আইন লঙ্ঘনের হিড়িক বিশ্ববিদ্যালয়ে
jugantor
ইউজিসির চার সার্কুলারে সতর্কতা
আইন লঙ্ঘনের হিড়িক বিশ্ববিদ্যালয়ে
বেসরকারিতে কোটায় ভর্তিতে অনিয়ম * পাবলিকে লঙ্ঘিত হচ্ছে চাকরিবিধি * স্মার্টফোন কিনতে অক্ষম শিক্ষার্থীর তালিকার নির্দেশনা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)
ফাইল ছবি

দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে। এ অবস্থায় প্রায় দেড়শ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগাম টেনে ধরতে রোববার পৃথক চারটি সার্কুলার জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

এগুলোর মধ্যে দু’টিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিবিধি যথাযথ প্রয়োগ ও প্রতিপালন এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃতীয়টিতে স্মার্টফোন কেনায় অক্ষম অসচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আর চতুর্থটিতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং লেখাপড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র-মেধাবী কোটায় অনিয়ম বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইউজিসির পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট) মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ৪৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পাঠানো পৃথক তিন চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষক-কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক স্বীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি/প্রবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালন করা অবশ্য কর্তব্য।

চাকরিবিধি/প্রবিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিনানুমতিতে অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বা কোনো ধরনের লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন না।

কিন্তু কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিধান অমান্য করে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়াই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন।

আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন। এসব বিষয় কমিশনের দৃষ্টিতে এসেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি/প্রবিধি যথাযথ প্রতিপালনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য ভিসিদের অনুরোধ জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চাহিদা মতো প্রতি অর্থবছরে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে গবেষণা কার্যক্রম অন্যতম বিধায় কমিশন গবেষণা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে থাকে।

গবেষণা খাতের অর্থ গবেষণা কার্যক্রমে ব্যয় করার নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। এ বিষয়টিও কমিশনের দৃষ্টিতে এসেছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থ শুধু নির্বাচিত গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রমে ব্যয়ের নিশ্চয়তা বিধানের অনুরোধ করা হয়।

আরেক চিঠিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কমিশন ও ভিসিদের মধ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভিসিদের মতামতের ভিত্তিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে সব শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ডাটা সরবরাহ এবং সহজ শর্তে ঋণ বা মঞ্জুরির আওতায় স্মার্টফোন সুবিধার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য কমিশন থেকে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইস ক্রয়ে আর্থিক সক্ষমতা নেই, শুধু সেসব শিক্ষার্থীর নির্ভুল তালিকা ২৫ আগস্টের মধ্যে ইমেইলে (director-publicuniv-ugc.gov.bd) পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় : এদিকে আইন মেনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ৩ শতাংশ অসচ্ছল দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিনাবেতনে পাঠদান নিশ্চিতে ইউজিসি আরেকটি সার্কুলার জারি করেছে।

ইউজিসির পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই সার্কুলারে বলা হয়, কমিশন লক্ষ্য করছে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছয়ভাগ বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করছে না এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী এই সুযোগ প্রদান করছে, যা আইনের চরম ব্যত্যয়ের শামিল। বিনাবেতনে পড়ানোর ক্ষেত্রে আইন না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে ইউজিসি।

উল্লেখ্য, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটির ট্রাস্টি বোর্ড নিজ আত্মীয়স্বজনের সন্তানকে দরিদ্র দেখিয়ে বিনামূল্যে পড়াচ্ছেন। আবার বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিনাবেতনে অধ্যয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ইউজিসি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা নিজস্ব শর্ত জুড়ে নিয়ে তথ্য লুকিয়ে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করছে।

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই এই আইন লঙ্ঘন করছে। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নানাভাবে হয়রানি করছে। প্রথমে ভর্তির জন্য এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কাছ থেকে ভর্তির পুরো টাকা নেয়া হয়। পরে শর্ত দেয়া হয় বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পেতে হলে প্রতি সেমিস্টারে জিপিএ ৩ পেতে হবে। নইলে বিনাবেতনে পড়ানোর সুযোগ দেয়া হবে না।

অথচ আইন অনুযায়ী, ভর্তিকালে এবং পরবর্তীতে এক টাকাও নেয়া যাবে না। শতভাগ বিনা পয়সায় লেখাপড়া করাতে হবে। রাজধানীর সোবহানবাগে অবস্থিত ‘ড’ আদ্যক্ষরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বঞ্চিত করার অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব নীতিমালা করে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়ার শর্ত জুড়ে দেয়। সম্প্রতি ভর্তিকালে এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কাছ থেকে পরে ফেরত দেয়ার কথা বলে ৪৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। কিন্তু তা আর ফেরত দেয়া হয়নি।

ইউজিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এভাবে সেমিস্টারে নির্ধারিত পরিমাণ জিপিএ পাওয়ার শর্ত জুড়ে দেয়ায় এবং ভর্তিকালে টাকা নেয়ায় আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র পরিবারের অনেক সন্তান বঞ্চিত হচ্ছেন।

ইউজিসির চার সার্কুলারে সতর্কতা

আইন লঙ্ঘনের হিড়িক বিশ্ববিদ্যালয়ে

বেসরকারিতে কোটায় ভর্তিতে অনিয়ম * পাবলিকে লঙ্ঘিত হচ্ছে চাকরিবিধি * স্মার্টফোন কিনতে অক্ষম শিক্ষার্থীর তালিকার নির্দেশনা
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)
ফাইল ছবি

দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে। এ অবস্থায় প্রায় দেড়শ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগাম টেনে ধরতে রোববার পৃথক চারটি সার্কুলার জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

এগুলোর মধ্যে দু’টিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিবিধি যথাযথ প্রয়োগ ও প্রতিপালন এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃতীয়টিতে স্মার্টফোন কেনায় অক্ষম অসচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আর চতুর্থটিতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং লেখাপড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র-মেধাবী কোটায় অনিয়ম বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইউজিসির পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট) মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ৪৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পাঠানো পৃথক তিন চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষক-কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক স্বীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি/প্রবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালন করা অবশ্য কর্তব্য।

চাকরিবিধি/প্রবিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিনানুমতিতে অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বা কোনো ধরনের লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন না।

কিন্তু কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিধান অমান্য করে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়াই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন।

আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন। এসব বিষয় কমিশনের দৃষ্টিতে এসেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি/প্রবিধি যথাযথ প্রতিপালনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য ভিসিদের অনুরোধ জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চাহিদা মতো প্রতি অর্থবছরে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে গবেষণা কার্যক্রম অন্যতম বিধায় কমিশন গবেষণা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে থাকে।

গবেষণা খাতের অর্থ গবেষণা কার্যক্রমে ব্যয় করার নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। এ বিষয়টিও কমিশনের দৃষ্টিতে এসেছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থ শুধু নির্বাচিত গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রমে ব্যয়ের নিশ্চয়তা বিধানের অনুরোধ করা হয়।

আরেক চিঠিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কমিশন ও ভিসিদের মধ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভিসিদের মতামতের ভিত্তিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে সব শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ডাটা সরবরাহ এবং সহজ শর্তে ঋণ বা মঞ্জুরির আওতায় স্মার্টফোন সুবিধার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য কমিশন থেকে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইস ক্রয়ে আর্থিক সক্ষমতা নেই, শুধু সেসব শিক্ষার্থীর নির্ভুল তালিকা ২৫ আগস্টের মধ্যে ইমেইলে (director-publicuniv-ugc.gov.bd) পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় : এদিকে আইন মেনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ৩ শতাংশ অসচ্ছল দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিনাবেতনে পাঠদান নিশ্চিতে ইউজিসি আরেকটি সার্কুলার জারি করেছে।

ইউজিসির পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই সার্কুলারে বলা হয়, কমিশন লক্ষ্য করছে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছয়ভাগ বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করছে না এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী এই সুযোগ প্রদান করছে, যা আইনের চরম ব্যত্যয়ের শামিল। বিনাবেতনে পড়ানোর ক্ষেত্রে আইন না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে ইউজিসি।

উল্লেখ্য, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটির ট্রাস্টি বোর্ড নিজ আত্মীয়স্বজনের সন্তানকে দরিদ্র দেখিয়ে বিনামূল্যে পড়াচ্ছেন। আবার বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিনাবেতনে অধ্যয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ইউজিসি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা নিজস্ব শর্ত জুড়ে নিয়ে তথ্য লুকিয়ে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করছে।

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই এই আইন লঙ্ঘন করছে। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নানাভাবে হয়রানি করছে। প্রথমে ভর্তির জন্য এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কাছ থেকে ভর্তির পুরো টাকা নেয়া হয়। পরে শর্ত দেয়া হয় বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পেতে হলে প্রতি সেমিস্টারে জিপিএ ৩ পেতে হবে। নইলে বিনাবেতনে পড়ানোর সুযোগ দেয়া হবে না।

অথচ আইন অনুযায়ী, ভর্তিকালে এবং পরবর্তীতে এক টাকাও নেয়া যাবে না। শতভাগ বিনা পয়সায় লেখাপড়া করাতে হবে। রাজধানীর সোবহানবাগে অবস্থিত ‘ড’ আদ্যক্ষরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বঞ্চিত করার অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব নীতিমালা করে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়ার শর্ত জুড়ে দেয়। সম্প্রতি ভর্তিকালে এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কাছ থেকে পরে ফেরত দেয়ার কথা বলে ৪৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। কিন্তু তা আর ফেরত দেয়া হয়নি।

ইউজিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এভাবে সেমিস্টারে নির্ধারিত পরিমাণ জিপিএ পাওয়ার শর্ত জুড়ে দেয়ায় এবং ভর্তিকালে টাকা নেয়ায় আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র পরিবারের অনেক সন্তান বঞ্চিত হচ্ছেন।