রাজধানীতে আবাসন ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে হত্যা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর ভাটারায় আবুল খায়ের (৫২) নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার বিকালে একজনের ফোন পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর শুক্রবার সকালে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কিছুদিন আগে কেনা একটি জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজনরা। নিহত আবুল খায়ের সজীব বিল্ডার্স নামে একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিক।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। এরই মধ্যে নিহতের ব্যবসায়িক অংশীদারসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মাথায় ভারি কিছু দিয়ে জোরালো আঘাত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হওয়া যাবে।

নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী রূপালী আক্তার জানান, তার (আবুল খায়ের) গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পূর্বচরবাটা ইউনিয়নে। তিনি সাধারণত রাত ৮টার মধ্যেই বাসায় ফিরতেন। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। রাত ৮টার পর কল দিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর রাতভর রূপালী সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে খোঁজ নেন। কিন্তু তার স্বামীর সন্ধান মেলেনি। রাতে ভাটারা থানা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। শুক্রবার ভোরে স্বজনরা ভাটারা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে গিয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচে আবুল খায়েরের মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর দোতলায় তার হাত-পা বাঁধা লাশ দেখতে পান।

জানা যায়, ওই ভবনটি সজীব বিল্ডার্সই নির্মাণ করছিল। আবুল খায়েরসহ নয়জন ভবনটির মালিক। ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই হওয়ার পর থেকে ভবনের কাজ বন্ধ ছিল।

নিহতের ছোট ভাই সুবর্ণচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী বাবলু জানান, আবুল খায়েরের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা একটি মেডিকেল কলেজে পড়েন। ছেলে সজীবের নামেই তিনি প্রায় ১০ বছর আগে গড়ে তোলেন নিজের আবাসন প্রতিষ্ঠান। এর আগে একসময় ঠিকাদারি করেছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের। বাবলু আরও বলেন, আমার ভাইয়ের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করল তা বুঝতে পারছি না। তবে আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে তিনি জমি কিনেছিলেন। ওই জমি নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি তার ভাইকে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।

ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, স্বজনরাই প্রথমে তার লাশ খুঁজে পান। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাথার পেছন দিয়ে আঘাত করায় মগজ বেরিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। কার ফোন কল পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন এবং হত্যায় ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভাটারা থানা সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন যে ভবনে আবুল খায়েরের লাশ পাওয়া গেছে, সেই ভবনের তিনজন মালিককে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত