ত্যাগী প্রার্থীর সন্ধানে আওয়ামী লীগ
jugantor
পাঁচটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন
ত্যাগী প্রার্থীর সন্ধানে আওয়ামী লীগ
একের পর এক জ্যেষ্ঠ নেতার মৃত্যু

  শেখ মামুনূর রশীদ  

০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর মধ্যে একাধিক শীর্ষ, ত্যাগী এবং দলের প্রতি নিবেদিত- এমন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করছে, দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসা কর্মীবান্ধব এসব নেতার অভাব আর কখনই পূরণ হবে না। তবুও তাদের জায়গায় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতার সন্ধানে নেমেছে আওয়ামী লীগ।

কারোনা মহামারীর মধ্যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিমকে হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। আরেক বর্ষীয়ান রাজনীতিক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনেরও মৃত্যু হয়েছে এ সময়ে।

এ দুই শীর্ষ নেতার বাইরে দুর্দিনে মাঠের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এবং শ্রমিক লীগের রাজনীতি থেকে মূল দলের রাজনীতিতে জায়গা করে নেয়া নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমকে হারিয়েছে আওয়ামী লীগ।

শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ২ এপ্রিল, ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লা, ১৩ জুন মোহাম্মদ নাসিম এবং ১০ জুলাই অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মারা যান। সর্বশেষ ২৭ জুলাই মারা যান মো. ইসরাফিল আলম। নির্বাচন কমিশন পাঁচটি আসন ইতোমধ্যে শূন্য ঘোষণা করে এসব আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

সংবিধানের ভেতরে থেকে ১৮০ দিনের মধ্যেই আসন পাঁচটিতে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা। অন্যদিকে প্রস্তুতি চলছে শাসক দল আওয়ামী লীগেও। প্রতিটি আসনেই একজন ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও মাঠপর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ নেতার সন্ধানে নেমেছে দলটি। একই সঙ্গে প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, মোহাম্মদ নাসিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ পরপর দলের কয়েকজন সিনিয়র, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা এবং সংসদ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ নেতাদের অভাব কখনই পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা অবশ্যই সবক’টি আসনে প্রার্থী দেব। দলের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় বোর্ডের সভায় প্রার্থী ঠিক করবেন। তবে অবশ্যই ক্লিন ইমেজের ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও মাঠপর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতার মতে, যে পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তার সবক’টিতেই যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তাদের প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সঙ্গী। একমাত্র মো. ইসরাফিল আলম ছাড়া বাকি চারজনের রাজনীতির ইতিহাস দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। বহু লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, জেল-জুলুমের শিকার হয়ে তারা দলে এবং রাজনীতির মাঠে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। তাদের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব নেতার আসনে বিকল্প এবং যোগ্য নেতা খোঁজার কাজটি খুব সহজ নয় বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফা অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আরও ৯০ দিনের মধ্যে ওই নির্বাচন করবে। সংবিধানের এ নির্দেশনার আলোকে ১৮০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে ইসি। আর নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম ২৭ জুলাই মারা যাওয়ায় করোনার কারণে আরও ৬ মাস আসনটি শূন্য থাকতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘হেভিওয়েট’ নেতাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনগুলোয় ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি অনেকে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগসহ মাঠপর্যায়েও গণসংযোগ শুরু করেছেন তারা। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভির শাকিল জয় প্রার্থী হবেন- এমনটা মোটামোটি নিশ্চিত। তাই এ আসনে প্রার্থী হিসেবে আর কারও নাম তেমন একটা শোনা যাচ্ছে না।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নাসিমপুত্র জয়। তিনিই বাবার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পাদনের জন্য নৌকা নিয়ে ভোটের মাঠে লড়বেন। তবে অন্য আসনগুলোয় অনেক প্রার্থী। অনেক মুখ। ত্যাগী নেতা থেকে শুরু করে নবাগত মুখ- প্রার্থীর শেষ নেই এসব আসনে। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আছেন প্রয়াত সংসদ সদস্যদের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই ও আত্মীয়স্বজনও। অবশ্য ইসরাফিল আলমের শূন্য আসনে এখনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়নি।

ঢাকা-৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না এবং আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি।

ঢাকা-১৮ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, হাবিব আহসান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার।

এছাড়াও নৌকার টিকিট পেতে ব্যাপক পোস্টার সাঁটিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। প্রয়াত সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনের ভাগনে আনিসুর রহমানও এলাকায় পোস্টারিং করেছেন। আরও দু’জন ব্যবসায়ী জোর লবিং-তদবির করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে।

পাবনা-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী কামরুন্নাহার শরীফ, ছেলে গালিবুর রহমান শরীফ, মেয়ে মাহজেবিন শিরিন পিয়া, মেয়ের জামাই ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, খালাতো ভাই বশির আহম্মেদ বকুল, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল আলিম, আইনজীবী সৈয়দ আলী জিরু, সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম। অবশ্য ইসরাফিল আলমের শূন্য আসনে এখনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়নি।

পাঁচটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন

ত্যাগী প্রার্থীর সন্ধানে আওয়ামী লীগ

একের পর এক জ্যেষ্ঠ নেতার মৃত্যু
 শেখ মামুনূর রশীদ 
০৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর মধ্যে একাধিক শীর্ষ, ত্যাগী এবং দলের প্রতি নিবেদিত- এমন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করছে, দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসা কর্মীবান্ধব এসব নেতার অভাব আর কখনই পূরণ হবে না। তবুও তাদের জায়গায় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতার সন্ধানে নেমেছে আওয়ামী লীগ।

কারোনা মহামারীর মধ্যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিমকে হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। আরেক বর্ষীয়ান রাজনীতিক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনেরও মৃত্যু হয়েছে এ সময়ে।

এ দুই শীর্ষ নেতার বাইরে দুর্দিনে মাঠের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এবং শ্রমিক লীগের রাজনীতি থেকে মূল দলের রাজনীতিতে জায়গা করে নেয়া নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমকে হারিয়েছে আওয়ামী লীগ।

শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ২ এপ্রিল, ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লা, ১৩ জুন মোহাম্মদ নাসিম এবং ১০ জুলাই অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মারা যান। সর্বশেষ ২৭ জুলাই মারা যান মো. ইসরাফিল আলম। নির্বাচন কমিশন পাঁচটি আসন ইতোমধ্যে শূন্য ঘোষণা করে এসব আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

সংবিধানের ভেতরে থেকে ১৮০ দিনের মধ্যেই আসন পাঁচটিতে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা। অন্যদিকে প্রস্তুতি চলছে শাসক দল আওয়ামী লীগেও। প্রতিটি আসনেই একজন ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও মাঠপর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ নেতার সন্ধানে নেমেছে দলটি। একই সঙ্গে প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, মোহাম্মদ নাসিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ পরপর দলের কয়েকজন সিনিয়র, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা এবং সংসদ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ নেতাদের অভাব কখনই পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা অবশ্যই সবক’টি আসনে প্রার্থী দেব। দলের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় বোর্ডের সভায় প্রার্থী ঠিক করবেন। তবে অবশ্যই ক্লিন ইমেজের ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও মাঠপর্যায়ের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতার মতে, যে পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তার সবক’টিতেই যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তাদের প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সঙ্গী। একমাত্র মো. ইসরাফিল আলম ছাড়া বাকি চারজনের রাজনীতির ইতিহাস দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। বহু লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, জেল-জুলুমের শিকার হয়ে তারা দলে এবং রাজনীতির মাঠে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। তাদের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব নেতার আসনে বিকল্প এবং যোগ্য নেতা খোঁজার কাজটি খুব সহজ নয় বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফা অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আরও ৯০ দিনের মধ্যে ওই নির্বাচন করবে। সংবিধানের এ নির্দেশনার আলোকে ১৮০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে ইসি। আর নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম ২৭ জুলাই মারা যাওয়ায় করোনার কারণে আরও ৬ মাস আসনটি শূন্য থাকতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘হেভিওয়েট’ নেতাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসনগুলোয় ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি অনেকে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগসহ মাঠপর্যায়েও গণসংযোগ শুরু করেছেন তারা। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভির শাকিল জয় প্রার্থী হবেন- এমনটা মোটামোটি নিশ্চিত। তাই এ আসনে প্রার্থী হিসেবে আর কারও নাম তেমন একটা শোনা যাচ্ছে না।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নাসিমপুত্র জয়। তিনিই বাবার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পাদনের জন্য নৌকা নিয়ে ভোটের মাঠে লড়বেন। তবে অন্য আসনগুলোয় অনেক প্রার্থী। অনেক মুখ। ত্যাগী নেতা থেকে শুরু করে নবাগত মুখ- প্রার্থীর শেষ নেই এসব আসনে। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আছেন প্রয়াত সংসদ সদস্যদের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই ও আত্মীয়স্বজনও। অবশ্য ইসরাফিল আলমের শূন্য আসনে এখনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়নি।

ঢাকা-৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্না এবং আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি।

ঢাকা-১৮ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, হাবিব আহসান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার।

এছাড়াও নৌকার টিকিট পেতে ব্যাপক পোস্টার সাঁটিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। প্রয়াত সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনের ভাগনে আনিসুর রহমানও এলাকায় পোস্টারিং করেছেন। আরও দু’জন ব্যবসায়ী জোর লবিং-তদবির করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে।

পাবনা-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী কামরুন্নাহার শরীফ, ছেলে গালিবুর রহমান শরীফ, মেয়ে মাহজেবিন শিরিন পিয়া, মেয়ের জামাই ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, খালাতো ভাই বশির আহম্মেদ বকুল, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল আলিম, আইনজীবী সৈয়দ আলী জিরু, সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম। অবশ্য ইসরাফিল আলমের শূন্য আসনে এখনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়নি।