সাত দিনের রিমান্ডে সাহেদ
jugantor
সাত দিনের রিমান্ডে সাহেদ
ঋণ পেতে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১১ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েস সাতদিনের রিমান্ড আদেশ দেন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২৭ জুলাই সাহেদসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক।

রিমান্ড শুনানি উপলক্ষে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতেই বিচারকের উদ্দেশ্যে সাহেদ বলেন, ‘আমার আইনজীবী আসছেন, অনুগ্রহ করে একটু অপেক্ষা করুন।’ বিচারক ১৫ মিনিট সময় দেন। এরপর আইনজীবী না আসায় সাহেদ নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘আমি ২০ দিন রিমান্ডে ছিলাম। আরও ২৮ দিনের রিমান্ড পেন্ডিং আছে। আমি অসুস্থ, আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’ দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের এমআরআই মেশিন কেনার জন্য হাসপাতালটির পক্ষে সাহেদ দুই কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু তিনি সেই মেশিন না কিনে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি ঋণ পেতে তিনি ৩৫ লাখ টাকা ঘুষও দিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এর সঙ্গে আর কে কে জড়িত, তা জানা যাবে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির রিমান্ডের আদেশ দেন।

ঋণ পেতে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ : মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ জানান, সাহেদ ঋণ পেতে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের এমআরআই মেশিন কেনার জন্য এক কোটি টাকার এফডিআর মর্টগেজ রেখে দুই কোটি টাকা ঋণ নেন সাহেদ। ঋণের টাকায় এমআরআই মেশিন না কিনে ভুয়া ক্রয় দেখিয়ে সাহেদ টাকা স্থানান্তর করেন। ঋণের মঞ্জুরিপত্র ইস্যুর আগেই সাহেদ পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক দ্য ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড) বকশীগঞ্জ শাখার বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে নগদ ৩৫ লাখ টাকা জমা করেন (গুলশান কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে)। এরপর ওই টাকা ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি উত্তোলন করেন বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাশেদুল হক চিশতী। বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেড মূলত পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী/অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। মো. মাহবুবুল হক চিশতী, তার ছেলে মো. রাশেদুল হক চিশতী ও বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। ঋণগ্রহীতার সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকের অনুকূলে মঞ্জুরিপত্র ইস্যুর আগে বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের হিসাবে নগদ ৩৫ লাখ টাকা গ্রহণ এবং তা উত্তোলন করায় প্রমাণিত হয়, মো. রাশেদুল হক চিশতী আর্থিক সুবিধা/উৎকোচ গ্রহণ করে তার বাবা মো. মাহবুবুল হক চিশতীর মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট হাসপাতালকে অবৈধভাবে ঋণ পাইয়ে দেন।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে প্রতারণা মামলায় ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন এ মামলায় তার ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ রিমান্ড শেষে ২৬ জুলাই সাহেদের ঢাকার অপর চার মামলায় ২৮ দিন ও সাতক্ষীরার এক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

সাত দিনের রিমান্ডে সাহেদ

ঋণ পেতে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েস সাতদিনের রিমান্ড আদেশ দেন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২৭ জুলাই সাহেদসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক।

রিমান্ড শুনানি উপলক্ষে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতেই বিচারকের উদ্দেশ্যে সাহেদ বলেন, ‘আমার আইনজীবী আসছেন, অনুগ্রহ করে একটু অপেক্ষা করুন।’ বিচারক ১৫ মিনিট সময় দেন। এরপর আইনজীবী না আসায় সাহেদ নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘আমি ২০ দিন রিমান্ডে ছিলাম। আরও ২৮ দিনের রিমান্ড পেন্ডিং আছে। আমি অসুস্থ, আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’ দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের এমআরআই মেশিন কেনার জন্য হাসপাতালটির পক্ষে সাহেদ দুই কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু তিনি সেই মেশিন না কিনে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি ঋণ পেতে তিনি ৩৫ লাখ টাকা ঘুষও দিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এর সঙ্গে আর কে কে জড়িত, তা জানা যাবে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির রিমান্ডের আদেশ দেন।

ঋণ পেতে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ : মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ জানান, সাহেদ ঋণ পেতে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের এমআরআই মেশিন কেনার জন্য এক কোটি টাকার এফডিআর মর্টগেজ রেখে দুই কোটি টাকা ঋণ নেন সাহেদ। ঋণের টাকায় এমআরআই মেশিন না কিনে ভুয়া ক্রয় দেখিয়ে সাহেদ টাকা স্থানান্তর করেন। ঋণের মঞ্জুরিপত্র ইস্যুর আগেই সাহেদ পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক দ্য ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড) বকশীগঞ্জ শাখার বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে নগদ ৩৫ লাখ টাকা জমা করেন (গুলশান কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে)। এরপর ওই টাকা ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি উত্তোলন করেন বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাশেদুল হক চিশতী। বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেড মূলত পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী/অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। মো. মাহবুবুল হক চিশতী, তার ছেলে মো. রাশেদুল হক চিশতী ও বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। ঋণগ্রহীতার সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকের অনুকূলে মঞ্জুরিপত্র ইস্যুর আগে বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের হিসাবে নগদ ৩৫ লাখ টাকা গ্রহণ এবং তা উত্তোলন করায় প্রমাণিত হয়, মো. রাশেদুল হক চিশতী আর্থিক সুবিধা/উৎকোচ গ্রহণ করে তার বাবা মো. মাহবুবুল হক চিশতীর মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট হাসপাতালকে অবৈধভাবে ঋণ পাইয়ে দেন।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে প্রতারণা মামলায় ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন এ মামলায় তার ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ রিমান্ড শেষে ২৬ জুলাই সাহেদের ঢাকার অপর চার মামলায় ২৮ দিন ও সাতক্ষীরার এক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।