সেই ডিসি প্রত্যাহার

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারী সহকর্মী এডিসিকে নানাভাবে হেনস্থাকারী সেই ডিসিকে অবশেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার করেছে। সোমবার ডিসি রদবদলের তালিকায় আলোচিত ডিসির নামও রয়েছে। তবে তাকে প্রত্যাহার করে কোথাও পদায়ন করা হয়নি।

‘ডিসির বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী কর্মকর্তার গুরুতর অভিযোগ’ শিরোনামে ২৭ জুলাই যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর টনক নড়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। এর আগে ভুক্তভোগী নারী কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ দিয়েও সেভাবে প্রতিকার পাচ্ছিলেন না। বরং প্রশাসনে কর্মরত অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা অভিযুক্ত ডিসির পক্ষে অবস্থান নেন। তদন্তেও তেমন কোনো গতি ছিল না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ উল্টো অভিযোগকারী নারী কর্মকর্তার দোষ-ত্রুটি তালাশ করার চেষ্টা করেন। তারা তাকে এও বলেন, ‘ডিসি খুব ভালো অফিসার। তুমি এসব অভিযোগ করা থেকে বিরত হও। চেপে যাও। চাকরিটা ঠিকমতো কর।’ সূত্র জানায়, যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বেশির ভাগ কর্মকর্তা ভুক্তভোগী নারীর পাশে এসে দাঁড়ান। এ ধরনের রিপোর্ট করার জন্য অনেকে সরাসরি, কেউ ফোন করে যুগান্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এর একটা বিহিত হতেই হবে। কোনো কর্মকর্তা মেধাবী, দক্ষ হলেই এ ধরনের অপরাধ ধামাচাপা দেয়া যাবে না। পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গেলে একজন নারী কর্মকর্তা (এডিসি) তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা ডিসিকে গালাগাল করতে পারেন, সেটি সহজে অনুমান করা যায়। তাছাড়া আরও তো ডিসি আছেন। তাদের বিরুদ্ধে তো এ রকম অভিযোগ আসছে না। সেখানেও তো নারী কর্মকর্তা কাজ করেন। মোদ্দাকথা, বেশিরভাগ কর্মকর্তা মনে করেন, কর্মস্থলে কাজের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কতিপয় কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনের জন্য পুরো প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। তাই এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। সব অভিযোগের ক্ষেত্রে জামালপুরের সাবেক ডিসির মতো ডকুমেন্ট সামনে আসবে না। আসা উচিত নয়। সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত হতে হবে। উপসচিব পদমর্যাদার নারী কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের দফতর থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ডিসি ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় ডিসির নাম প্রকাশ করা হল না।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত