বৈরুতে বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশি নিহত

নৌবাহিনীর ২১ সদস্যসহ আহত ১০১

  যুগান্তর রিপোর্ট  ০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্যসহ ১০১ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিজয়’র ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মোস্তাহিদুর রহমানসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) পরিদফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আবদুল্লাহ আল মামুন ওয়াটস আপ বার্তায় বাসসকে জানান, এ পর্যন্ত চার বাংলাদেশি নিহত এবং ১০০ জনের মতো আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ২১ জন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য।

তিনি বলেন, নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেহেদী হাসান রনি ও রাসেল, মাদারীপুরের মিজানুর রহমান এবং কুমিল্লার রেজাউল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় লাশগুলো শিগগিরই দেশে পাঠানো হবে। যেহেতু তারা বৈধ শ্রমিক, তাই তাদের বীমা করা রয়েছে।

ফলে বীমা কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। নিয়ম অনুসারে আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে সাকসেশন সার্টিফিকেট এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ কিছু কাগজপত্র লাগবে। লাশগুলো দেশে পাঠানোর পর এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মোস্তাহিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বৈরুত সমুদ্রবন্দরে অতি উচ্চমাত্রার দুটি বিস্ফোরণ হয়। এতে দেশটির জানমাল ও স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে।

তিনি বলেন, লেবাননে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় দেড় লাখ লোক বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিস্ফোরণে আহত হয়ে মাউন্ট লেবানন হাসপাতালে একজন এবং জয়তবী হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৮০ বাংলাদেশি।

এদের মধ্যে ৮ জন আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার প্রায় ২০০ গজ দূরে নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ছিল।

জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জাহাজে গিয়েছি। তিনি বলেন, লেবাননের ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপডেট তথ্য নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের সুচিকিৎসায় তিনি পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন, বাংলাদেশ থেকে কোনো চিকিৎসা বা খাদ্য সহায়তা পাঠানো যায় কিনা।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মনে করি, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা এলে তা দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। এতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

এদিকে আইএসপিআর জানায়, ভয়াবহ এ বিস্ফোরণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিজয়’র ২১ সদস্য আহত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার নাম চিফ ইআরএ (সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার) মো. হারুন উর রশীদ। তাকে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত মেডিকেল সেন্টারে (এইউবিএমসি) ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদের ইউনিফিলের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হেলিকপ্টার/অ্যাম্বুলেন্সে হামুদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা আশঙ্কামুক্ত। শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আহত নৌ সদস্যদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর জাহাজ বিজয়’র ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নৌবাহিনী জাহাজ, ইউনিফিল সদর দফতর ও বৈরুতের বাংলাদেশি দূতাবাসের সঙ্গে নৌবাহিনী সদর দফতরের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে।

ইউনিফিল হেড অব মিশন এবং ফোর্স কমান্ডার ও মেরিটাইম টাস্কফোর্স কমান্ডার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ঘটনার অব্যবহিত পরই বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মোস্তাহিদুর রহমান সরেজমিন বানৌজা বিজয় পরিদর্শন করেন।

এছাড়া আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর ও যথাযথ চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিজয় ১১০ জন জনবলসহ ব্যানকন-৮ হিসেবে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে জাহাজে ব্যানকন-১০ কন্টিনজেন্ট ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে মোতায়েন রয়েছে।

সেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ছাড়াও জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিস, ব্রাজিল এবং ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনীর ৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে।

ভূমধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বর্তমানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বিজয়’ ইউনিফিলে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত। জাহাজটি লেবাননের ভূখণ্ডে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে।

পাশাপাশি লেবানিজ জলসীমায় জাহাজটি মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্রাফটের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবানিজ নৌ সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত