সিলেটে পরিবহন নেতা খুন

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডিই কাল হল রিপনের

  সিলেট ব্যুরো ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীকী ছবি

সিলেটে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে থানায় জিডি করেও শেষ রক্ষা হয়নি পরিবহন শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন রিপনের (৪০)। শুক্রবার হত্যাকাণ্ডের আগে ৫ মে রিপনকে হাত-পা ভেঙে খুন করার হুমকি দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঘাতক চক্রের বিরুদ্ধে জিডি করেন রিপন।

কিন্তু এ জিডির পর ঘাতক চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করাই তার প্রাণনাশের কারণ হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনার পয়েন্টে সংলগ্ন হোটেল সিতারার সামনে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়।

অভিযোগ, পুলিশ যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় জিডির ৪৫ দিন পর ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন (৪০) নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার সেকেন্ড অফিসার রিপন দাশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

থানার ওসি খায়রুল ফজল ও দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির আইসির এসআই ফয়েজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণের ডিসি মো. সোহেল রেজা।

পরিবহন শ্রমিক নেতা রিপনের খুনিদের ধরতে ডিসি মো. সোহেল রেজা বলেন, সাদা পোশাকে দুটি টিম, র‌্যাব ও পোশাকধারী পুলিশের টিম কাজ করছে। কার কার সঙ্গে রিপনের বিরোধ রয়েছে, তার সঙ্গে কারা চলাফেরা করতেন এসব বিষয় সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত করছে।

জিডির পর পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৫ মে বরইকান্দি এলাকার এজাজুল, রিমু, মুন্নার নেতৃত্বে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লরিশ্রমিক ইউনুস মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে দোকানের তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেন। এ সময় ইউনুসের সঙ্গে রিপন ছিলেন।

এ সময় আজিজ নামের অপর এক শ্রমিক নেতার মোবাইল ফোনে রিপনকে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয় ঘাতক চক্র। ওইদিনই রিপন বাদী হয়ে থানায় জিডি করেন।

এছাড়া ১ জুলাই রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবরের নেতৃত্বে ট্যাংকলরি রাখা নিয়ে যমুনা ডিপোর সামনে শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হয়। এতে শ্রমিকরা আহত হন। রিপন খুনের নেপথ্যে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ও রেলের কর্মচারীরা জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে নিহতের পরিবার।

রিপনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার তমা বলেন, রিপন জিডি করার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটত না। তিনি আরও বলেন, আমার সব কিছু শেষ। একমাত্র মেয়ে তাসমিন জারিনের এখন কী হবে? চারদিকে শুধু অন্ধকার দেখছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লোকমান হোসেন জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বরইকান্দি ১ নম্বর রোডের মকসুদ কবীরের ছেলে নোমান আহমদ ও একই এলাকার বশির মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান সাদ্দামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও আরও সাতজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হল- এজাজুল, রিমু, মুন্না, সিলেট রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) আকবর হোসেন মজুমদার, আই ডব্লিউয়ের শহিদুল ইসলাম শহিদ ও ছাতক স্টেশন মাস্টার আবদুল মতিন ভূঁইয়াকে হুকুমদাতা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রেলের কর্মকর্তারা মদদ দিয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মনির হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির আলী।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত