পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ

তিনজন ১৪ দিনের রিমান্ডে, পুলিশের তদন্ত কমিটি

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই মামলায় তিনজনের ১৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার শঙ্কার মধ্যে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) তথাকথিত দায় স্বীকারের খবরকেও অবাস্তব বলছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছেন তারা।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- শহিদুল ইসলাম (২৩), মোশারফ হোসেন (২৬) ও রফিকুল ইসলাম (৪০)। আসামিদের আদালতে হাজির করে অস্ত্র মামলায় ৭ দিন ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

বিপরীতে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নাকচ করে অস্ত্র মামলায় ৭ দিন ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে তিনজনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতেই পল্লবী থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ।

বুধবার সকালের এ ঘটনায় তিন ব্যক্তির বাইরে কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা- তা অনুসন্ধান করছে পুলিশ। পাশাপাশি কয়েকজন পুলিশ সদস্যের অসতর্কতা ও অপেশাদার আচরণ ছিল বলে জানায় পুলিশের একটি সূত্র।

সূত্রটি বলছে, স্থানীয় অপরাধী চক্রের এ সদস্যদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওজন মাপার মেশিনের ভেতর বোমা রয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। কিন্তু থানার পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দল আসার আগে তারা সেটি নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। তারা পেশাদার আচরণ করলে হয়তো হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে কথা বলতে ডিএমপি’র মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার, পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

ঘটনার পর বিস্ফোরণের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় বলেছিলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ওই ওজন মাপার যন্ত্রে ‘বোমা আছে’।

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেয়া হলে ডিউটি অফিসারের কক্ষে ওই ওজন মাপার মেশিন তারা পরীক্ষা করেন। সেটি আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করার জন্য অধিকতর বিশেষজ্ঞ দলকে আরও কিছু ডিভাইসসহ আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হন। আহতরা হলেন- পল্লবী থানার পরিদর্শক (অভিযান) ইমরানুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব খান, শিক্ষানবিস উপপরিদর্শক (এসআই) রুমি তাব্রেজ হায়দায় ও অঙ্কুশ কুমার দাস এবং বেসামরিক ব্যক্তি রিয়াজুল ইসলাম।

তাদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর। তার বাম হাতের কব্জি ও ডান হাতের একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে।

জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি- ডিবি : মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ ঘটনায় পল্লবী থানায় দুটি মামলা হয়েছে।

যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে আমরা যা পাচ্ছি এটা ‘স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারসংশ্লিষ্ট একটি ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিস (অপরাধ কর্মকাণ্ড)।’ জঙ্গির কোনো সংশ্লিষ্টতা আমরা এখনও পাইনি।

তারা কেন কাকে কীভাবে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করেছিল সে বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এর বেশি কিছু পেলে আমরা পরে জানাব।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি : ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বার্তায় কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। কমিটির সভাপতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার (অপারেশন) মো. মনির হোসেন।

সদস্য ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (দারুসসালাম জোন) মাহমুদা আফরোজ লাকী এবং মিরপুর বিভাগ ও ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের এডিসি মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী। তিন কার্যদিবসের মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের কাছে কমিটি প্রতিবেদন দেবে।

দুই দিন আগেই তুলে নেয়ার অভিযোগ : তিনজনের একজন শহিদুল ইসলামকে দু’দিন আগেই ধরে নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার বড় ভাই মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, শহিদুলকে বাড়ির সামনের একটি দোকান থেকে সোমবার বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে তুলে নেয়া হয়।

সাধারণ পোশাকে কয়েকজন মাইক্রোবাসে এসে বন্দুক তাক করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমার মা পিয়ারী বেগম (৫০) পল্লবী থানায় জিডি করেন। সেদিন রাতে জিডি করতে করতে রাত ১টা বেজে যায়। র‌্যাবেও অভিযোগ জানাই।

কিন্তু পরে শুনলাম আমার ভাই নাকি পল্লবী বিস্ফোরণে ছিল। অথচ তাকে ধরা হয়েছিল আগেই।

এ বিষয়ে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ‘এই বক্তব্য আমরা তদন্ত করে দেখব। আমরা এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি। আমরা তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেছি। যে বস্তুটি উদ্ধার করেছি (বোমা) সেটা আপনারা দেখেছেন। এর বাইরে যদি কোনো বিষয় থাকে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখব।’

আরেক প্রশ্নের উত্তরে আবদুল বাতেন বলেন, ‘এখন যদি আপনি সব প্রশ্নের উত্তর চান তাহলে দেয়া যাবে না। আবার অনেক কিছু আছে যা তদন্তের স্বার্থে আপনাকে বলাও যাবে না। আপনাকে সবকিছু খুলে বলার মতো আমার কাছে তথ্য নেই।’ তিনি বলেন, ‘এই সংক্রান্তে আমাদের এতটুকুই।’

আইএস’র দায় স্বীকার অবাস্তব : অনলাইনে জিহাদি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স বলছে, ইসলামিক স্টেট পল্লবী থানায় হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উপকমিশনার আ. মান্নান যুগান্তরকে বলেছেন, পল্লবীর ঘটনায় আইএসের দায় স্বীকারের কোনো ভিত্তি নেই। এটি তাদের অবাস্তব দাবি।

আহত পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি : বিস্ফোরণে আহত পরিদর্শক ইমরান, এসআই সজিব, পিএসআই অংকুর ও পিএসআই রুমির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সোর্স রিয়াজের পেট থেকে বোমার স্পি­ন্টার বের করা হয়েছে। তবে কেটে ফেলতে হয়েছে তার বাম হাতের কব্জি ও ডান হাতের একটি আঙুল।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত