বাউফল আ’লীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত
jugantor
পদ পেয়েছে বহিষ্কৃত জোড়া খুন মামলার আসামিও
বাউফল আ’লীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত

  আকতার ফারুক শাহিন, বাউফল (পটুয়াখালী) থেকে  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর বাউফলে ২ আগস্ট নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগের দুই কর্মী রুমান ও ইশরাতকে। এই জোড়া খুনের মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লাভলুকে। পরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।
ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর বাউফলে ২ আগস্ট নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগের দুই কর্মী রুমান ও ইশরাতকে। এই জোড়া খুনের মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লাভলুকে। পরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

অথচ এর ঠিক ৪ দিন পর ঘোষিত বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য পদ পেয়েছেন লাভলু। এছাড়া উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রদল এবং শিবিরের সাবেক নেতারা।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করা নেতাদের ছেলেরাও ঠাঁই পেয়েছেন কমিটিতে। এর বিপরীতে বাদ পড়েছেন ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা।

বিষয়টি নিয়ে বাউফলে তোলপাড় চললেও সদ্য ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, কোনো অনুপ্রবেশকারী নেই কমিটিতে। যা বলা হচ্ছে তার সবটাই অপপ্রচার।

১৯৭৯ সাল থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। দলের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগত অনুসারীদের নিয়ে চলার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পুরনো।

এ নিয়ে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ-হামলা নিত্যদিনের ঘটনা। অভ্যন্তরীণ বিরোধের এসব ঘটনায় চলতি মাসে খুন হয়েছেন যুবলীগের দুই সক্রিয় কর্মী। এর আগে ২৪ মে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আরও একজনকে।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের উদ্দেশ্যে দায়ের হওয়া মামলার কারণে যখন দলের বহু নেতাকর্মী আত্মগোপনে, ঠিক সেই সময় ৬ আগস্ট ঘোষণা হল বাউফল উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়নগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঘোষণা হয়েছিল উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম। যথারীতি ফিরোজ হন সভাপতি ও মোতালেব হাওলাদার সাধারণ সম্পাদক। ফিরোজপুত্র রায়হান সাকিবের নাম সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে ঘোষণা হলেও পরে কেন্দ্রের নির্দেশে বাদ দেয়া হয় তাকে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেখানে স্থবির, সেখানে হঠাৎ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণারও কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।

দলের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ পাওয়া ইব্রাহিম ফারুক ছিলেন বাউফল ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের মনোনীত প্যানেলের জিএস। জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রসমাজের আহ্বায়কও ছিলেন তিনি।

ওইসময় তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ে হামলা চালানোর বহু ইতিহাস রয়েছে। কেবল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিই নয়, ইব্রাহিম ফারুককে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদও দেয়া হয়েছে।

কাছিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী বাবুল আক্তারকে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত আলাউদ্দিন সিকদারের ছেলে মো. নেছার উদ্দিন জামালকে করা হয়েছে কালিশুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদও পেয়েছেন জামাল। ধূলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আনিচুর রহমান রবকে। এই রব ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তার নেতৃত্বে ধূলিয়া ইউনিয়নে অনেক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে ধূলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জহির উদ্দিন বাবর ওরফে বাবুলকে। একসময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এই বাবুল ছিলেন ১৯৭২ সালে বাউফলের কালিশুরী পুলিশ ক্যাম্প লুট এবং ক্যাম্পের সুবেদার খলিলুর রহমানকে হত্যা মামলার আসামি।

৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্বাহী ক্ষমতাবলে ওই মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। বাউফল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে মনিরুল ইসলামকে। যিনি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা এবং বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির স্থানীয় এমপির পিএস।

বিএনপি-জামাতের আমলে স্থানীয় এমপি শহিদুল আলমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত রত্তন আলী মৃধাকে করা হয়েছে নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই ইউনিয়নে দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা আলমগীর সরদারকে। বাউফল পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবুল কালাম খানকে করা হয়েছে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য।

আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম তালুকদার ছিলেন বিএনপির সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের একসময়কার ডান হাত। ওইসময় এই রফিকুলের নির্যাতনে বাড়িছাড়া হয়েছিলেন মদনপুরা ইউনিয়নের বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।

জোট সরকারের সময়ে শিবিরের সক্রিয় নেতা মো. ইউসুফকে করা হয়েছে বাউফল পৌর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজুল ইসলাম সিকদারকেও দেয়া হয়েছে সদস্য পদ।

পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন জামায়াতের রোকন মরহুম আবদুস সত্তারের ছেলে লুৎফর রহমান খোকন। এ ছাড়াও ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে জামায়াত-বিএনপির আরও অনেক সাবেক নেতাকে দিয়ে অলংকৃত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পদ।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জসিম উদ্দিন ফরাজি বলেন, পাঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর থেকে ’৭৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তথা শেখ পরিবার প্রশ্নে কার কী ভূমিকা ছিল, তার খোঁজ নিলেই বাউফলে বর্তমানে আওয়ামী লীগ কাদের হাতে, সেটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। দলের ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এভাবে পদ বিলানোর কারণেই আজ এখানে দলের এমন অবস্থা। আমরা এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

সদ্য ঘোষিত কমিটির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বাউফলের উপজেলা চেয়ারম্যান আ. মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘এটা ঠিক যে কমিটিতে বিএনপির অনেক সাবেক নেতা রয়েছেন। তবে তারা কেউই আজন্ম বিএনপি করেনি। সবাই-ই একসময় ছিল আওয়ামী লীগে। বিএনপি’র আমলে এরা নানা কারণে দল ছেড়েছিল।

এখন আবার সবাই আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছে। দলে ফিরে আসার কারণেই তারা পদ-পদবি পেয়েছে। তাছাড়া জামায়াত এবং রাজাকারপুত্র হিসেবে যাদের বলা হচ্ছে, তাদের বাবা যে জামায়াত কিংবা রাজাকার ছিল তার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বাউফলে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। এখানে দলের অভ্যন্তরে কোনো বিভাজন নেই।’

পদ পেয়েছে বহিষ্কৃত জোড়া খুন মামলার আসামিও

বাউফল আ’লীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত

 আকতার ফারুক শাহিন, বাউফল (পটুয়াখালী) থেকে 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালীর বাউফলে ২ আগস্ট নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগের দুই কর্মী রুমান ও ইশরাতকে। এই জোড়া খুনের মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লাভলুকে। পরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।
ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর বাউফলে ২ আগস্ট নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগের দুই কর্মী রুমান ও ইশরাতকে। এই জোড়া খুনের মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লাভলুকে। পরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

অথচ এর ঠিক ৪ দিন পর ঘোষিত বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য পদ পেয়েছেন লাভলু। এছাড়া উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রদল এবং শিবিরের সাবেক নেতারা।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করা নেতাদের ছেলেরাও ঠাঁই পেয়েছেন কমিটিতে। এর বিপরীতে বাদ পড়েছেন ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা।

বিষয়টি নিয়ে বাউফলে তোলপাড় চললেও সদ্য ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, কোনো অনুপ্রবেশকারী নেই কমিটিতে। যা বলা হচ্ছে তার সবটাই অপপ্রচার।

১৯৭৯ সাল থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। দলের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগত অনুসারীদের নিয়ে চলার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পুরনো।

এ নিয়ে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ-হামলা নিত্যদিনের ঘটনা। অভ্যন্তরীণ বিরোধের এসব ঘটনায় চলতি মাসে খুন হয়েছেন যুবলীগের দুই সক্রিয় কর্মী। এর আগে ২৪ মে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আরও একজনকে।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের উদ্দেশ্যে দায়ের হওয়া মামলার কারণে যখন দলের বহু নেতাকর্মী আত্মগোপনে, ঠিক সেই সময় ৬ আগস্ট ঘোষণা হল বাউফল উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়নগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঘোষণা হয়েছিল উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম। যথারীতি ফিরোজ হন সভাপতি ও মোতালেব হাওলাদার সাধারণ সম্পাদক। ফিরোজপুত্র রায়হান সাকিবের নাম সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে ঘোষণা হলেও পরে কেন্দ্রের নির্দেশে বাদ দেয়া হয় তাকে।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেখানে স্থবির, সেখানে হঠাৎ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণারও কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।

দলের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ পাওয়া ইব্রাহিম ফারুক ছিলেন বাউফল ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের মনোনীত প্যানেলের জিএস। জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্রসমাজের আহ্বায়কও ছিলেন তিনি।

ওইসময় তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ে হামলা চালানোর বহু ইতিহাস রয়েছে। কেবল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিই নয়, ইব্রাহিম ফারুককে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদও দেয়া হয়েছে।

কাছিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী বাবুল আক্তারকে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত আলাউদ্দিন সিকদারের ছেলে মো. নেছার উদ্দিন জামালকে করা হয়েছে কালিশুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদও পেয়েছেন জামাল। ধূলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আনিচুর রহমান রবকে। এই রব ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তার নেতৃত্বে ধূলিয়া ইউনিয়নে অনেক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে ধূলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জহির উদ্দিন বাবর ওরফে বাবুলকে। একসময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এই বাবুল ছিলেন ১৯৭২ সালে বাউফলের কালিশুরী পুলিশ ক্যাম্প লুট এবং ক্যাম্পের সুবেদার খলিলুর রহমানকে হত্যা মামলার আসামি।

৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্বাহী ক্ষমতাবলে ওই মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। বাউফল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে মনিরুল ইসলামকে। যিনি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা এবং বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির স্থানীয় এমপির পিএস।

বিএনপি-জামাতের আমলে স্থানীয় এমপি শহিদুল আলমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত রত্তন আলী মৃধাকে করা হয়েছে নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই ইউনিয়নে দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা আলমগীর সরদারকে। বাউফল পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবুল কালাম খানকে করা হয়েছে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য।

আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম তালুকদার ছিলেন বিএনপির সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের একসময়কার ডান হাত। ওইসময় এই রফিকুলের নির্যাতনে বাড়িছাড়া হয়েছিলেন মদনপুরা ইউনিয়নের বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।

জোট সরকারের সময়ে শিবিরের সক্রিয় নেতা মো. ইউসুফকে করা হয়েছে বাউফল পৌর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজুল ইসলাম সিকদারকেও দেয়া হয়েছে সদস্য পদ।

পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন জামায়াতের রোকন মরহুম আবদুস সত্তারের ছেলে লুৎফর রহমান খোকন। এ ছাড়াও ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে জামায়াত-বিএনপির আরও অনেক সাবেক নেতাকে দিয়ে অলংকৃত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পদ।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জসিম উদ্দিন ফরাজি বলেন, পাঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর থেকে ’৭৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তথা শেখ পরিবার প্রশ্নে কার কী ভূমিকা ছিল, তার খোঁজ নিলেই বাউফলে বর্তমানে আওয়ামী লীগ কাদের হাতে, সেটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। দলের ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এভাবে পদ বিলানোর কারণেই আজ এখানে দলের এমন অবস্থা। আমরা এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

সদ্য ঘোষিত কমিটির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বাউফলের উপজেলা চেয়ারম্যান আ. মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘এটা ঠিক যে কমিটিতে বিএনপির অনেক সাবেক নেতা রয়েছেন। তবে তারা কেউই আজন্ম বিএনপি করেনি। সবাই-ই একসময় ছিল আওয়ামী লীগে। বিএনপি’র আমলে এরা নানা কারণে দল ছেড়েছিল।

এখন আবার সবাই আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছে। দলে ফিরে আসার কারণেই তারা পদ-পদবি পেয়েছে। তাছাড়া জামায়াত এবং রাজাকারপুত্র হিসেবে যাদের বলা হচ্ছে, তাদের বাবা যে জামায়াত কিংবা রাজাকার ছিল তার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বাউফলে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। এখানে দলের অভ্যন্তরে কোনো বিভাজন নেই।’