সাতক্ষীরা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মান্নান বেপরোয়া
jugantor
সাতক্ষীরা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মান্নান বেপরোয়া
চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিছুই থামছে না

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আবদুল মান্নানের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব কিছুতেই থামছে না। এরই মধ্যে সদর উপজেলার বাকাল জেলেপাড়ায় হামলা এবং দেশ থেকে হিন্দু বিতাড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাকালের নিরঞ্জন মাখালের দায়ের করা মামলায় তাকে হন্যে হয়ে পুলিশ খুঁজছে।
ফাইল ছবি

সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আবদুল মান্নানের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব কিছুতেই থামছে না। এরই মধ্যে সদর উপজেলার বাকাল জেলেপাড়ায় হামলা এবং দেশ থেকে হিন্দু বিতাড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাকালের নিরঞ্জন মাখালের দায়ের করা মামলায় তাকে হন্যে হয়ে পুলিশ খুঁজছে।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ মান্নানকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক পদ থেকে ফের বহিষ্কার করে। এরপর সে গা ঢাকা দেয়।

আবদুল মান্নান ছিনতাইকারী থেকে এখন কোটিপতি। গাড়ি ও আলিশান বাড়ির মালিক। জেলার বিভিন্ন স্থানে জমি দখল, ঘের দখল, বাড়ি দখল, খুনখারাবি, চোরাচালান, মারামারি কোনো কিছুতেই পিছিয়ে নেই আবদুল মান্নান।

আবদুল মান্নান ১৯৯২ সালে জেল থেকে জামিনে বাড়ি ফিরে আসা এক ব্যক্তির দুই হাতের কব্জি দায়ের কোপে কেটে ফেলেন। সেই থেকে তার নাম ‘হাতকাটা মান্নান’। সেই হাতকাটা মান্নান রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। তার রয়েছে বিশাল বাহিনী। এ বাহিনী যখন ইচ্ছা তখন যে কোনো নেতার হয়ে কাজ করেন।

২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা চলাকালে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে আবদুল মান্নান তার বাহিনী নিয়ে হামলা করেন। এতে যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাসহ অন্তত কুড়িজন আহত হন। এ ঘটনায় গ্রেফতার হন আবদুল মান্নান। এরপর থেকে আবদুল মান্নান ফের আলোচনায় আসেন। তবে এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন আবদুল মান্নান।

১৯৯২ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মন্তাজ সরদারের ছেলে আবুল হাসান ওরফে ডাক্তার হাসান একটি মামলায় জেলে যান। জেল থেকে জামিনে আসার পর আবদুল মান্নান ভোরে সাহরি খাওয়ার সময় তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে এনে দুই হাতের কব্জি কেটে নেন। দুই কব্জি হারানো ডাক্তার এখন বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তি করেন। এ ঘটনায় মান্নানের ১০ বছর জেল হয়।

সাতক্ষীরা সিটি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ২০০৭ সালে আবদুল মান্নান যুবলীগে যোগ দেন। কিছুদিনের মাথায় তিনি হয়ে উঠেন জেলা যুবলীগের নেতা। সেসময় তার সন্ত্রাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। আবদুল মান্নান সদর উপজেলার আবাদেরহাটের গোপাল ঘোষাল পরিবারের জমি দখল করে নেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দৈনিক যুগান্তরে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশের পর আবদুল মান্নান যুবলীগ থেকে বহিষ্কার হন।

আবদুল মান্নান একজন চোরাচালানি। তার বেনামে রয়েছে সীমান্তে ভারতীয় গরুর খাটাল। এসব খাটাল থেকে তিনি নিয়মিত বখরা আদায় করেন।

২০১২ সালে সাতক্ষীরা সিটি কলেজে প্রভাববিস্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন আবদুল মান্নান। এ সময় তিনি গণপিটুনির শিকার হন। পরে পুলিশ তাকে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাই চেষ্টার।

২০১০-২০১১ সালে আবদুল মান্নান হাতে রাম দা নিয়ে সাতক্ষীরা বাসটার্মিনালে হামলা চালিয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীর কাজ করেন। তার এ হামলার কারণে সাতক্ষীরা বাস মালিক সমিতিতে পরিবর্তন আসে। সাতক্ষীরা বাসটার্মিনাল এখন তার নিয়ন্ত্রণে।

দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আবদুল মান্নান সাতক্ষীরা সিটি কলেজের পাশে জমি কেনেন। তিনি তার জমি পেছনে রেখে সামনে থাকা জমির এক ভুয়া মালিক সাজিয়ে প্রতিবন্ধী দিনমজুর ফয়জুর রহমানের জমি দখল করে নেন। সেখানেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক আলিশান বাড়ি। এ নিয়ে প্রতিবন্ধী ফয়জুর রহমান সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানান তিনি মামলা করেও জমি দখল নিতে পারছেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দীর্ঘদিন বহিষ্কৃত থাকার পর ফের রাজনৈতিক তদবিরে আবদুল মান্নান জেলা যুবলীগের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক হন ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর। তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও তা না করায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তারা এ কমিটি বাতিল ও মান্নানের বহিষ্কার দাবি করে শহরে মিছিল করেন।

কিছুদিন আগে ভুয়া মালিক সাজিয়ে সাতক্ষীরা শহরতলির রসুলপুরে আফরোজা বেগম ও তার স্বজনদের ৩০ শতক ও ৭৬ শতক জমি দখল করে নেন আবদুল মান্নান। তিনি সেখানে যুবলীগের সাইনবোর্ড তুলে দেন। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে একটি সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে তার সহযোগী সাগর হোসেনও ওই জমি দখল করে নিয়েছেন। আবদুল মান্নান দৈনিক যুগান্তরের সাবেক সম্পাদক আবেদ খানের জমিও দখল করার চেষ্টা করেন। তবে এতে তিনি ব্যর্থ হন। এ সময় তিনি ফের যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন।

আবদুল মান্নান এখন পুলিশের তাড়া খেয়ে পালিয়ে থাকায় এসব বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ৫ আগস্ট তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিনিধির। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, তা সত্য নয়। আগে তার সঙ্গে প্রায়ই এ বিষয়ে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, খাটালে আমার টাকা আছে। তাই সেখানকার আয়ের ভাগ তো আমি পাবই। আমি কারও জমি দখল করিনি , মালিকের কাছ থেকেই জমি কিনেছি। এসব বিষয়ে আমি পাল্টা প্রেস কনফারেন্স করে আমার বক্তব্য দিয়েছি। ঘের, জমি দখল, সন্ত্রাস সৃষ্টি- যা-ই বলুন এগুলো আমি করি না। আমি সাংবাদিক আবেদ খানের জমি দখল করতে যাব কেন। আমি ছিনতাইকারী ছিলাম না কখনও। বাকালে জেলেপাড়ায় হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় তার একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে। তারাই তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করে আসছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সাতক্ষীরা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মান্নান বেপরোয়া

চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিছুই থামছে না
 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আবদুল মান্নানের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব কিছুতেই থামছে না। এরই মধ্যে সদর উপজেলার বাকাল জেলেপাড়ায় হামলা এবং দেশ থেকে হিন্দু বিতাড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাকালের নিরঞ্জন মাখালের দায়ের করা মামলায় তাকে হন্যে হয়ে পুলিশ খুঁজছে।
ফাইল ছবি

সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আবদুল মান্নানের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব কিছুতেই থামছে না। এরই মধ্যে সদর উপজেলার বাকাল জেলেপাড়ায় হামলা এবং দেশ থেকে হিন্দু বিতাড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাকালের নিরঞ্জন মাখালের দায়ের করা মামলায় তাকে হন্যে হয়ে পুলিশ খুঁজছে।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ মান্নানকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক পদ থেকে ফের বহিষ্কার করে। এরপর সে গা ঢাকা দেয়।

আবদুল মান্নান ছিনতাইকারী থেকে এখন কোটিপতি। গাড়ি ও আলিশান বাড়ির মালিক। জেলার বিভিন্ন স্থানে জমি দখল, ঘের দখল, বাড়ি দখল, খুনখারাবি, চোরাচালান, মারামারি কোনো কিছুতেই পিছিয়ে নেই আবদুল মান্নান।

আবদুল মান্নান ১৯৯২ সালে জেল থেকে জামিনে বাড়ি ফিরে আসা এক ব্যক্তির দুই হাতের কব্জি দায়ের কোপে কেটে ফেলেন। সেই থেকে তার নাম ‘হাতকাটা মান্নান’। সেই হাতকাটা মান্নান রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। তার রয়েছে বিশাল বাহিনী। এ বাহিনী যখন ইচ্ছা তখন যে কোনো নেতার হয়ে কাজ করেন।

২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা চলাকালে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে আবদুল মান্নান তার বাহিনী নিয়ে হামলা করেন। এতে যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাসহ অন্তত কুড়িজন আহত হন। এ ঘটনায় গ্রেফতার হন আবদুল মান্নান। এরপর থেকে আবদুল মান্নান ফের আলোচনায় আসেন। তবে এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন আবদুল মান্নান।

১৯৯২ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মন্তাজ সরদারের ছেলে আবুল হাসান ওরফে ডাক্তার হাসান একটি মামলায় জেলে যান। জেল থেকে জামিনে আসার পর আবদুল মান্নান ভোরে সাহরি খাওয়ার সময় তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে এনে দুই হাতের কব্জি কেটে নেন। দুই কব্জি হারানো ডাক্তার এখন বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবৃত্তি করেন। এ ঘটনায় মান্নানের ১০ বছর জেল হয়।

সাতক্ষীরা সিটি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ২০০৭ সালে আবদুল মান্নান যুবলীগে যোগ দেন। কিছুদিনের মাথায় তিনি হয়ে উঠেন জেলা যুবলীগের নেতা। সেসময় তার সন্ত্রাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। আবদুল মান্নান সদর উপজেলার আবাদেরহাটের গোপাল ঘোষাল পরিবারের জমি দখল করে নেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দৈনিক যুগান্তরে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশের পর আবদুল মান্নান যুবলীগ থেকে বহিষ্কার হন।

আবদুল মান্নান একজন চোরাচালানি। তার বেনামে রয়েছে সীমান্তে ভারতীয় গরুর খাটাল। এসব খাটাল থেকে তিনি নিয়মিত বখরা আদায় করেন।

২০১২ সালে সাতক্ষীরা সিটি কলেজে প্রভাববিস্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন আবদুল মান্নান। এ সময় তিনি গণপিটুনির শিকার হন। পরে পুলিশ তাকে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাই চেষ্টার।

২০১০-২০১১ সালে আবদুল মান্নান হাতে রাম দা নিয়ে সাতক্ষীরা বাসটার্মিনালে হামলা চালিয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীর কাজ করেন। তার এ হামলার কারণে সাতক্ষীরা বাস মালিক সমিতিতে পরিবর্তন আসে। সাতক্ষীরা বাসটার্মিনাল এখন তার নিয়ন্ত্রণে।

দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আবদুল মান্নান সাতক্ষীরা সিটি কলেজের পাশে জমি কেনেন। তিনি তার জমি পেছনে রেখে সামনে থাকা জমির এক ভুয়া মালিক সাজিয়ে প্রতিবন্ধী দিনমজুর ফয়জুর রহমানের জমি দখল করে নেন। সেখানেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক আলিশান বাড়ি। এ নিয়ে প্রতিবন্ধী ফয়জুর রহমান সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানান তিনি মামলা করেও জমি দখল নিতে পারছেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দীর্ঘদিন বহিষ্কৃত থাকার পর ফের রাজনৈতিক তদবিরে আবদুল মান্নান জেলা যুবলীগের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক হন ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর। তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও তা না করায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তারা এ কমিটি বাতিল ও মান্নানের বহিষ্কার দাবি করে শহরে মিছিল করেন।

কিছুদিন আগে ভুয়া মালিক সাজিয়ে সাতক্ষীরা শহরতলির রসুলপুরে আফরোজা বেগম ও তার স্বজনদের ৩০ শতক ও ৭৬ শতক জমি দখল করে নেন আবদুল মান্নান। তিনি সেখানে যুবলীগের সাইনবোর্ড তুলে দেন। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে একটি সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে তার সহযোগী সাগর হোসেনও ওই জমি দখল করে নিয়েছেন। আবদুল মান্নান দৈনিক যুগান্তরের সাবেক সম্পাদক আবেদ খানের জমিও দখল করার চেষ্টা করেন। তবে এতে তিনি ব্যর্থ হন। এ সময় তিনি ফের যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন।

আবদুল মান্নান এখন পুলিশের তাড়া খেয়ে পালিয়ে থাকায় এসব বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ৫ আগস্ট তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিনিধির। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, তা সত্য নয়। আগে তার সঙ্গে প্রায়ই এ বিষয়ে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, খাটালে আমার টাকা আছে। তাই সেখানকার আয়ের ভাগ তো আমি পাবই। আমি কারও জমি দখল করিনি , মালিকের কাছ থেকেই জমি কিনেছি। এসব বিষয়ে আমি পাল্টা প্রেস কনফারেন্স করে আমার বক্তব্য দিয়েছি। ঘের, জমি দখল, সন্ত্রাস সৃষ্টি- যা-ই বলুন এগুলো আমি করি না। আমি সাংবাদিক আবেদ খানের জমি দখল করতে যাব কেন। আমি ছিনতাইকারী ছিলাম না কখনও। বাকালে জেলেপাড়ায় হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় তার একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে। তারাই তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করে আসছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।