কেরালায় বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য ৩ কারণ
jugantor
কেরালায় বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য ৩ কারণ
মৃত্যু বেড়ে ১৯, ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার * রানওয়ে থেকে ছিটকে ৩৫ ফুট খাদে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের কেরালার কোঝিকোড়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে ৩৫ ফুট খাদে পড়ে গিয়েছিল। শুক্রবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৭২ জন, এদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় শনিবার সকালে বিমানের ব্লাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। তিনটি কারণে এ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া এ বিমানবন্দরটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ৯ বছর আগেও এ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকাসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শুক্রবার দুপুর ২টায় দুবাই থেকে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার আইএক্স১৩৪৪ বিমানটি। কোঝিকোড়ের কারিপুর বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমানটির অবতরণে সমস্যা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকার ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, দু’বার নামতে গিয়েও ব্যর্থ হয় বিমানটি। ফলে আকাশে বেশ কিছুক্ষণ চক্কর কাটে এটি। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল তখন। পাইলট তৃতীয়বার নামার চেষ্টা করতেই বিমানটি পিছলে যায় এবং ৩৫ ফুট গভীর খাদে গিয়ে পড়ে দু’টুকরো হয়ে যায়।

কোঝিকোড় বিমানবন্দরটি ‘টেবল টপ’-এ হওয়ার জন্য বিমান ওঠানামায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রানওয়ে দৈর্ঘ্যে ছোট হওয়ায় বোয়িং-৭৭৭ এবং এয়ারবাস এ৩৩০সহ বহু বড় বিমান এই বিমানবন্দরে ওঠানামা বন্ধ করে দিয়েছিল। এয়ার সেফটি বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মোহন রঙ্গনাথন জানান, এই বিমানবন্দর বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে যে নিরাপদ নয় তা ৯ বছর আগে এক রিপোর্টে জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, কেরালার চারটি বিমানবন্দরের মধ্যে কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ে তুলনামূলক অনেক ছোট। এর আগেও বৃষ্টির কারণে রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার অভিযোগ, রানওয়ের শেষে গভীর খাদ। ফলে বিপদের একটা সমূহ সম্ভাবনা থাকত সব সময়ই। এ ব্যাপারে জানানো সত্ত্বেও বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়নি। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরটিকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার ঘটনাস্থলে যান ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ও কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরন। পরে তারা জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে বিমানবন্দরে যারা উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেকে শৈলজা। তাদের সবার কোভিড পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুর্ঘটনার সম্ভাব্য তিন কারণ : বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে সম্ভাব্য তিনটি কারণ উঠে এসেছে। প্রথমত, বিমান ওড়ানের জন্য হয়তো পাইলটদের ফিটনেসে ঘাটতি ছিল। সাধারণত প্রতি বছর দু’বার করে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হয় পাইলটদের। কিন্তু করোনার কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই পরীক্ষা বন্ধ। দ্বিতীয়ত, পাইলটদের মনে অশান্তি তৈরি করেছিল বেতন হ্রাসের ঘোষণা। তাই পাইলটরা অত্যন্ত মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সংস্থার পাইলটদের ৬০ শতাংশ বেতন হ্রাসের ঘোষণা করেছিল। তৃতীয়ত, দুর্ঘটনাস্থল কোঝিকোড় বিমানবন্দরের বিপজ্জনক রানওয়ে। এই রানওয়ের লাইট নিয়েও সমস্যা আছে। সাধারণত রানওয়ের মাঝে আলো থাকে, যাকে বলা হয় সেন্টার লাইট। এর ফলে রানওয়ের অবতরণের অংশটি সম্পূর্ণভাবে দেখতে পান পাইলটরা। কিন্তু এই বিমানবন্দরে সে রকম কোনো আলো নেই।

কেরালায় বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য ৩ কারণ

মৃত্যু বেড়ে ১৯, ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার * রানওয়ে থেকে ছিটকে ৩৫ ফুট খাদে
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের কেরালার কোঝিকোড়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে ৩৫ ফুট খাদে পড়ে গিয়েছিল। শুক্রবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৭২ জন, এদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় শনিবার সকালে বিমানের ব্লাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। তিনটি কারণে এ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া এ বিমানবন্দরটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ৯ বছর আগেও এ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকাসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শুক্রবার দুপুর ২টায় দুবাই থেকে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার আইএক্স১৩৪৪ বিমানটি। কোঝিকোড়ের কারিপুর বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমানটির অবতরণে সমস্যা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকার ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, দু’বার নামতে গিয়েও ব্যর্থ হয় বিমানটি। ফলে আকাশে বেশ কিছুক্ষণ চক্কর কাটে এটি। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল তখন। পাইলট তৃতীয়বার নামার চেষ্টা করতেই বিমানটি পিছলে যায় এবং ৩৫ ফুট গভীর খাদে গিয়ে পড়ে দু’টুকরো হয়ে যায়।

কোঝিকোড় বিমানবন্দরটি ‘টেবল টপ’-এ হওয়ার জন্য বিমান ওঠানামায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রানওয়ে দৈর্ঘ্যে ছোট হওয়ায় বোয়িং-৭৭৭ এবং এয়ারবাস এ৩৩০সহ বহু বড় বিমান এই বিমানবন্দরে ওঠানামা বন্ধ করে দিয়েছিল। এয়ার সেফটি বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মোহন রঙ্গনাথন জানান, এই বিমানবন্দর বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে যে নিরাপদ নয় তা ৯ বছর আগে এক রিপোর্টে জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, কেরালার চারটি বিমানবন্দরের মধ্যে কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়ে তুলনামূলক অনেক ছোট। এর আগেও বৃষ্টির কারণে রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার অভিযোগ, রানওয়ের শেষে গভীর খাদ। ফলে বিপদের একটা সমূহ সম্ভাবনা থাকত সব সময়ই। এ ব্যাপারে জানানো সত্ত্বেও বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়নি। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরটিকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার ঘটনাস্থলে যান ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ও কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরন। পরে তারা জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে বিমানবন্দরে যারা উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেকে শৈলজা। তাদের সবার কোভিড পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুর্ঘটনার সম্ভাব্য তিন কারণ : বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে সম্ভাব্য তিনটি কারণ উঠে এসেছে। প্রথমত, বিমান ওড়ানের জন্য হয়তো পাইলটদের ফিটনেসে ঘাটতি ছিল। সাধারণত প্রতি বছর দু’বার করে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হয় পাইলটদের। কিন্তু করোনার কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই পরীক্ষা বন্ধ। দ্বিতীয়ত, পাইলটদের মনে অশান্তি তৈরি করেছিল বেতন হ্রাসের ঘোষণা। তাই পাইলটরা অত্যন্ত মানসিক চাপে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সংস্থার পাইলটদের ৬০ শতাংশ বেতন হ্রাসের ঘোষণা করেছিল। তৃতীয়ত, দুর্ঘটনাস্থল কোঝিকোড় বিমানবন্দরের বিপজ্জনক রানওয়ে। এই রানওয়ের লাইট নিয়েও সমস্যা আছে। সাধারণত রানওয়ের মাঝে আলো থাকে, যাকে বলা হয় সেন্টার লাইট। এর ফলে রানওয়ের অবতরণের অংশটি সম্পূর্ণভাবে দেখতে পান পাইলটরা। কিন্তু এই বিমানবন্দরে সে রকম কোনো আলো নেই।