রাজশাহী বিভাগে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী

পরীক্ষা বিলম্বের জেরে গ্রামেও ছড়াচ্ছে করোনা

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

একদিকে আক্রান্তদের চিকিৎসায় অবহেলা, অন্যদিকে নমুনা পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে রাজশাহী বিভাগের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। এটি নতুন আতঙ্কের বিষয়।

গ্রামগুলো এতদিন করোনার ছোবলমুক্ত ছিল। বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রামে গ্রামে করোনার ঢেউ লাগলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

জনবল সংকটের কারণে গ্রামে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতসহ চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গ্রামের মানুষের পারিবারিক কাঠামো ও জনাকীর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে চলাচলের কারণে বাধাহীনভাবে করোনার বিস্তার ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় রোববার পর্যন্ত ৮ হাজার ৪৫৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বগুড়া জেলা বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। বগুড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৮ জন। এরপরই রাজশাহী মহানগরী এলাকায় ১ হাজার ৪২০ জনসহ জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮০২ জন।

মাঝে কিছু ধীরগতি হলেও বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাত দিনে নতুন আক্রান্তদের বেশির ভাগই গ্রামের মানুষ। এতে আক্রান্তদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা ও চিকিৎসা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমনিতেই সব সময় জনবল কম থাকে। করোনা চিকিৎসা ও নমুনা সংগ্রহে জড়িত অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

ফলে গ্রামে গ্রামে নতুন নতুন করোনা রোগী পাওয়ায় তাদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর ও চিকিৎসাসেবা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গ্রামেও ব্যাপকভাবে করোনা বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ডা. গোপেন আচার্য বলেন, গ্রামের কারও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাত দিন পর স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে খুঁজে নমুনা নিচ্ছেন। এই নমুনা পাঠিয়ে ফলাফল আসতে আরও সাত দিন লাগছে। ফলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরিবারের মধ্যেই থাকছেন এবং গ্রামে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরা অবাধে করছেন।

এতে কন্টাক্ট ট্রেসিং ব্যাপক হারে ঘটছে। তিনি আরও বলেন, নমুনা পরীক্ষার গতি বাড়াতে পারলে শনাক্তদের থেকে সুস্থদের আলাদা করা সহজ হয়। কিন্তু নমুনা জটের কারণে সেটা আমরা করতে পারছি না।

রাজশাহী বিভাগে নমুনা জট আরও তীব্র হয়েছে। রোববার পর্যন্ত বগুড়ায় সর্বাধিক ২ হাজার ৩৫৬টি নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষা শেষ করতে আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে। বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক নমুনা পরীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার আগেই আরও সমানসংখ্যক নমুনা জমা পড়ছে।

টেস্টের ফল আসছে সাত থেকে ১০ দিন পর। আর এরই মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরিবার ও তার নিজের কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য এ পরিস্থিতি উভয় সংকট বলে মনে করছেন এ কর্মকর্তা।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, রাজশাহী জেলাতে রোববার পর্যন্ত অপেক্ষমাণ নমুনার সংখ্যা ২৪৩টি। এসব নমুনার টেস্ট করাতে সিরিয়াল পেতে আরও তিন দিন লাগবে। ল্যাবে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ আছে আরও তিন শতাধিক।

প্রতিদিন শতাধিক নমুনা আসছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। ফলে নমুনা জট কাটছে না। নমুনা জট না কাটায় করোনা প্রতিরোধে গৃহীত সব পদক্ষেপ সফল হচ্ছে না।

রাজশাহী বিভাগের নওগাঁয় ৪৭১টি, নাটোরে ৪২৮টি, জয়পুরহাটে ৫১৪টি, পাবনায় ৬৪৮টি, সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫৩২টি নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা পড়েছে। নমুনা পরীক্ষা দ্রুততর করার জন্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর থেকে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত