সিইসি ও সচিবের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ ৪ কমিশনারের
jugantor
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের খসড়া
সিইসি ও সচিবের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ ৪ কমিশনারের
ঝুলে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে শুরু * ঢাকা-১৮ ও পাবনা-৪ আসনে ভোটের তফসিল ২৪ আগস্ট

  কাজী জেবেল  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সচিবের ওপর আবারও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন চার নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আইন-২০২০’ এর খসড়া কমিশনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

কমিশনারদের না জানিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে- এসব ঘটনায় তারা এ খেদ প্রকাশ করেন। খসড়া আইনে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রচলিত নাম ও পদবি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

সোমবার নির্বাচন কমিশনের ৬৭তম সভায় প্রকাশ্যে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই সভায় সিইসি কমিশনারদের নিবৃত এবং বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেয়ার চেষ্টা করেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা যায়, এর আগে কমিশনে নিয়োগ ও কমিশনারদের পাশ কাটিয়ে ফাইল অনুমোদন দেয়া নিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে চার কমিশনার একযোগে সিইসি ও সচিবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

এবার খসড়া আইন নিয়ে ইসি সচিবালয়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ আনলেন তারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন নিয়ে ২৩ বা ২৪ আগস্ট আবারও বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ওই সভায় ঢাকা-১৮ ও পাবনা-৪ আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এছাড়া বৈঠকে ঝুলে থাকা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচন অক্টোবর থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক বসে যাওয়ার ১৮০ দিন অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয় সভায়।

কমিশন সভায় চার কমিশনারের ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা কিছু বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

কিন্তু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তারা বলেননি। ওনারা স্পেসিফিক বিষয়ে বক্তব্য রাখলে আমরা এর জবাব দিতে পারতাম।

আইন সংস্কার কমিটিকে পাশ কাটিয়ে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য তোলার বিষয়ে সচিব বলেন, কমিশনারদের জানানোর জন্যই কমিশন সভায় আইনের খসড়া তোলা হয়েছে।

এখন তারা নির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী কাজ হবে। কমিশনকে অবহিত না করে কর্মকর্তা বদলির বিষয়ে সচিব বলেন, কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বদলি করা হবে, তা নির্ধারিত রয়েছে। এটা সিইসির এখতিয়ার। আর সচিব হিসেবে আমার জবাবদিহিতা সিইসির কাছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সোমবার নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আইন-২০২০’ এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এরপরই কনিষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রথমে এই আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা নিয়ে তার ক্ষোভের কথা জানান। এরপর অনেকটাই একই সুরে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, মো. রফিকুল ইসলাম ও মাহবুব তালুকদার।

তারা বলেন, আইনের খসড়ার কপি আগে নির্বাচন কমিশনারদেরও দেয়া হয়নি। সরাসরি অনুমোদনের জন্য সভায় তোলা হয়েছে। কমিশন সচিবালয়ের ওপর নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। সভায় কথা কাটাকাটি ও উচ্চৈঃস্বরেও বক্তব্য রাখেন কোনো কোনো কমিশনার। 

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সভায় বলেন, কমিশন সচিবালয় ও সচিবের ওপর আমাদের (নির্বাচন কমিশনার) নিয়ন্ত্রণ নেই। খসড়া আইনে কমিশনের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।

আমরা কমিশন সচিবালয়ের ওপরই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারছি না, অন্যদের ওপর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করব? খসড়া আইনে সিটি কর্পোরেশনের নাম বদলে ‘মহানগর সভা’, পৌরসভার নাম ‘নগরসভা’ ও ইউনিয়ন পরিষদের নাম ‘পল্লী পরিষদ’ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এ কমিশনার প্রচলিত শব্দ পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। 

আইন সংস্কার কমিটিকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় সরকার আইনের খসড়া করায় সভায় উষ্মা প্রকাশ করেন আইন সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। আর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য থাকা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধনের আগে নতুন আইন প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। সভায় তিনি বলেন, আরপিওতে প্রচলিত ইংরেজি শব্দের পরিবর্তন এনে বাংলা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

সেটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ইসিতে না আসার আগ পর্যন্ত আরেকটি আইনে কেন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে খসড়া তৈরি করছি। সরকার আরপিও সংশোধন অনুমোদন না দিলে এটিও দেবে না। পুরো পরিশ্রমই বৃথা হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনারদের না জানিয়ে কর্মকর্তা বদলি প্রসঙ্গে এ কমিশনার বলেন, ঢাকার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সিলেটে বদলি করা হল আবার সিলেটের আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে বদলি করে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) করা হল। অথচ আমরা জানি না। কর্মকর্তাদের ফোন করার পর শুনলাম তাদের দফতর পরিবর্তন হয়েছে। 

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সভায় বাংলা একাডেমির অভিধান দেখিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবি প্রচলিত ইংরেজি। এর অনেক বাংলা শব্দ দুর্বোধ্য। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হলে বিদ্যমান বিভিন্ন আইন ও বিধিমালায় সংশোধন আনতে হবে। এতে কাগজের অপচয় হবে। 

চার কমিশনারদের এসব প্রশ্নের জবাবে সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, পঞ্চায়েত থেকে ইউনিয়ন পরিষদ এসেছে। তখনও নাম পরিবর্তন হওয়ায় সবাই তা মেনে নিয়েছে। এখনও মেনে নেবে। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা পেয়েছে।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর কমিশনারদের ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেসব ফাইল কমিশনের অনুমোদন করার কথা সেগুলো কমিশনে পাঠানো হয়।

এমনকি যেসব ফাইল সচিব পর্যায়ে অনুমোদন দেয়ার কথা, সেসব ফাইলের অনেক কিছুই কমিশনে পাঠানো হয়। বদলির বিষয়ে কমিশনের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) সভায় জানান, প্রতিটি বদলি আদেশের পর ইন্টারনাল ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়। 

কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব আইনের খসড়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, খসড়া কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ২৩ ও ২৪ আগস্টে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে এটি তৈরি করে ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মহলে মতামতের জন্য পাঠানো হবে।
 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের খসড়া

সিইসি ও সচিবের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ ৪ কমিশনারের

ঝুলে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে শুরু * ঢাকা-১৮ ও পাবনা-৪ আসনে ভোটের তফসিল ২৪ আগস্ট
 কাজী জেবেল 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সচিবের ওপর আবারও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন চার নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আইন-২০২০’ এর খসড়া কমিশনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

কমিশনারদের না জানিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে- এসব ঘটনায় তারা এ খেদ প্রকাশ করেন। খসড়া আইনে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রচলিত নাম ও পদবি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

সোমবার নির্বাচন কমিশনের ৬৭তম সভায় প্রকাশ্যে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই সভায় সিইসি কমিশনারদের নিবৃত এবং বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেয়ার চেষ্টা করেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা যায়, এর আগে কমিশনে নিয়োগ ও কমিশনারদের পাশ কাটিয়ে ফাইল অনুমোদন দেয়া নিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে চার কমিশনার একযোগে সিইসি ও সচিবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

এবার খসড়া আইন নিয়ে ইসি সচিবালয়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ আনলেন তারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন নিয়ে ২৩ বা ২৪ আগস্ট আবারও বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ওই সভায় ঢাকা-১৮ ও পাবনা-৪ আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এছাড়া বৈঠকে ঝুলে থাকা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচন অক্টোবর থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক বসে যাওয়ার ১৮০ দিন অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয় সভায়।

কমিশন সভায় চার কমিশনারের ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা কিছু বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

কিন্তু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তারা বলেননি। ওনারা স্পেসিফিক বিষয়ে বক্তব্য রাখলে আমরা এর জবাব দিতে পারতাম।

আইন সংস্কার কমিটিকে পাশ কাটিয়ে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য তোলার বিষয়ে সচিব বলেন, কমিশনারদের জানানোর জন্যই কমিশন সভায় আইনের খসড়া তোলা হয়েছে।

এখন তারা নির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী কাজ হবে। কমিশনকে অবহিত না করে কর্মকর্তা বদলির বিষয়ে সচিব বলেন, কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বদলি করা হবে, তা নির্ধারিত রয়েছে। এটা সিইসির এখতিয়ার। আর সচিব হিসেবে আমার জবাবদিহিতা সিইসির কাছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সোমবার নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন আইন-২০২০’ এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এরপরই কনিষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রথমে এই আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা নিয়ে তার ক্ষোভের কথা জানান। এরপর অনেকটাই একই সুরে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, মো. রফিকুল ইসলাম ও মাহবুব তালুকদার।

তারা বলেন, আইনের খসড়ার কপি আগে নির্বাচন কমিশনারদেরও দেয়া হয়নি। সরাসরি অনুমোদনের জন্য সভায় তোলা হয়েছে। কমিশন সচিবালয়ের ওপর নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। সভায় কথা কাটাকাটি ও উচ্চৈঃস্বরেও বক্তব্য রাখেন কোনো কোনো কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সভায় বলেন, কমিশন সচিবালয় ও সচিবের ওপর আমাদের (নির্বাচন কমিশনার) নিয়ন্ত্রণ নেই। খসড়া আইনে কমিশনের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।

আমরা কমিশন সচিবালয়ের ওপরই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারছি না, অন্যদের ওপর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করব? খসড়া আইনে সিটি কর্পোরেশনের নাম বদলে ‘মহানগর সভা’, পৌরসভার নাম ‘নগরসভা’ ও ইউনিয়ন পরিষদের নাম ‘পল্লী পরিষদ’ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এ কমিশনার প্রচলিত শব্দ পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আইন সংস্কার কমিটিকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় সরকার আইনের খসড়া করায় সভায় উষ্মা প্রকাশ করেন আইন সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। আর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য থাকা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধনের আগে নতুন আইন প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। সভায় তিনি বলেন, আরপিওতে প্রচলিত ইংরেজি শব্দের পরিবর্তন এনে বাংলা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

সেটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ইসিতে না আসার আগ পর্যন্ত আরেকটি আইনে কেন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে খসড়া তৈরি করছি। সরকার আরপিও সংশোধন অনুমোদন না দিলে এটিও দেবে না। পুরো পরিশ্রমই বৃথা হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনারদের না জানিয়ে কর্মকর্তা বদলি প্রসঙ্গে এ কমিশনার বলেন, ঢাকার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সিলেটে বদলি করা হল আবার সিলেটের আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে বদলি করে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) করা হল। অথচ আমরা জানি না। কর্মকর্তাদের ফোন করার পর শুনলাম তাদের দফতর পরিবর্তন হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সভায় বাংলা একাডেমির অভিধান দেখিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবি প্রচলিত ইংরেজি। এর অনেক বাংলা শব্দ দুর্বোধ্য। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হলে বিদ্যমান বিভিন্ন আইন ও বিধিমালায় সংশোধন আনতে হবে। এতে কাগজের অপচয় হবে।

চার কমিশনারদের এসব প্রশ্নের জবাবে সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, পঞ্চায়েত থেকে ইউনিয়ন পরিষদ এসেছে। তখনও নাম পরিবর্তন হওয়ায় সবাই তা মেনে নিয়েছে। এখনও মেনে নেবে। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা পেয়েছে।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর কমিশনারদের ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেসব ফাইল কমিশনের অনুমোদন করার কথা সেগুলো কমিশনে পাঠানো হয়।

এমনকি যেসব ফাইল সচিব পর্যায়ে অনুমোদন দেয়ার কথা, সেসব ফাইলের অনেক কিছুই কমিশনে পাঠানো হয়। বদলির বিষয়ে কমিশনের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) সভায় জানান, প্রতিটি বদলি আদেশের পর ইন্টারনাল ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়।

কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব আইনের খসড়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, খসড়া কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ২৩ ও ২৪ আগস্টে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে এটি তৈরি করে ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মহলে মতামতের জন্য পাঠানো হবে।