ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার বন্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
jugantor
ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক
ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার বন্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ পাচারের বড় অংশই হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্যভিত্তিক বা আমদানি-রফতানির মাধ্যমে।

এক্ষেত্রে রফতানির মূল্য কম দেখিয়ে বা বিদেশ থেকে রফতানির মূল্য দেশে না এনে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া আমদানির মূল্য বেশি দেখিয়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার বন্ধে পণ্যের মূল্য তদারকির বিষয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ গড়ে তোলার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে একটি ডাটাবেজ গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে সোমবার জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান ও সরকারি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বলা হয়, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য বেশি দেখিয়ে অর্থ পাচার বেশি হচ্ছে। এর বাইরে অন্যান্য আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যমূল্য বেশি দেখিয়ে ও রফতানির মূল্য কম দেখিয়ে বা দেশে না এনে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। বিএফআইইউ থেকে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার প্রতিরোধে একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এটি ব্যাংকগুলোকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলে বাণিজ্যভিত্তিক মুদ্রা পাচার কমে যাবে।

বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের বড় মাধ্যম হিসেবে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অর্থ পাচার বন্ধে তিনি ব্যাংকগুলোকে নীতিমালার বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও দক্ষতা অর্জনের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে তিনি ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের পদক্ষেপ দিতে বলেন।

সেন্টাল ডাটাবেজ করে আমদানি-রফতানির পণ্যমূল্য যথার্থতা নিরূপণ করা যায় কিনা সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিএফআইইউ বা অন্যান্য সংস্থাকে তিনি পরামর্শ দেন। যে কোনো উপায়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে হবে। কেননা অর্থ পাচার হয়ে গেলে ফেরত আনা কঠিন। পাচার করা অর্থ ফেরত পাঠাতে উন্নত দেশগুলোর ভূমিকা স্বচ্ছ নয়। তাদের আগ্রহ ও অঙ্গীকারের মধ্যে যথেষ্ট ঘাটতি আছে। অর্থ পাচার হয়ে গেলে সেগুলো ফেরত আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে অর্থ পাচার বন্ধ করতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউর প্রধান রাজী হাসান বলেন, বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ’ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এগুলোর বাস্তবায়ন ও কঠোর তদারকি করা হলে অর্থ পাচার কমে যাবে।

বৈঠকে ব্যাংকাররা বলেন, বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। যে কারণে এ খাতে অর্থ পাচারের ঝুঁকি বেশি। একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন করে তা থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম তদারকি করার প্রস্তাব দেন তারা।

বৈঠকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস উল ইসলাম বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো বিশেষ করে সরকারি খাতের এলসি নিয়েই বেশি কাজ করে। ফলে অর্থ পাচারের আশঙ্কা কম। তবে বেসরকারি এলসির ক্ষেত্রে তদারকি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষি ব্যাংকের এমডি আলী হোসেন প্রধানীয়া অর্থ পাচার প্রতিরোধে ভেসেল ট্র্যাকিং ও কনটেইনার ট্র্যাকিং করার প্রস্তাব দেন। আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং প্রতিরোধে ব্যাংকের নিজস্ব ডাটাবেজের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় একটি ডাটাবেজ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, অর্থ পাচার যথাযথভাবে প্রতিরোধ করতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের পাশাপাশি অন্য সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক

ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার বন্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ পাচারের বড় অংশই হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্যভিত্তিক বা আমদানি-রফতানির মাধ্যমে।

এক্ষেত্রে রফতানির মূল্য কম দেখিয়ে বা বিদেশ থেকে রফতানির মূল্য দেশে না এনে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া আমদানির মূল্য বেশি দেখিয়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার বন্ধে পণ্যের মূল্য তদারকির বিষয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ গড়ে তোলার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে একটি ডাটাবেজ গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে সোমবার জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান ও সরকারি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বলা হয়, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য বেশি দেখিয়ে অর্থ পাচার বেশি হচ্ছে। এর বাইরে অন্যান্য আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যমূল্য বেশি দেখিয়ে ও রফতানির মূল্য কম দেখিয়ে বা দেশে না এনে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। বিএফআইইউ থেকে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার প্রতিরোধে একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এটি ব্যাংকগুলোকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলে বাণিজ্যভিত্তিক মুদ্রা পাচার কমে যাবে।

বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের বড় মাধ্যম হিসেবে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অর্থ পাচার বন্ধে তিনি ব্যাংকগুলোকে নীতিমালার বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও দক্ষতা অর্জনের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে তিনি ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের পদক্ষেপ দিতে বলেন।

সেন্টাল ডাটাবেজ করে আমদানি-রফতানির পণ্যমূল্য যথার্থতা নিরূপণ করা যায় কিনা সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিএফআইইউ বা অন্যান্য সংস্থাকে তিনি পরামর্শ দেন। যে কোনো উপায়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে হবে। কেননা অর্থ পাচার হয়ে গেলে ফেরত আনা কঠিন। পাচার করা অর্থ ফেরত পাঠাতে উন্নত দেশগুলোর ভূমিকা স্বচ্ছ নয়। তাদের আগ্রহ ও অঙ্গীকারের মধ্যে যথেষ্ট ঘাটতি আছে। অর্থ পাচার হয়ে গেলে সেগুলো ফেরত আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে অর্থ পাচার বন্ধ করতে ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউর প্রধান রাজী হাসান বলেন, বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ’ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এগুলোর বাস্তবায়ন ও কঠোর তদারকি করা হলে অর্থ পাচার কমে যাবে।

বৈঠকে ব্যাংকাররা বলেন, বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন। যে কারণে এ খাতে অর্থ পাচারের ঝুঁকি বেশি। একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন করে তা থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম তদারকি করার প্রস্তাব দেন তারা।

বৈঠকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস উল ইসলাম বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো বিশেষ করে সরকারি খাতের এলসি নিয়েই বেশি কাজ করে। ফলে অর্থ পাচারের আশঙ্কা কম। তবে বেসরকারি এলসির ক্ষেত্রে তদারকি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষি ব্যাংকের এমডি আলী হোসেন প্রধানীয়া অর্থ পাচার প্রতিরোধে ভেসেল ট্র্যাকিং ও কনটেইনার ট্র্যাকিং করার প্রস্তাব দেন। আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং প্রতিরোধে ব্যাংকের নিজস্ব ডাটাবেজের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় একটি ডাটাবেজ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, অর্থ পাচার যথাযথভাবে প্রতিরোধ করতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের পাশাপাশি অন্য সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।