পোস্টিং পাচ্ছেন সুলতানা পারভীনসহ ৩ কর্মকর্তা
jugantor
কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন
পোস্টিং পাচ্ছেন সুলতানা পারভীনসহ ৩ কর্মকর্তা

  উবায়দুল্লাহ বাদল  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনসহ তিন কর্মকর্তা শিগগিরই পদায়ন পেতে যাচ্ছেন। অন্য দিকে ঘটনার অন্যতম নায়ক সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক আরডিসি নাজিম উদ্দিন স্থায়ীভাবে চাকরি হারাতে পারেন।

গত ১৩ মার্চ সংঘটিত ওই ঘটনার দু’দিন পর ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও দুই সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা এবং এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস পর বৃহস্পতিবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয় নাজিম উদ্দিনকে। একই ঘটনায় রোববার ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেন সুলতানা পারভীন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। তিনি সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেত না। তখন বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ত।

আর এ সময়ের মধ্যেই আমরা তার আগের কর্মস্থলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। সে সব জায়গায় চাকরির নিয়ম-কানুন অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। তাই সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। চূড়ান্তভাবে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘আরডিসি নাজিম উদ্দিন কুড়িগ্রামের আগেও যেসব স্টেশনে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি সেখানেই কোনো না কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন। এমন সব কর্মকাণ্ড করেছেন তাতে সরকার তথা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। তাকে কোথাও পদায়ন করা হলে তিনি আরও অনেক ঘটনা ঘটাতে পারেন। প্রশাসন তার কাজে আরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে। এদিকে আরডিসি নাজিম উদ্দিনের সম্পদের হিসাব চেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই ঘটনায় কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘অন্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। মামলা শেষে অপরাধী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের আগের কর্মস্থলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। নাজিমের মতো অন্যদের খারাপ রেকর্ড পাওয়া যায়নি।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মধ্যরাতে সাংবাদিক আটক ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সংক্রান্ত বিভাগীয় মামলার অভিযোগের জবাবে সুলতানা পারভীন দাবি করেছেন- ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। মোবাইল ফোনে আসা ‘মিসড’ কল নম্বরে পরের দিন সকালে ফোন দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিবের কাছ থেকে প্রথম ঘটনা শুনেছেন। অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতিও চেয়েছেন তিনি। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সুলতানা পারভীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে।

তাদের মধ্যে এর আগে সহকারী কমিশনার ও মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলাম বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। সাজা দেয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের অভিযানকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রোববার তার বিভাগীয় মামলার শুনানিতে এসব দাবি করেছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। যা বলার তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে বলেছি।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা এবং এসএম রাহাতুল ইসলামকে পোস্টিং দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি তাদের বিষয়ে বিভাগীয় মামলার শুনানিও চলবে। কারও অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনসহ অন্য তিন কর্মকর্তাকে পদায়নের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভাগীয় মামলা চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদায়ন করতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই। প্রশাসনে এ ধরনের অনেক নজির রয়েছে।’ কবে নাগাদ এসব বিভাগীয় মামলার শুনানি সম্পন্ন হবে- জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘আরও ২-৩ মাসের মতো সময় লাগতে পারে।’

গত ১৩ মার্চ কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট এক বছরের কারাদণ্ড দেন। তার বাড়িতে আধা বোতল মদ এবং গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে

একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচার হলে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও দুই সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সেই মামলায় আনা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সুলতানা পারভীন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলায় সুলতানা পারভীনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর জবাবে তিনি বলেছেন, পত্রিকাগুলো কিসের ভিত্তিতে এ অভিযোগ করেছে তা তার বোধগম্য না। তিনি কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেননি বলে জানিয়েছেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা দেননি। এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে জেলা প্রশাসক নিজে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না।

প্রতি মাসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা থাকায় মাসের শুরুতে ডিসি অফিসে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কোর্ট পরিচালনার সিডিউল প্রস্তুত করে তাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর নেয়া হয়। ওই সিডিউলের বাইরে অন্য কোনো তারিখে কোর্ট পরিচালনা করতে হলে তা অবশ্যই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করতে হয়। ওই দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। ঘটনার পরে তিনি নথি তলব করে জেনেছেন প্রসিকিউশন পক্ষ ছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। একজন অফিসারসহ ছয়জন পুলিশ ও চারজন ব্যাটালিয়ন আনসার কোর্ট পরিচালনার সময় ছিলেন।

সুলতানা পারভীন ২০১৮ সালের ৩ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত দুই বছর কুড়িগ্রামের ডিসি ছিলেন। বর্তমানে পরবর্তী পদায়নের জন্য তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রয়েছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে পরপর দুই বছর তিনি শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন।

কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন

পোস্টিং পাচ্ছেন সুলতানা পারভীনসহ ৩ কর্মকর্তা

 উবায়দুল্লাহ বাদল 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনসহ তিন কর্মকর্তা শিগগিরই পদায়ন পেতে যাচ্ছেন। অন্য দিকে ঘটনার অন্যতম নায়ক সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক আরডিসি নাজিম উদ্দিন স্থায়ীভাবে চাকরি হারাতে পারেন।

গত ১৩ মার্চ সংঘটিত ওই ঘটনার দু’দিন পর ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও দুই সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা এবং এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস পর বৃহস্পতিবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয় নাজিম উদ্দিনকে। একই ঘটনায় রোববার ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেন সুলতানা পারভীন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। তিনি সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেত না। তখন বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ত।

আর এ সময়ের মধ্যেই আমরা তার আগের কর্মস্থলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। সে সব জায়গায় চাকরির নিয়ম-কানুন অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। তাই সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। চূড়ান্তভাবে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘আরডিসি নাজিম উদ্দিন কুড়িগ্রামের আগেও যেসব স্টেশনে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি সেখানেই কোনো না কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন। এমন সব কর্মকাণ্ড করেছেন তাতে সরকার তথা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। তাকে কোথাও পদায়ন করা হলে তিনি আরও অনেক ঘটনা ঘটাতে পারেন। প্রশাসন তার কাজে আরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে। এদিকে আরডিসি নাজিম উদ্দিনের সম্পদের হিসাব চেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই ঘটনায় কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘অন্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। মামলা শেষে অপরাধী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের আগের কর্মস্থলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। নাজিমের মতো অন্যদের খারাপ রেকর্ড পাওয়া যায়নি।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মধ্যরাতে সাংবাদিক আটক ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সংক্রান্ত বিভাগীয় মামলার অভিযোগের জবাবে সুলতানা পারভীন দাবি করেছেন- ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। মোবাইল ফোনে আসা ‘মিসড’ কল নম্বরে পরের দিন সকালে ফোন দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিবের কাছ থেকে প্রথম ঘটনা শুনেছেন। অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতিও চেয়েছেন তিনি। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সুলতানা পারভীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে।

তাদের মধ্যে এর আগে সহকারী কমিশনার ও মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলাম বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। সাজা দেয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের অভিযানকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রোববার তার বিভাগীয় মামলার শুনানিতে এসব দাবি করেছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। যা বলার তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে বলেছি।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা এবং এসএম রাহাতুল ইসলামকে পোস্টিং দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি তাদের বিষয়ে বিভাগীয় মামলার শুনানিও চলবে। কারও অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনসহ অন্য তিন কর্মকর্তাকে পদায়নের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভাগীয় মামলা চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদায়ন করতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ নেই। প্রশাসনে এ ধরনের অনেক নজির রয়েছে।’ কবে নাগাদ এসব বিভাগীয় মামলার শুনানি সম্পন্ন হবে- জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘আরও ২-৩ মাসের মতো সময় লাগতে পারে।’

গত ১৩ মার্চ কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট এক বছরের কারাদণ্ড দেন। তার বাড়িতে আধা বোতল মদ এবং গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে

একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচার হলে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও দুই সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সেই মামলায় আনা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সুলতানা পারভীন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলায় সুলতানা পারভীনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর জবাবে তিনি বলেছেন, পত্রিকাগুলো কিসের ভিত্তিতে এ অভিযোগ করেছে তা তার বোধগম্য না। তিনি কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেননি বলে জানিয়েছেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা দেননি। এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে জেলা প্রশাসক নিজে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না।

প্রতি মাসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা থাকায় মাসের শুরুতে ডিসি অফিসে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কোর্ট পরিচালনার সিডিউল প্রস্তুত করে তাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর নেয়া হয়। ওই সিডিউলের বাইরে অন্য কোনো তারিখে কোর্ট পরিচালনা করতে হলে তা অবশ্যই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করতে হয়। ওই দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। ঘটনার পরে তিনি নথি তলব করে জেনেছেন প্রসিকিউশন পক্ষ ছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। একজন অফিসারসহ ছয়জন পুলিশ ও চারজন ব্যাটালিয়ন আনসার কোর্ট পরিচালনার সময় ছিলেন।

সুলতানা পারভীন ২০১৮ সালের ৩ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত দুই বছর কুড়িগ্রামের ডিসি ছিলেন। বর্তমানে পরবর্তী পদায়নের জন্য তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রয়েছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে পরপর দুই বছর তিনি শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন।