পূর্বাঞ্চলের দুই জেলায় ফের বন্যা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নাটোরে আবারও বন্যা শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যা শুরু হতে পারে। সুরমা, যদুকাটা ও গুর নদীর পানি বেড়ে এ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, তিস্তা, ধরলা ও আপার মেঘনা অববাহিকার নদীসমূহের পানি বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের আরও কিছু জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি হ্রাস পাচ্ছে। দেশের মধ্যাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

২৭ জুন থেকে চলা বন্যার এখনও বেশকিছু জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে আছে। নদ-নদীগুলোও পানিতে ভরপুর। এ অবস্থায় নতুন পানি দ্রুতই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন বন্যা বিশেষজ্ঞরা। এতে উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের অন্তত ২৩টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। প্রথম দফা বন্যায় রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও সচল হয়নি।

বন্যার পানিতে মাঠ ও গোচারণ ভূমির ঘাস মরে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন কৃষিজীবীরা। বানভাসিরাও অন্তহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। আমনের বীজতলা আবারও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক দিশেহারা। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বর্গাচাষিরা চড়া সুদে আনা দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধের চিন্তায় চোখে সর্ষেফুল দেখছেন।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা অববাহিকায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। ১৮ জুলাই পর্যন্ত ১০ দিনের পূর্বাভাসে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অন্তত দেড় হাজার ও মেঘনা অববাহিকায় ৫-৭শ’ মিলিমিটার বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পূর্বাভাস সঠিক হলে অন্তত ২১ থেকে ২৮ দিনের জন্য বন্যার কবলে পড়বে দেশ। যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার : সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। মেঘালয়ে তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদীগুলোতে পানি বেড়ে তা সুরমায় প্রবেশ করছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আবারও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নবীনগর এলাকার বাসিন্দা সালেহীন বলেন, রাতে একটানা বৃষ্টি হয়েছে, শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রাস্তায় পানি চলে এসেছে, যদি এ রকম বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে আবার ঘরে পানি উঠবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করার সপ্তাহকাল না পেরোতেই আবারও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেরপুর : শেরপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র সেতু পয়েন্টে আরও ২২ সেন্টিমিটার কমেছে। অব্যাহতভাবে পানি কমতে থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারীর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার জাফর মিয়া শুক্রবার সকালে বলেন, নদীতীরবর্তী কুলুরচর-বেপারীপাড়া গ্রামের নিম্নাঞ্চলের বাড়ি-ঘর থেকে এখনও পানি না নেমে যাওয়ায় বাঁধে ও রাস্তার পাশে আশ্রয় নেয়া ওই গ্রামের ৭২টি পরিবার বাড়ি-ঘরে ফিরতে পারছে না।

বাঘা (রাজশাহী) : পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙছে পদ্মার পাড়। মাটি ধসে পড়ে দীর্ঘ হচ্ছে ভাঙনের চিত্র। প্রায় দুই কিলেমিটার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর জমিসহ গাছপালা, ঘরবাড়ি। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যে কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের অর্ধশতাধিক মানুষ আশ্রয় হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। হুমকিতে রয়েছে আরও শতাধিক বাড়ি।

৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার শিকদার বলেন, আমার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া আমার নির্বাচনী ওয়ার্ডের কোনো চিহ্ন নেই। এ ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক পরিবার দুই বছরের ব্যবধানে অন্যত্র চলে গেছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে করোনা ও বন্যায় চরম ভোগান্তিতে দিন কাটছে গর্ভবতী মা ও সদ্যনবজাতক শিশুদের। দুটি দুর্যোগের কারণে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের সংকটের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়েছেন তারা। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোক্তার আলী বলেন, শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার একটি বড় কারণ অপুষ্টিতে ভোগা। এ কারণে এদের মৃত্যুঝুঁকিও বেশি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশুদের চাহিদামাফিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এমএ মতিন বলেন, গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশুর চিকিৎসা এবং তাদের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর রয়েছে। এমন দুর্ভোগের কথা জানতে পারলে সেগুলো নিশ্চিত করার ব্যাপারে আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য।

ডিমলা (নীলফামারী) : ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুরের পর থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকাল ৬টায় তা বৃদ্ধি হয়ে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিস্তার নিম্নাঞ্চলে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত