চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলোড়ন

থানায় আসামির মৃত্যু পুলিশেই ভিন্ন বক্তব্য

  মনোয়ার হোসেন জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় রিমান্ডে আসামির মৃত্যু নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। থানা হেফাজতে পৌর এলাকার টিকরামপুর মধ্যপাড়ার মহসীন আলীর ছেলে আফসার আলীর (৩৫) মৃত্যুর পর ওসির দাবি এটা স্বাভাবিক মৃত্যু।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেছেন, বাথরুমে ঢুকে সে গলার তার প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ডাক্তার বলেছেন, হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ পর বুকের ব্যথায় মারা গেছেন আফসার।

তবে নিহতের স্ত্রী বলেছেন, আফসারকে খুন করা হয়েছে। তবে রাতে হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তার প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যার কোনো চিহ্ন লাশের গলায় দেখা যায়নি। যার ভিডিও ফুটেজ যুগান্তরের হাতে রয়েছে। সোমবার রাত ৮টায় আফসারের মৃত্যু নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেয়ায় এ নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

রোববার সদর উপজেলার সুন্দরপুর বাগডাঙ্গা শুকনাপাড়া এলাকা থেকে ১ কেজি ১৯৫ গ্রাম হেরোইনসহ আফসার আলীকে আটক করে র‌্যাব। সদর থানায় মামলার পর সোমবার ১ দিনের রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। খবর পেয়ে রাত ১টায় রাজারামপুরে আফসার আলীর ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। নিহতের ২ শিশু তিশা-দিশার কান্নায় বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠছিল।

কাঁদতে কাঁদতে আফসারের স্ত্রী জুলেখা বেগম বলেছেন, অভাবের সংসারে মনোমালিন্য চলছিল তাদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত কয়েক দিনের অভুক্ত স্বামী শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান, আর ফেরেননি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিলেও তার খবর পাইনি। সোমবার সকালে জানতে পারি থানায় আটক আছেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, অভাব-অনটনের সুযোগে সোর্স ওয়াসিম আর মোহন তার স্বামীকে কৌশলে মাদক ধরিয়ে দিয়েছে। পরে সে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে। সোমবার থানায় দেখা করতে গেলে সন্তানদের সামনেই হাতকড়া পরা অবস্থায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে মারধর করছিল। তিনি দাবি করেন, পুলিশই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈদুল ইসলাম জানান, আফসার আলী কর্মঠ আর নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।

রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যার কোনো কারণ দেখি না। সকালে তো তার স্ত্রী তাকে দেখে এসেছেন। তাছাড়া থানা হেফাজতে কিভাবে ফাঁসি দিল বা ফাঁসি দেয়ার পজিশন কোথায় পেল? সেটাই এখন ভাববার বিষয়। সে যে গ্রেফতার হয়েছে সেটিও আমি জানতাম না।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানা থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এদিকে কর্তব্যরত চিকিৎক ডা. রুহানী আখতার জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। গলায় তার প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এমন তো না, এ ব্যাপরে আমি কিছু জানি না। বুকের ব্যথাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

সদর থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিমান্ডে তাকে থানায় আনা হলে সে অসুস্থ বোধ করে। তারপরই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রিমান্ডে এনে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এটা সঠিক নয়, আমাদের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ আছে আপনারা দেখতে পারেন।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি থানায় সাংবাদিকদের জানান, থানা হাজতের বারান্দায় স্ট্যান্ড ফ্যান ছিল। সেটির তার ছিড়ে বাথরুমে গিয়ে প্লাস্টিকের পাইপের সঙ্গে ঝুলে সে আত্মহত্যা করেছে। সিসি ক্যামেরার মনিটরে দেখতে পেয়ে ডিউটি অফিসার তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় সাংবাদিকরা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ এবং ঘটনাস্থল দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত