খরচের লাগাম টানা হচ্ছে ছয় খাতে
jugantor
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা
খরচের লাগাম টানা হচ্ছে ছয় খাতে
কাটছাঁট হবে ২৫-৫০ শতাংশ * সাশ্রয়ের লক্ষ্য ৩২৭০ কোটি টাকা

  মিজান চৌধুরী  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান করোনাভাইরাসে কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে জ্বালানি ব্যয়সহ আরও ৬ খাতে খরচের লাগাম টেনে ধরা হচ্ছে। অন্য খাতগুলো হচ্ছে- আইসিটি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, সরকারি মোটরজান মেরামত, আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটা।

এসব খাতে চলতি বাজেটের (২০২০-২১) মোট বরাদ্দের ২৫-৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হচ্ছে। এতে সাশ্রয় হবে ৩২৭০ কোটি টাকা। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের লাগাম টানা হচ্ছে আসবাবপত্র কেনাকাটা ও আইসিটি খাতে। এ দুটি খাতে বাজেটে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ কমানো হচ্ছে। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পরিবহনে জ্বালানির ব্যবহার কমানো হবে ২৫ শতাংশ।

পাশাপাশি চাকরিজীবীদের প্রশিক্ষণ খাতে ২৫ শতাংশ, মোটরজান মেরামত খাতে ২৫ শতাংশ এবং অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটায় কমছে ২৫ শতাংশ খরচ। শিগগিরই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে। 

এর আগে কৃচ্ছ সাধনের বেশকিছু পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ব্যয় হ্রাস, পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়ের অওতায় যানবাহন ক্রয় এবং চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিআইডিএস-এর সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কোনো খাতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় কাম্য নয়। ইতোমধ্যে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে।

করোনা সেবায় হাসপাতালের থাকার বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। করোনা মোকাবেলায় খরচ করতে হবে। এর অর্থ এ নয় যে অর্থের অপব্যবহার করতে হবে। অর্থ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোয় যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার ব্যয়, আসবাবপত্র কেনাকাটা কমানোর মধ্য দিয়ে অর্থ অপব্যবহার বেশি হয়।

এটি স্থগিত করার পরিকল্পনাকে আমি সমর্থন করি। তবে সরকারকে রাজস্ব আহরণের দিকে মনোযোগী হতে হবে। কারণ সরকারের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা দেশে মন্দা অর্থনীতিতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমবে।

অপরদিকে বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যয়- এ দুই সমন্বয়ে বড় ভূমিকা রাখবে কৃচ্ছ সাধনের সাশ্রয়ী অর্থ।

ব্যয় কমানো প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোভিট-১৯ এর কারণে বিভিন্ন খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। এটি মোকাবেলা করতে কয়েকটি খাতে খরচ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

পাশাপাশি ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আগামী জানুয়ারিতে গিয়ে পরিস্থিতি বোঝা যাবে খরচ কমানোর কারণে ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে কি না।

ওই সময় রাজস্ব আদায় ভালো হলে এসব খাতে স্থগিত করা অর্থ পুনরায় ছাড় করা হবে। অর্থাৎ স্থগিত আদেশ তুলে নেয়া হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাজেট থেকে অপ্রয়োজনীয় এবং কম গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে ব্যয় কাটছাঁট করার দায়িত্ব দেয়া হয় বাজেট শাখাকে।

সেখান থেকে পর্যালোচনা করে ব্যয় কমানোর খাত, টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে অর্থ সচিব বরাবর একটি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৬টি খাতে ৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকার ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

অবশ্য চলতি বাজেটে এসব খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া আছে ১০ হাজার ৫০ কোটি টাকা। 

সূত্র আরও জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ আছে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। এর থেকে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৯৮০ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।

দ্বিতীয় ব্যয় কাটছাঁটের তালিকায় আছে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অফিসের আসবাবপত্র কেনাকাটায়। এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ আছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ওই হিসাবে এখানে সাশ্রয় হবে প্রায় ৮৫৫ কোটি টাকা। 

একইভাবে তৃতীয় ব্যয় কমানোর খাত বেছে নেয়া হয়েছে আইসিটিকে। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ প্রায় ৩ হাজার ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে বাজেটে। প্রস্তাবনায় বলা হয়, এ খাতে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬১ কোটি টাকা ব্যয় কমানো যেতে পারে।

আর চতুর্থ খাত হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার পরিবহনের জ্বালানির (পেট্রোল, ওয়েল ও লুব্রিকেন্ট) ২৫ শতাংশ ব্যবহার কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে সরকারের সাশ্রয় হবে ৫৫০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে জ্বালানির খরচ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ হাজার ১২০ কোটি টাকা।

এছাড়া ব্যয় কমানোর পঞ্চম খাতে আছে অফিস সরঞ্জাম ক্রয় এবং ষষ্ঠ খাত হচ্ছে মোটরজান মেরামত। অফিস সরঞ্জাম খাতে ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ১১৬ কোটি টাকার। এ খাতে মোট বরাদ্দ আছে ৪৬৫ কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ধরে ব্যয় কাটছাঁট করা হচ্ছে। আর সর্বশেষ মোটরযান মেরামত খাতে ব্যয় কমছে ১০৮ কোটি টাকা। এ খাতে ২৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোটরযান মেরামত বাবদ মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৪৩৪ কোটি টাকা।
 

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা

খরচের লাগাম টানা হচ্ছে ছয় খাতে

কাটছাঁট হবে ২৫-৫০ শতাংশ * সাশ্রয়ের লক্ষ্য ৩২৭০ কোটি টাকা
 মিজান চৌধুরী 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান করোনাভাইরাসে কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে জ্বালানি ব্যয়সহ আরও ৬ খাতে খরচের লাগাম টেনে ধরা হচ্ছে। অন্য খাতগুলো হচ্ছে- আইসিটি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, সরকারি মোটরজান মেরামত, আসবাবপত্র ও অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটা।

এসব খাতে চলতি বাজেটের (২০২০-২১) মোট বরাদ্দের ২৫-৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হচ্ছে। এতে সাশ্রয় হবে ৩২৭০ কোটি টাকা। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

আরও জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের লাগাম টানা হচ্ছে আসবাবপত্র কেনাকাটা ও আইসিটি খাতে। এ দুটি খাতে বাজেটে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ কমানো হচ্ছে। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পরিবহনে জ্বালানির ব্যবহার কমানো হবে ২৫ শতাংশ।

পাশাপাশি চাকরিজীবীদের প্রশিক্ষণ খাতে ২৫ শতাংশ, মোটরজান মেরামত খাতে ২৫ শতাংশ এবং অফিস সরঞ্জাম কেনাকাটায় কমছে ২৫ শতাংশ খরচ। শিগগিরই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।

এর আগে কৃচ্ছ সাধনের বেশকিছু পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ব্যয় হ্রাস, পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়ের অওতায় যানবাহন ক্রয় এবং চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিআইডিএস-এর সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কোনো খাতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় কাম্য নয়। ইতোমধ্যে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে।

করোনা সেবায় হাসপাতালের থাকার বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। করোনা মোকাবেলায় খরচ করতে হবে। এর অর্থ এ নয় যে অর্থের অপব্যবহার করতে হবে। অর্থ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোয় যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার ব্যয়, আসবাবপত্র কেনাকাটা কমানোর মধ্য দিয়ে অর্থ অপব্যবহার বেশি হয়।

এটি স্থগিত করার পরিকল্পনাকে আমি সমর্থন করি। তবে সরকারকে রাজস্ব আহরণের দিকে মনোযোগী হতে হবে। কারণ সরকারের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা দেশে মন্দা অর্থনীতিতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমবে।

অপরদিকে বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যয়- এ দুই সমন্বয়ে বড় ভূমিকা রাখবে কৃচ্ছ সাধনের সাশ্রয়ী অর্থ।

ব্যয় কমানো প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোভিট-১৯ এর কারণে বিভিন্ন খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। এটি মোকাবেলা করতে কয়েকটি খাতে খরচ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

পাশাপাশি ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আগামী জানুয়ারিতে গিয়ে পরিস্থিতি বোঝা যাবে খরচ কমানোর কারণে ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে কি না।

ওই সময় রাজস্ব আদায় ভালো হলে এসব খাতে স্থগিত করা অর্থ পুনরায় ছাড় করা হবে। অর্থাৎ স্থগিত আদেশ তুলে নেয়া হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাজেট থেকে অপ্রয়োজনীয় এবং কম গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে ব্যয় কাটছাঁট করার দায়িত্ব দেয়া হয় বাজেট শাখাকে।

সেখান থেকে পর্যালোচনা করে ব্যয় কমানোর খাত, টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে অর্থ সচিব বরাবর একটি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৬টি খাতে ৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকার ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

অবশ্য চলতি বাজেটে এসব খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া আছে ১০ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ আছে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। এর থেকে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৯৮০ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।

দ্বিতীয় ব্যয় কাটছাঁটের তালিকায় আছে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অফিসের আসবাবপত্র কেনাকাটায়। এ খাতে বাজেটে বরাদ্দ আছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ওই হিসাবে এখানে সাশ্রয় হবে প্রায় ৮৫৫ কোটি টাকা।

একইভাবে তৃতীয় ব্যয় কমানোর খাত বেছে নেয়া হয়েছে আইসিটিকে। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ প্রায় ৩ হাজার ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে বাজেটে। প্রস্তাবনায় বলা হয়, এ খাতে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬১ কোটি টাকা ব্যয় কমানো যেতে পারে।

আর চতুর্থ খাত হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার পরিবহনের জ্বালানির (পেট্রোল, ওয়েল ও লুব্রিকেন্ট) ২৫ শতাংশ ব্যবহার কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে সরকারের সাশ্রয় হবে ৫৫০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে জ্বালানির খরচ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ হাজার ১২০ কোটি টাকা।

এছাড়া ব্যয় কমানোর পঞ্চম খাতে আছে অফিস সরঞ্জাম ক্রয় এবং ষষ্ঠ খাত হচ্ছে মোটরজান মেরামত। অফিস সরঞ্জাম খাতে ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ১১৬ কোটি টাকার। এ খাতে মোট বরাদ্দ আছে ৪৬৫ কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ধরে ব্যয় কাটছাঁট করা হচ্ছে। আর সর্বশেষ মোটরযান মেরামত খাতে ব্যয় কমছে ১০৮ কোটি টাকা। এ খাতে ২৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোটরযান মেরামত বাবদ মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৪৩৪ কোটি টাকা।