রিজেন্ট মালিকের অপকর্ম সরকারের মদদে: ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের মদদেই রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক নানা অপকর্ম করেছে। হাসপাতালটি করোনা পরীক্ষায় মিথ্যা সার্টিফিকেট দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আর ওই ব্যক্তির সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওঠাবসা ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন : করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের আবারও সংবিধানবিরোধী পদক্ষেপ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন। এতে আলোচকরা নিজ নিজ বাসা থেকে যুক্ত হন।

মির্জা ফখরুল বলেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে সরকারের যে ভূমিকা তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। সকালে উঠে শুনতে হয় মৃত্যুর খবর। আবার রাতে ঘুমানোর আগেও শুনতে হয় মৃত্যুর খবর। চরম উদাসীনতা ও অবহেলার মধ্য দিয়ে সরকার মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে- এটা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, জনগণের অধিকারকে রক্ষা করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে একটা জায়গায় আসতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শুদ্ধ করে আনার জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তুলতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে চলে যেতে হবে সে দাবিও তুলতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার উদ্দেশ্য হল- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনা। আসুন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি। জনগণের কাছে আমাদের যে কমিটমেন্ট আছে তা নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। যেন নির্বাচন কমিশন নতুন করে গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারি।

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা এবং তাদের ক্ষমতায় রাখার প্রক্রিয়াটি এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকার থেকে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে, রাজনৈতিক দলগুলোকে একেবারে অকার্যকর করে। এখনও পরিকল্পিতভাবে সচেতনতার সঙ্গে সেই কাজ চলছে। সংবিধান থেকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে এখন বড় ক্রাইসিস চলছে। এক কোটি থেকে আরও বেশি লোক দরিদ্র হয়ে গেছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। প্রতিদিন দৃশ্যমান ন্যূনতম ১০-২০ পরিবার ঢাকা থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। এদের সেভ করা হবে কীভাবে? সরকারের কোনো প্ল্যান নেই।

তিনি বলেন, ওই যে বলত না- আকাশ দিয়ে উড়ে গেলে নিচে ঢাকার দিকে তাকালে লস এঞ্জেলসের মতো শহর মনে হয়। সব উন্মাদ, কতগুলো ফোরটোয়েন্টি ভদ্রলোক মন্ত্রী হয়েছেন এবং উনারা একটার পর একটা কথা বলে যাচ্ছেন। এখন দেখা যাচ্ছে- সরকারের কাছে কোনো টাকাই নেই। সরকার টাকার জন্য কী করছে? প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, দেখেন তো ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ থেকে নেয়া যায় কিনা। ক্যান ইউ ইমাজিন, দেশ কত বড় ক্রাইসিসে পড়লে ফরেন রিজার্ভে হাত দিতে চায়।

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ওই লোকটা আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট। সে রীতিমতো গানম্যানসহ পুলিশ প্রটেকশন পেত। সরকার তাকে তৈরি করেছে। এরকম একটা দুইটা নয়, অনেকেই আছেন। মানুষের যখন মৃত্যুর আহজারি, ক্ষুধার্তের আর্তনাদ, সেই সময়ে মানবতার সঙ্গে এতবড় বেইমানি করার দল পৃথিবীতে বেশি নেই।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপনের পরিচালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব আবদুর রশিদ সরকার।

বিএনপিশূন্য করাই আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে সরকার। দেশকে বিএনপিশূন্য করাই যেন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এ জন্য যে, সরকারি অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টুঁ শব্দ না করতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানান বিএনপির মহাসচিব। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

ছাত্রদল নেতা টিটু হায়দারকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ : এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, নোয়াখালী জেলাধীন চন্দ্রগঞ্জ আলাইয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা টিটু হায়দারকে গত মঙ্গলবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এখনও তার কোনো হদিস দিচ্ছে না। তার পরিবার ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাকে ক্রসফায়ারে দেয় কি না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অবিলম্বে টিটু হায়দারকে জনসমক্ষে হাজির করে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত