জিনের গঠন বদলে আরও ভয়ংকর হচ্ছে করোনা

থাইল্যান্ডে মানবদেহে টিকা পরীক্ষা নভেম্বরে

  যুগান্তর ডেস্ক ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিনের গঠন বদলে চলেছে করোনাভাইরাস- এমন সতর্কবার্তা আগেই দিয়েছিলেন ভাইরোলজিস্টরা। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, করোনার সংক্রামক আরএনএ (রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের বিন্যাসে এমন একটা বদল দেখা যাচ্ছে, যার ফলে এই ভাইরাস আরও সংক্রামক হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ভাইরোলজিস্টদের গবেষণা রিপোর্টটি ‘সেল’ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে এগিয়ে থাকা চীনা কোম্পানি ক্যানসিনো জানিয়েছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটির চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা চালানোর জন্য চারটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া থাইল্যান্ডে মানবদেহে করোনার টিকা পরীক্ষা হবে নভেম্বরে।

গবেষকরা বলছেন, করোনার জিনের বদল সামান্য অংশেই হচ্ছে। কিন্তু এর প্রভাব মারাত্মক। জিনের গঠন বিন্যাসের এই বদল বা জেনেটিক মিউটেশন হচ্ছে মূলত করোনার স্কাইক গ্লাইকোপ্রোটিনে। এই স্কাইক প্রোটিনই মানুষের শরীরের দেহকোষে ঢোকার চাবিকাঠি। কাজেই এই অংশে জিনের গঠন বদলে স্কাইকের ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলছে করোনা।

লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বায়োলজিস্ট বেটে করবার বলেন, জিনের গঠন বদলের কারণেই বিশ্বজুড়ে আরও সংক্রামক হয়ে উঠেছে ভাইরাসটি।

জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনলাইন কনফারেন্সে করোনার জেনেটিক মিউটেশন নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছিলেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর ও হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফৌজি।

তিনি বলেন, সিঙ্গল মিউটেশন হচ্ছে জিনের গঠনে। অর্থাৎ জিন বা ডিএনএ’র যে সম্পূর্ণ বিন্যাস সেখানে একটা নির্দিষ্ট অ্যামাইনো এসিডের কোডে বদল হচ্ছে। সার্স-কভ-২ ভাইরাস এমনভাবে সেই অ্যামাইনো এসিডের কোড বদলে দিচ্ছে যাতে তার বিভাজন আরও দ্রুতগতিতে হয়। আর বিভাজনের ফলে তৈরি নতুন স্ট্রেন আরও বেশি সংক্রামক হয়ে ওঠে এবং অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সাড়ে সাত হাজার করোনা রোগীর নমুনা থেকে ভাইরাল স্ট্রেন আলাদা করে খুঁটিয়ে তাদের কার্যকলাপ দেখে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীরা বলেছেন, খুব দ্রুত জিনের গঠন বদলাচ্ছে ভাইরাস। এই বদলটা হচ্ছে পরপর, একসঙ্গে।

একটা ভাইরাসের জিনোম (ভাইরাল জিন) থেকে তৈরি হচ্ছে আরেকটা, তার থেকে আরেকটা- এই প্রক্রিয়া চলছেই। আর আশ্চর্যের ব্যাপার হল, প্রতিটি জিনোমই একে অপরের থেকে আলাদা। কারণ প্রতিবারই প্রতিলিপি বা নিজের মতোই আরও একটিকে তৈরি করার সময় জিনের গঠন বদলে ফেলেছে ভাইরাস। গবেষকদের দাবি, একসঙ্গে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতে দেখা গেছে এই ভাইরাসকে। প্রতিটা বদলেই এটি হয়ে উঠেছে আরও সংক্রামক।

চীনের ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পরীক্ষা চার দেশে : চীনা কোম্পানি ক্যানসিনোর তৈরি করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের পরীক্ষা হবে চার দেশে। ক্যানসিনোর নির্বাহী পরিচালক এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা কিউ ডংক্সু চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুজহুতে আয়োজিত এক অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ কনফারেন্সে বলেন, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালানোর জন্য আমরা রাশিয়া, ব্রাজিল, চিলি ও সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং এটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

থাইল্যান্ডে টিকা পরীক্ষা নভেম্বরে : নভেল করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরিকল্পনা করছে থাইল্যান্ড। আগামী নভেম্বরে এটি মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন থাই গবেষকরা। আগামী বছরের মধ্যে ভ্যাকসিনের ১০ হাজার ডোজ বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন তারা। এটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। এবার মানুষের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ডিরেক্টর কিয়াট রুক্সরুংথাম।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত