যমুনা ফিউচার পার্কে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে ঈদের কেনাকাটা
jugantor
যমুনা ফিউচার পার্কে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে ঈদের কেনাকাটা
নির্ভয়ে শপিং করতে পারায় খুশি ক্রেতারা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এবং দেশের সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা চলছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সুবিশাল পরিসর আর এক ছাদের নিচে সব ধরনের মানসম্পন্ন পণ্য পাওয়ায় এই শপিংমলেই আস্থা রাখছেন ক্রেতারা।

কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা দেখে ক্রেতা-বিক্রেতা-দর্শনার্থী সবাই খুশি। তারা জানান, জীবন ও জীবিকার যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই।

যমুনা ফিউচার পার্ক এ বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেয়ায় তারা এখানে কেনাকাটা করতে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা যায়, সব প্রবেশপথে বসানো হয়েছে টেম্পেরেচার মেশিন। এসব মেশিনে আগতরা তাপমাত্রা পরীক্ষা করার পর জীবাণুনাশক দিয়ে শরীর স্প্রে কারার মধ্য দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন।

তাছাড়া রয়েছে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সার্বক্ষণিক মাস্ক পরিধানের নিয়মও রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন দোকানের রয়েছে নিজস্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এক্ষেত্রে ক্রেতাদের রেজিস্ট্রেশন করা, শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা, হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা এবং সচেতনতামূলক ব্যনার লাগানোসহ নানা উদ্যোগ চোখে পড়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পারুল বেগম। তিনি বলেন, অন্যান্য মার্কেটে গেলে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায় না।

বিশেষ করে করোনাকালীন ব্যাপক ঝুঁকি থাকায় যমুনা ফিউচার পার্কই নিরাপদ। কেননা এখানে অনেক বড় স্পেস রয়েছে। ভিড় থাকলেও মানুষের গায়ের সঙ্গে গা লাগে না। সামাজিক দূরত্ব মেনেইে কেনাকাটা করা যাচ্ছে।

শেওরাপাড়া থেকে আসা অ্যাডভোকেট বন্যা বরশা বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি শুধু মুখেই নয়, কাজেও সেটি প্রমাণ করছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। অনেকটা করোনার ভয় ছাড়াই ঈদের কেনাকাটা সারতে পেরেছি।

গাজীপুর থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী কাওসার রহমান বলেন, এতদূর থেকে আসার অনেক কারণ আছে। এখানে আমাদের যা যা প্রয়োজন, সবই পাওয়া যায়।

তাছাড়া করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ সব ধরনের নিরাত্তাসহ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কেনাকাটা করতে পেরেছি।

যমুনা ফিউচার পার্কের ‘মেট্রো’তে ১৪ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে সারারা। এছাড়া ৮-১৬ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে স্টন থ্রি-পিস। লংগাউন রয়েছে ১০-২৬ হাজার টাকার মধ্যে। চিনন কটন থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে।

এছাড়া আরও রয়েছে নানা ডিজাইনের থ্রি-পিস। মেট্রোর অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার কবীর হোসেন বলেন, ‘বিক্রি মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় ক্রেতরা নির্ভয়ে আসছেন।’

এখানকার আড়ং শোরুমে ঢুকতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তারপর তাপমাত্রা পরীক্ষা করে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করেই ঢুকতে দেয়া হয়।

এছাড়া অধিকাংশ দোকানেই হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় দোকানেই করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতনতামূলক প্লাকার্ড ও ব্যানার লাগানো হয়েছে।

নামকরা ব্রান্ডের দোকানগুলোয় বিভিন্ন পণ্যের ছাড় দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলার মেলায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় রয়েছে বিভিন্ন পোশাকের।

কে-ক্রাফটে ২০ শতাংশ, ইনফিনিটিতে ৫০ শতাংশ, জেন্টেল পার্কে ৭০ শতাংশ, নবরূপায় ৫০ শতাংশ এবং রেডে ছাড় দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। বিক্রেতারা জানান, সামার এবং ঈদের কারণে এই ছাড় দেয়া হয়েছে। যাতে ক্রেতারা কম দামে ভালো মানের জিনিশ কিনতে পারেন।

যমুনা ফিউচার পার্কে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে ঈদের কেনাকাটা

নির্ভয়ে শপিং করতে পারায় খুশি ক্রেতারা
 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এবং দেশের সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা চলছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সুবিশাল পরিসর আর এক ছাদের নিচে সব ধরনের মানসম্পন্ন পণ্য পাওয়ায় এই শপিংমলেই আস্থা রাখছেন ক্রেতারা।

কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা দেখে ক্রেতা-বিক্রেতা-দর্শনার্থী সবাই খুশি। তারা জানান, জীবন ও জীবিকার যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই।

যমুনা ফিউচার পার্ক এ বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেয়ায় তারা এখানে কেনাকাটা করতে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা যায়, সব প্রবেশপথে বসানো হয়েছে টেম্পেরেচার মেশিন। এসব মেশিনে আগতরা তাপমাত্রা পরীক্ষা করার পর জীবাণুনাশক দিয়ে শরীর স্প্রে কারার মধ্য দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন।

তাছাড়া রয়েছে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সার্বক্ষণিক মাস্ক পরিধানের নিয়মও রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন দোকানের রয়েছে নিজস্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এক্ষেত্রে ক্রেতাদের রেজিস্ট্রেশন করা, শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা, হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা এবং সচেতনতামূলক ব্যনার লাগানোসহ নানা উদ্যোগ চোখে পড়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পারুল বেগম। তিনি বলেন, অন্যান্য মার্কেটে গেলে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায় না।

বিশেষ করে করোনাকালীন ব্যাপক ঝুঁকি থাকায় যমুনা ফিউচার পার্কই নিরাপদ। কেননা এখানে অনেক বড় স্পেস রয়েছে। ভিড় থাকলেও মানুষের গায়ের সঙ্গে গা লাগে না। সামাজিক দূরত্ব মেনেইে কেনাকাটা করা যাচ্ছে।

শেওরাপাড়া থেকে আসা অ্যাডভোকেট বন্যা বরশা বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। বিষয়টি আমার খুবই ভালো লেগেছে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি শুধু মুখেই নয়, কাজেও সেটি প্রমাণ করছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। অনেকটা করোনার ভয় ছাড়াই ঈদের কেনাকাটা সারতে পেরেছি।

গাজীপুর থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী কাওসার রহমান বলেন, এতদূর থেকে আসার অনেক কারণ আছে। এখানে আমাদের যা যা প্রয়োজন, সবই পাওয়া যায়।

তাছাড়া করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ সব ধরনের নিরাত্তাসহ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কেনাকাটা করতে পেরেছি।

যমুনা ফিউচার পার্কের ‘মেট্রো’তে ১৪ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে সারারা। এছাড়া ৮-১৬ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে স্টন থ্রি-পিস। লংগাউন রয়েছে ১০-২৬ হাজার টাকার মধ্যে। চিনন কটন থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে।

এছাড়া আরও রয়েছে নানা ডিজাইনের থ্রি-পিস। মেট্রোর অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার কবীর হোসেন বলেন, ‘বিক্রি মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় ক্রেতরা নির্ভয়ে আসছেন।’

এখানকার আড়ং শোরুমে ঢুকতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তারপর তাপমাত্রা পরীক্ষা করে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করেই ঢুকতে দেয়া হয়।

এছাড়া অধিকাংশ দোকানেই হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় দোকানেই করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতনতামূলক প্লাকার্ড ও ব্যানার লাগানো হয়েছে।

নামকরা ব্রান্ডের দোকানগুলোয় বিভিন্ন পণ্যের ছাড় দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলার মেলায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় রয়েছে বিভিন্ন পোশাকের।

কে-ক্রাফটে ২০ শতাংশ, ইনফিনিটিতে ৫০ শতাংশ, জেন্টেল পার্কে ৭০ শতাংশ, নবরূপায় ৫০ শতাংশ এবং রেডে ছাড় দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। বিক্রেতারা জানান, সামার এবং ঈদের কারণে এই ছাড় দেয়া হয়েছে। যাতে ক্রেতারা কম দামে ভালো মানের জিনিশ কিনতে পারেন।