বিধিমালা জারি

ক্ষুদ্রঋণে সিআইবি কাঠামো গঠন

প্রথম পর্যায়ে ৩ কোটি গ্রাহকের ২৫ শতাংশ আওতায় আসবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও ঝুঁকি কমাতে একটি আলাদা ‘মাইক্রোক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো’ বা এমসিআইবি গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি করেছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। এ বিষয়ে সম্প্রতি এমআর থেকে একটি বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তারা এই বিধিমালা জারি করেছে। এর আওতায় এমআরএ সময় সময় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে সিআইবির কার্যক্রম চালু করবে। গেজেটে এমআরকে এ বিষয়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

বিধিমালায় বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিধিমালার আওতায় গঠিত ক্ষুদ্রঋণ তথ্য ব্যুরোতে সব ধরনের ঋণের তথ্যের জোগান দিতে বাধ্য থাকবে। নিয়মিত তথ্য না দিলে বা গোপন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে এমআরএ। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো গ্রাহক বা শ্রেণিবদ্ধ গ্রাহককে কোনো ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক সেবা দিয়ে থাকলে তার সমুদয় তথ্য সিআইবিতে পাঠাতে হবে। এর মধ্যে গৃহীত ঋণ, ঋণের উদ্দেশ্য, ঋণ পরিশোধের আগে ও পরের তথ্যাদি, ঋণ গ্রহীতার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ধরন, ঋণ গ্রহীতার আমানত বা অন্য কোনো জমা থাকলে তার ধরন, গ্রহীতার কাছ থেকে নেয়া জামানত, ঋণের ধরন, আদায় পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যক্তি, গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন করা হলে সংশ্লিষ্টরা কোনো অর্থ না নিলেও তাদের নামের তথ্যও সিআইবিতে পাঠাতে হবে। ঋণ গ্রহীতা কোনো কোম্পানি বা কর্পোরেশন হলে তাদের সহযোগী সংস্থা, হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো সদস্য বা তিনি যে ফার্মের অংশীদার এসব তথ্য দিতে হবে। ঋণের মান, কিস্তি পরিশোধ, সুদ ও মূল ঋণ আদায়, ঋণের স্থিতি এসব তথ্য সময় সময় হালনাগাদ করতে হবে। এসব বিষয়ে পরে আরও বিশদ দিকনির্দেশনা দেয়া হবে এমআরএ থেকে।

এ বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির পরিচালক ও ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন বলেন, ক্ষুদ্রঋণের আলাদা সিআইবি গঠনের আইনি কাঠামো হয়েছে। এটি একটি বড় কাজ। সিআইবির অবকাঠামোর কাজ চলছে। চলতি বছরের শেষের দিকে চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে। আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে আংশিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে রয়েছে একটি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)। এর বাইরে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, সমবায়ী সংস্থাসহ আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঋণ বিতরণ করছে। এগুলোর কোনো ঋণ তথ্যভাণ্ডার নেই। ফলে একই গ্রাহক একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারছেন। এক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিচ্ছেন। এক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ শোধ করছেন। এতে ক্ষুদ্রঋণ খাতের শৃঙ্খলা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ঝুঁকিও বাড়ছে। এসব মোকাবেলা করার জন্যই ক্ষুদ্রঋণের জন্য আলাদা একটি সিআইবি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা ডিএফআইডির অর্থায়নে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবির আদলে ক্ষুদ্রঋণের সিআইবির জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এটি তৈরি করে এ বছরের শেষদিকে এমআরএর কাছে হস্তান্তর করবে। এর বাইরে সিআইবির অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ এমআরএ এগিয়ে নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সফটওয়্যার পেলেই তারা পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করবে। প্রথমে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে নিবন্ধন নিয়ে দেশে যারা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের কাছ থেকে নেয়া ঋণ গ্রহীতাদের যাবতীয় তথ্য নেয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণের বড় গ্রাহকদের তথ্য নেয়া হবে। মোট ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ রয়েছে বড় গ্রাহক। বিশেষ করে তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা। পরে অন্যান্য গ্রাহকদের তথ্য নেয়া হবে। এমআরএ সূত্র জানায়, পুরো সিআইবিটি হবে অনলাইনভিত্তিক।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির আদলেই এটি গড়ে তোলা হচ্ছে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবির সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণের সিআইবির একটি সংযোগ গড়ে তোলা হবে। ফল কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব ধরনের ঋণের তথ্যই সহজে পাবে। একই সঙ্গে সব ধরনের ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে সারা দেশে এমআরএ’র নিবন্ধন নিয়ে ৭৬৯টি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সারা দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ হাজার শাখা রয়েছে। গ্রাহক প্রায় ৩ কোটি। বছরে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে। আদায় করে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত