বি’বাড়িয়ার রনি ও কালকিনির মিজানের বাড়িতে মাতম

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি ০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিজানুর রহমান-মেহেদী হাসান রনি। ছবি-যুগান্তর

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেহেদী হাসান রনি ও মাদারীপুরের মিজানুর রহমানের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। দুঃসংবাদ শুনে দু’জনের বাবা-মা মূর্ছা যাচ্ছেন। তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাদের সন্তান বেঁচে নেই।

বুধবার সকালে রনির বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের তাজুল ইসলামের কাছে খবর আসে তার ছেলে বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গেছেন। এ দুঃসংবাদ শুনে তাজুল ইসলামের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। মাটিতে বসে পড়েন তিনি। রনির মা ইনারা বেগম বারবার মূর্ছা যেতে থাকেন।

তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাদের আদরের ছেলে রনি বেঁচে নেই। রনির বাবা তাজুল ইসলাম জানান, মার্চ মাসে দেশে আসার কথা ছিল রনির। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ফিরতে পারেননি।

সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরে ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে তার কথা হয়। রাতে এক সহকর্মী ফোন করে জানান রনি অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর বুধবার ভোরে আবার ফোন করে জানান রনি মারা গেছেন।

রনির ছোট বোন জেসমিন আক্তার হ্যাপি বলেন, দেশে আসবে বলে দুই ভাগ্নির জন্য চকলেট ও খেলনা কিনে রেখেছিলেন ভাইয়া। বাড়ির সবার জন্য কেনাকাটা করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে দেশে ফিরতে পারছিলেন না।

গত পহেলা বৈশাখে ভাইয়ের জন্মদিনে মা নিজ হাতে কেক বানিয়েছিল। ভিডিওকলে আমরা সেই কেক কেটেছিলাম। এখন আমার ভাইয়ের লাশ দেখতে চাই।

জানা যায়, চার ভাইবোনের মধ্যে রনি সবার বড়। গ্রামের একটি স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পরিবারে আর্থিক অনটন দেখে রনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সুদে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ লেবানন যান।

বৈরুতে একটি বিপণিবিতানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন তিনি। মাসে ২০ হাজার টাকা বাড়ি পাঠাতে পারতেন।

মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিনুল হক পাভেল বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমি রনির পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। লাশ দেশে আনার জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সে জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করছি।

লাশ আনার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমি রনির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সান্ত্বনা দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা ওই পরিবারকে বিশ হাজার টাকা সহায়তা দেব। লাশ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেব।

এদিকে প্রায় ৫ বছর আগে ধারদেনা করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল এলাকার মিয়ারহাট গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মিজানুর রহমান।

বিভিন্ন মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে এই পরিবারে এখন শোকের মাতম ছলছে। শুধু পরিবার নয়, পুরো মিয়ারহাট গ্রামেই শোকাবহ পরিবেশ।

জাহাঙ্গির খান চিৎকার করে কান্না করছিলেন আর বলছিলেন, আমি কিছুই চাই না। শুধু আমার ছেলের লাশ চাই। মিজানের মা অসুস্থ। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বাকরুদ্ধ।

মিজানের এক চাচা জানান, তার ভাতিজা পরিবারে স্বপ্ন পূরণের জন্য লেবানন গিয়েছিল। তারপর থেকে সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় তাদের সবার স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : লেবাননে বিস্ফোরণ

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত