে এই টিকা দেশে কীভাবে তৈরি করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দু’সপ্তাহের মধ্যেই মিলবে কার্যকর টিকার খোঁজ

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর সম্ভাব্য কোন টিকা কার্যকর, তা দুই সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম। শুক্রবার এ তথ্য দেন তিনি। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সংস্থাটির স্পেশাল এনভয় ড. ডেভিড নাবারো জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসের কাক্সিক্ষত ভ্যাকসিন (টিকা) হাতে পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত আড়াই বছর।

এদিকে ব্রাজিল সরকার সেদেশে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের তৈরি করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশেও সিনোভ্যাক তাদের ট্রায়াল চালাতে পারে। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম জানান, বিশ্বজুড়ে ৩৯টি দেশ থেকে ৫৫০০ জন রোগীকে এরই মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় পরীক্ষায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে কোন ভ্যাকসিন কার্যকর। আশা করা হচ্ছে, ইতিবাচক ফলই আসবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশগুলোকে দ্বন্দ্বের পরিবর্তে বাস্তবতার নিরিখে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব দেশকে জেগে ওঠার কথা বলেছে। ডব্লিউএইচওর জরুরি অবস্থার পরিচালক মাইকেল রায়ান সাংবাদিকদের বলেন, মানুষকে জেগে উঠতে হবে। তথ্য মিথ্যা নয়। বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মিথ্যা নয়।

এর আগে প্রথমদিকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছিল বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি নিয়মিত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন খাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েছে, করোনা রোগীকে সুস্থ করতে এর কোনো প্রভাব নেই। বরং এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীনকে অনুমতি দিল ব্রাজিল : চীনের রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সিনোভ্যাকের তৈরি করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিন ব্রাজিলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি পেয়েছে। শুক্রবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আনভিসা এ অনুমোদন দেয়। ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যের সরকারি গবেষণা কেন্দ্র ইনস্টিটিউট বুটান্টানের নেতৃত্বে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা হবে। ১১ জুন এ ব্যাপারে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। চুক্তি অনযায়ী, করোনার সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনের শুধু পরীক্ষাই নয়, বরং সফল হলে ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদন কাজেও প্রযুক্তিগত সহায়তা করবে চীন। ২৯ জুন সাও পাওলো রাজ্যের গভর্নর জোয়াও ডোরিয়া বলেন, কোভিড-১৯ এর এই ভ্যাকসিনটির পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধন করেছেন। ব্রাজিলের ছয়টি রাজ্যের অন্তত ১২টি গবেষণা কেন্দ্র ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই রাজ্যগুলো হল- সাও পাওলো, রিও ডি জেনেরিও, মিনাস গেরাইস, ব্রাসিলিয়া, রিও গ্রান্ডে ডো সুল ও পারানা।

বাংলাদেশেও পরীক্ষা চালাবে চীনের সিনোভ্যাক : সিনোভ্যাক বাংলাদেশের করোনা রোগীদের ওপর টিকার ট্রায়াল চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিডিডিআর,বি’র বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই ৪ হাজার মানুষের ওপর সিনোভ্যাকের টিকার ট্রায়াল শুরু হবে। মূলত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে রাজি হতে পারে। কারণ, এই ট্রায়ালে চীন সফল হলে করোনার টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে আইসিডিডিআর,বি’র এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, বাংলাদেশ কেবল চীনের সিনোভ্যাকই নয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি টিকার ট্রায়ালের জন্যও আগ্রহী। মূলত চীনের করোনাভাইরাসের টিকার ট্রায়াল দিয়ে এই টিকা দেশে কীভাবে তৈরি করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ।