খালেদা জিয়ার এখন বিদেশে চিকিৎসাই বেশি প্রয়োজন

-মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবাই জানেন মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ছয় মাস সাজা স্থগিত করে বাসায় রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে- তিনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। অথচ এখন বিদেশে তার চিকিৎসাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিলেটে ‘এমএ হক স্বাস্থ্যসেবা’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

সরকারের দুর্নীতির কারণেই করোনাভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের চরম অবহেলা, অবজ্ঞা এবং চুরির কারণে আজ করোনা পরিস্থিতি এ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। হজ ক্যাম্পে আইসোলেশনে থাকা প্রবাসীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে বিদেশ থেকে যারা ফেরত আসছেন তাদের স্ক্যানিং করা হচ্ছে, টেস্ট করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যেখানে সবাই করোনামুক্ত। অথচ এক সাংবাদিক (বিবিসি বাংলা) সেই হজ ক্যাম্পের একজনকে (যাত্রী) জিজ্ঞাসা করেছেন। জবাবে তিনি (যাত্রী) বলেছেন- কোনো স্ক্যানিং করা হয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কতটা দায়িত্বহীন এবং সরকার কতটা উদাসীন হতে পারে এটি তার বড় প্রমাণ। হাজার হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর, লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর যখন একেবারে জীবন-জীবিকা ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে সেই সময়েও তারা ন্যূনতম দায়িত্বটুকু পালন করছে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকার কোনো দরকার নেই। আমাদের নিজেদেরই চেষ্টা করতে হবে বাঁচার জন্য এবং যেন এটা (করোনাভাইরাস) না ছড়ায়। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে এ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই, জনগণের জীবন-জীবিকার প্রতি তাদের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। এ কারণে তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বাংলাদেশের অগণিত মানুষ করোনা থেকে রক্ষা পাবে না।

রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট সরবরাহ প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তো একদিকে জীবনের প্রশ্ন, মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যের সমস্যা। এর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে এ সরকারের। কারণ, এ সরকারের সব মন্ত্রী, দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান মো. সাহেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্ক রয়েছে। এটা একটা না, এমন বহু ঘটনা আছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন মিঠু। বলা হচ্ছে তিনি নাকি গোটা স্বাস্থ্য অধিদফতরকে গিলে ফেলেছেন।

বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, এখন বাংলাদেশ থেকে কোনো মানুষের বিদেশে যাওয়া বন্ধ হতে যাচ্ছে। সব এয়ারলাইন্স বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এটা বড় রকমের একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে অর্থনীতিতে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য আমাদের সবাইকে একদিকে যেমন করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে, অন্যদিকে আমাদের অধিকার, জনগণের অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ ও পরিচালনায় নেতাকর্মীরা সারা দেশে অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে বলেও জানান ফখরুল।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত এমএ হকের স্মরণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ৩ জুলাই চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জেলার সাবেক সভাপতি এমএ হক মারা যান। সিলেট জেলা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ডা. শামীমুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কয়েস লোদীর পরিচালনায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হাসান জীবন, কলিম উদ্দিন মিলন, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা সভাপতি আলী আহমদ, প্রয়াত এমএ হকের ছেলে ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক প্রমুখ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত