চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চার পুলিশসহ আহত ১৫

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চমেক হাসপাতাল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে নওফেলের অনুসারীরা হচ্ছেন- অভিজিৎ দাশ, খোরশেদ বিন মেহেদী, ইমন সিকদার, ফাহাদুল ইসলাম, হোজাইফা বিন কবির, কনক দেবনাথ ও সাজেদুল ইসলাম হৃদয়। সিটি মেয়রের অনুসারীরা হচ্ছেন- ডা. ফয়সাল আহমেদ, সানি হাসনাত, ডা. মাসুম বিল্লাহ মাহিন, মাহতাব বিন হাসিম ও ডা. নুর মোহাম্মদ তানজিম। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয়েছেন চার পুলিশ কর্মকর্তা। তারা হলেন, হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল হক ভূঁইয়া, পঁাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবু তালেব, এসআই আলমগীর ও এএসআই জাহাঙ্গীর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ সময় তার সঙ্গে মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীও ছিলেন। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় নওফেলের অনুসারীরা তার নামে স্লোগান দিতে থাকেন। একইভাবে সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীও স্লোগান দেন নাছিরের নামে। পাল্টাপাল্টি স্লোগানকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ছাত্রলীগ কর্মীরা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর স্বজনরা ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত অভিজিত দাশ যুগান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের একটি অংশ বহিরাগতদের নিয়ে অতর্কিত আমাদের ওপর হামলা করেছে। যাতে নওফেল সাহেবের অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।’ তবে নাছিরের অনুসারীরা বলছেন, বেশ কিছু দিন ধরেই নওফেলের অনুসারী কিছু ছাত্রলীগ কর্মী বহিরাগতদের নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। নওফেলের উপস্থিতিতেই তাদের (নাছির অনুসারীদের) ওপর হামলা করলে তারা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে চার পুলিশসহ ১৫-১৬ জন সামান্য আহত হয়েছেন। এখন কিছুটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দীর্ঘদিন আ জ ম নাছির অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এক সময় শিবিরের আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে তাদের বিতাড়িত করে আ জ ম নাছির অনুসারীরা একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রয়াত সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর তার অনুসারীরা মেডিকল কলেজে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণেই মাঝে-মধ্যে দু’গ্রুপে সংঘাত-সংঘর্ষ হয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত