দুর্নীতিবিরোধী অভিযান

ফরিদপুরে আ’লীগের ১০ নেতা আটক

  ফরিদপুর ব্যুরো ০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদপুরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে শহর আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ অন্তত ১০ নেতাকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনকে ৭ জুন এবং অন্যদের ঈদের দু’দিন আগে ও ঈদের দিন আটক করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন প্রভাবশালী আরও কয়েকজন নেতাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার অর্ধশত ব্যক্তি।

এদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলা। এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধান ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়। দলে অনুপ্রবেশকারী নেতারা বিভিন্ন সরকারি দফতরগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এক সময় যাদের হাতে রিকশা ভাড়ার টাকাও ছিল না এখন তারাই গাড়ি-বাড়িসহ হাজার কোটি টাকার মালিক।

এসব হাইব্রিড নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার এবং তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠতে থাকে। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৬ মে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়। সেই মামলার সূত্র ধরে ৭ জুন আটক করা হয় সাবেক শহর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে। দুই ভাইকে আটকের মধ্যদিয়ে শুরু হয় ফরিদপুরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান।

বরকত ও রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আরও অনেক আওয়ামী লীগ নেতার নাম। তাদের দেয়া তথ্যমতে, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, যুবলীগ নেতা আসিবুর রহমান ফারহান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আবুসহ ১০ জনের বেশি নেতাকে আটক করা হয়।

নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভীর বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে। তিনি প্রকৃত আওয়ামী লীগ হলেও দলের হাইব্রিড নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনিও অবৈধভাবে গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। মানি লন্ডারিং মামলার আরেক আসামি বিল্লাল হোসেন, তিনি ছিলেন সাবেক এক মন্ত্রীর ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই সাবেক মন্ত্রীর ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান পদ হারানোর পর বিল্লাল ছিলেন এলাকছাড়া। ঈদে বাড়ি এলে তাকে আটক করা হয়।

আসিবুর রহমান ফারহানও মানি লন্ডারিং মামলার আসামি। তিনিও ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছিলেন ছাত্রনেতা ও যুবনেতা। ২০১৯ সালে ফরিদপুরে আলোচিত নার্স হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ ফারহানের মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে থাকেন তিনি। সম্প্রতি ঈদে বাড়ি এলে মানি লন্ডারিং আইনে তাকেও আটক করা হয়। এছাড়া আটক হওয়া দুই ভাই বরকত-রুবেলের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলা রয়েছে। ঢাকার কাফরুল থানায় এসব মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করা হয়েছে।

আটক হওয়া আরেক নেতা আনোয়ার হোসেন আবু ছিলেন ডিক্রিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ভূমিদস্যু হয়ে উঠেন তিনি। জমি দখল ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তিনিও হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্না হাসান বলেন, যারা দলে অনুপ্রবেশ করে দলের ক্ষতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় সাধুবাদ জানাই। তাদের শাস্তি হোক এটা চাই।

জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল হক ভোলা মাস্টার বলেন, ফরিদপুর সদর আসনের এমপি যখন মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তারপরই নতুন হাইব্রিড নেতাদের দলে টানতে শুরু করেন। কারন তিনি তাদের দিয়ে বিভিন্ন অফিস নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা পান। আমরা ত্যাগী নেতারা থাকলে তিনি সুবিধা করতে পারবেন না মনে করে বিভিন্ন উপায়ে আমাদের দূরে রেখেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খলিফা কামাল উদ্দিন বলেন, দেরিতে হলেও এ শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি সিআইডির এক মামলায় যাদের সম্পৃক্ততার নাম এসেছে তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত