স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সব নির্বাচনে অভিন্ন আইন হচ্ছে
jugantor
খসড়া আইন চূড়ান্ত
স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সব নির্বাচনে অভিন্ন আইন হচ্ছে
সিটির বদলে মহানগর সভা, পৌর বদলে নগরসভা * মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদবিও বদলে যাচ্ছে * নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না হলে ইসির সিদ্ধান্ত

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন
ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনায় অভিন্ন আইন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচন অভিন্ন আইনে করতে ইসি সচিবালয় আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আইন-২০২০’ শীর্ষক খসড়া আইনে প্রতিষ্ঠানের নাম ও নির্বাহীদের পদবি বদলের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নাম বদলে ‘মহানগর সভা’ রাখা হয়েছে। একইভাবে পৌরসভার নাম ‘নগরসভা’ ও ইউনিয়ন পরিষদের নাম ‘পল্লী পরিষদ’ রাখা হয়েছে। মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদবিও বদল করা হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, খসড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সব নির্বাচনে একই বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সমন্বয়ে এ নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। এতে সব প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বিধান থাকছে।

নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্বাচন না হলে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন না হলে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান নেই।

অভিন্ন নির্বাচন আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে একেক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে একেক ধরনের আইন আছে। আমরা স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনায় একই ধরনের আইন করতে যাচ্ছি। এতে বিদ্যমান আইন ও বিধির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ইংরেজি নামের বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে। এ কারণে নামে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এসব নাম ও পদবি সংসদেই চূড়ান্ত হবে।

খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশনের একান্ত আগ্রহে এ খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি পরিবর্তন ও পরিমার্জনের জন্য একজন কনসালট্যান্ট নিয়োগে প্রক্রিয়া চলছে। সোমবার খসড়া আইনটি কমিশন সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। কমিশন সভা থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ আইন পাস হলে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনের সংশোধনী আনার প্রয়োজন হবে। ওই সংশোধনগুলো করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

খসড়ায় বলা হয়েছে- স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯, উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮, জেলা পরিষদ আইন-২০০০, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ ও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ এ নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন অধ্যায় ও ধারা সংযুক্ত রয়েছে। ওইসব আইন থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিধানাবলি আলাদা করতে স্বতন্ত্র আইন করা হবে।

খসড়া আইনে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পদবিও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নাম অপরিবর্তিত থাকছে।

এতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পদবি বদলে ‘আধিকারিক’ ও পৌরসভার মেয়রদের পদবি ‘পুরাধ্যক্ষ’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরে প্রথমবার গঠন ও বাতিল হলেও ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন করতে না পারলে কী হবে তা খসড়ায় নতুন যুক্ত হয়েছে।

ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সিটি কর্পোরেশন, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অভিন্ন যোগ্যতা রাখা হয়েছে। তবে গতানুগতিক ধারা থেকে বের হতে পারেনি ইসি।

নির্বাচনী অপরাধের কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, বিদ্যমান উপজেলা আইনে বেআইনি কাজের জন্য সর্বনিম্ন ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং পৌরসভা আইনে সর্বনিম্ন ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজার বিধান রয়েছে।

কিন্তু খসড়া আইনের ৫৪ ধারায় এ অপরাধে সর্বনিম্ন ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনে ঘুষ গ্রহণের অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ডের বিধান খসড়া আইনে বহাল রাখা হয়েছে। জাল ভোট দেয়ার শাস্তিও আগের মতো ২ বছরই থাকছে।

ভোটগ্রহণ শুরুর আগে বা পরে সভা বা মিছিল করার অপরাধে খসড়া আইনের ৫৭ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে অন্যসব ধারায় বিদ্যমান আইনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইন চূড়ান্ত

স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সব নির্বাচনে অভিন্ন আইন হচ্ছে

সিটির বদলে মহানগর সভা, পৌর বদলে নগরসভা * মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদবিও বদলে যাচ্ছে * নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না হলে ইসির সিদ্ধান্ত
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
নির্বাচন কমিশন
ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনায় অভিন্ন আইন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচন অভিন্ন আইনে করতে ইসি সচিবালয় আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আইন-২০২০’ শীর্ষক খসড়া আইনে প্রতিষ্ঠানের নাম ও নির্বাহীদের পদবি বদলের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নাম বদলে ‘মহানগর সভা’ রাখা হয়েছে। একইভাবে পৌরসভার নাম ‘নগরসভা’ ও ইউনিয়ন পরিষদের নাম ‘পল্লী পরিষদ’ রাখা হয়েছে। মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদবিও বদল করা হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, খসড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সব নির্বাচনে একই বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সমন্বয়ে এ নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। এতে সব প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বিধান থাকছে।

নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্বাচন না হলে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন না হলে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান নেই।

অভিন্ন নির্বাচন আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে একেক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে একেক ধরনের আইন আছে। আমরা স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনায় একই ধরনের আইন করতে যাচ্ছি। এতে বিদ্যমান আইন ও বিধির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ইংরেজি নামের বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে। এ কারণে নামে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এসব নাম ও পদবি সংসদেই চূড়ান্ত হবে।

খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশনের একান্ত আগ্রহে এ খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি পরিবর্তন ও পরিমার্জনের জন্য একজন কনসালট্যান্ট নিয়োগে প্রক্রিয়া চলছে। সোমবার খসড়া আইনটি কমিশন সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। কমিশন সভা থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ আইন পাস হলে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনের সংশোধনী আনার প্রয়োজন হবে। ওই সংশোধনগুলো করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

খসড়ায় বলা হয়েছে- স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯, উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮, জেলা পরিষদ আইন-২০০০, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ ও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ এ নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন অধ্যায় ও ধারা সংযুক্ত রয়েছে। ওইসব আইন থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিধানাবলি আলাদা করতে স্বতন্ত্র আইন করা হবে।

খসড়া আইনে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পদবিও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নাম অপরিবর্তিত থাকছে।

এতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পদবি বদলে ‘আধিকারিক’ ও পৌরসভার মেয়রদের পদবি ‘পুরাধ্যক্ষ’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরে প্রথমবার গঠন ও বাতিল হলেও ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন করতে না পারলে কী হবে তা খসড়ায় নতুন যুক্ত হয়েছে।

ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সিটি কর্পোরেশন, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অভিন্ন যোগ্যতা রাখা হয়েছে। তবে গতানুগতিক ধারা থেকে বের হতে পারেনি ইসি।

নির্বাচনী অপরাধের কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, বিদ্যমান উপজেলা আইনে বেআইনি কাজের জন্য সর্বনিম্ন ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং পৌরসভা আইনে সর্বনিম্ন ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজার বিধান রয়েছে।

কিন্তু খসড়া আইনের ৫৪ ধারায় এ অপরাধে সর্বনিম্ন ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনে ঘুষ গ্রহণের অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ডের বিধান খসড়া আইনে বহাল রাখা হয়েছে। জাল ভোট দেয়ার শাস্তিও আগের মতো ২ বছরই থাকছে।

ভোটগ্রহণ শুরুর আগে বা পরে সভা বা মিছিল করার অপরাধে খসড়া আইনের ৫৭ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে অন্যসব ধারায় বিদ্যমান আইনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে।