সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

জনরোষের মুখে লেবানন সরকার

বিধ্বস্ত বৈরুতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, সংস্কারের আহ্বান * জর্ডানে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ * বন্দর মহাব্যবস্থাপকসহ আটক ১৬

  যুগান্তর ডেস্ক ০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকি জেনেও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো মারাত্মক দাহ্য পদার্থ কেন ?বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল তার জবাব চেয়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারও মানুষ। দেশটির পার্লামেন্টের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ তাদের থামাতে টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এছাড়া শহরের বেশ কয়েক জায়গায় বিক্ষোভ হয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর এর মধ্যদিয়ে বর্তমান সরকারের পতনও ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে জর্ডানে লেবাননের রাষ্ট্রদূত পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেছেন, রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ছাড়া সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে না লেবানন।

বৈরুতের বর্তমান অবস্থাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বলেছে, দেশটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল যে, আহত লোকজন ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

এদিকে বৈরুতে এখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এতে লেবাননের বিভিন্ন সংস্থা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা অংশ নিয়েছে। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনরা ছোটাছুটি করছেন। বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ সহস্রাধিক। আহতদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ১১৬ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন ও আলজাজিরার।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তারা রাস্তায় টায়ার রেখে আগুন ধরিয়ে দেন। দোকান ভাংচুর করে। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন। পার্লামেন্ট ভবনের কাছে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এর মধ্যেই উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেধে যায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। বিক্ষোভকারীদের দাবি- সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার কারণেই এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

জর্ডানে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ : সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন জর্ডানে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত ট্রেসি শামৌন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে দিয়েছে। এর আগে এমপি মারওয়ান হামাদহ পদত্যাগ করেন। এছাড়া আরও দুই শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের লেবানান সফর : পরিস্থিতি দেখতে লেবানন সফর করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিদেশি নেতাদের মধ্যে ম্যাক্রোঁই প্রথম বৈরুত সফর করলেন। বৃহস্পতিবার বৈরুতে পৌঁছে বিস্ফোরণস্থলসহ ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট ঘুরে দেখেন তিনি। লেবাননের জন্য জরুরি সাহায্যের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাহায্যের ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। একইসঙ্গে লেবানন সরকারকে অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করাসহ দুর্নীতি দমন করতে হবে বলেও মত দেন ম্যাক্রোঁ।

তিনি বলেন, ‘সংস্কার না হলে লেবানন ডুবতেই থাকবে। এখানে আরও যে জিনিসটি দরকার তা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিবর্তন। এ বিস্ফোরণ থেকে নতুন যুগের সূচনা হওয়া উচিত।’

ম্যাক্রোঁর বৈরুতের রাস্তা পরিদর্শনের সময়ও অধিবাসীরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। ম্যাক্রোঁ সাহায্যের আশ্বাস দেয়ার পরই এক বৈরুতবাসী বলেন, ‘আমরা আশা করি এ সাহায্য লেবাননের জনগণ পাবেন, দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের হাতে যাবে না।’ আরেকজন বলেন, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সময় করে আমাদের দেখতে আসতে পেরেছেন, অথচ লেবাননের প্রেসিডেন্ট আসেননি।’

ম্যাক্রোঁ লেবাননবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের মুখাবয়বে আবেগ, দুঃখ, যন্ত্রণার ছাপ দেখতে পাচ্ছি। সে কারণেই আমি এখানে।’ সাহায্য দুর্নীতিবাজদের হাতে যেতে দেয়া হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বিস্ফোরণের আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ফ্রান্সের একটি উদ্ধারকারী দল বৈরুতে উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছে।

বন্দর মহাব্যবস্থাপকসহ আটক ১৬ : এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ, যাদের মধ্যে বন্দরের মহাব্যবস্থাপকও রয়েছেন। বিস্ফোরণের পর এদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈরুতের বন্দর এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণে পুরো বৈরুত শহর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণে শহরের অর্ধেকই ধূলিস্যাৎ হয়েছে গেছে। মারা গেছেন দেড় শতাধিক মানুষ। আহতের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মারাত্মক দাহ্য, যে কোনো সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণ- এসব জেনেও বৈরুত বন্দরের কাছের একটি গুদামে ২০১৩ সাল থেকে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। যা থেকে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

ঘটনাপ্রবাহ : লেবাননে বিস্ফোরণ

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত