নির্মাণের সাত বছরেও চালু হয়নি ৪ লাইটারেজ জেটি
jugantor
চট্টগ্রাম বন্দর
নির্মাণের সাত বছরেও চালু হয়নি ৪ লাইটারেজ জেটি
সংযোগ সড়ক জটিলতায় আটকে আছে অপারেশনাল কার্যক্রম

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্মাণের সাত বছর পরও চালু হয়নি চট্টগ্রাম বন্দরের ৪টি লাইটারেজ জেটি। বছরখানেক আগে চারটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া এসব জেটি এখনও পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করে দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ফলে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো জেটি ব্যবহার করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালে সদরঘাটে চারটি লাইটারেজ জেটি নির্মাণ করা হয়। ওই এলাকায় বালি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জেটিগুলো ব্যবহার করা যায়নি। ২০১৮ সালে নতুন করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হওয়ার পর বালি অপসারণ করে জেটি জাহাজ ভেড়ার উপযোগী করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক সংস্কার না হওয়ায় অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান যুগান্তরকে জানান, নতুন ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় সদরঘাটে অবস্থিত চার লাইটারেজ জেটির বালি অপসারণ করে ৪ মিটার গভীর করা হয়েছে। ফলে এসব জেটিতে এখন অনায়াসেই লাইটার জাহাজ (অভ্যন্তরীণ রুটের পণ্যবাহী জাহাজ) ভিড়তে পারবে। গত জুনে পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল রুটের দুটি জাহাজ ভিড়িয়ে ড্রাফট পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা সফল হয়েছে। এখন জেটি চারটি জাহাজ ভেড়ানোর সম্পূর্ণ উপযোগী। ড্রেজিং শেষে জেটিগুলো বন্দরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাইটিংসহ অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজ সহসাই শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করা হলেও দুটি কারণে জেটি চালু করা যাচ্ছে না। কয়েকদিন আগে বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বৈঠক করেছে। সেখানে তারা দুটি বিষয় তুলে ধরেছে। এর একটি হল সংযোগ সড়ক। জেটি থেকে পণ্যবাহী বড় বড় লরি যদি ফিরিঙ্গি বাজার দিয়ে বের হয়, তাহলে জ্যাম লেগে যেতে পারে। এজন্য বরাদ্দ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো কার শেডের পাশ দিয়ে ইউটার্ন করে সদরঘাট থেকে মাঝিরঘাট দিয়ে বের হয়ে যেতে চায়। তাহলে ফিরিঙ্গিবাজার সড়কে চাপ পড়বে না। দ্বিতীয় বিষয়টি হল- সদরঘাটে একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল রয়েছে। বড় বড় লরির সঙ্গে এদিক দিয়ে যদি যাত্রী আসা-যাওয়া করে তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে একটি ফুটওভারব্রিজ করলে এই আশঙ্কা থাকবে না। এ দুটি কাজ করে দিলে বরাদ্দ গ্রহীতারা অপারেশনাল কাজ শুরু করতে পারবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।’

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালে ২২৯ কোটি টাকার কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাজ পায় মালয়েশিয়ান মেরিটাইম অ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সদরঘাট এলাকায় লাইটার জেটি নির্মাণসহ কিছু কাজ করলেও ২০১৩ সালে পুরো কাজ না করেই চলে যায় মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে এই অভিযোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি জটিলতার কারণে প্রায় পাঁচ বছর বন্ধ থাকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে ২৪২ কোটি টাকার এ প্রকল্প এখনও চলমান। এই প্রকল্পের আওতায় ৪০০ মিটার সদরঘাট লাইটারেজ জেটি ড্রেজিং করে জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

২০১৮ সালে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে চারটি শিল্পগ্রুপকে এ চারটি জেটি ১০ বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। শিল্পগ্রুপগুলো হল- খাদ্যপণ্যের বিএসএম, লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের বিএসআরএম, কেএসাআরএম এবং আবুল খায়ের স্টিল। এসব গ্রুপ বরাদ্দ পেলেও এখনও জেটি বুঝে পায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জেটি জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করে দিতে হবে। সেটা এখনও পুরোপুরি করা যায়নি। ড্রেজিং শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ হয়নি। এই সড়ক বন্দরকে করে দিতে হবে।’

তিনি জানান, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বন্দর এককালীন একটি অর্থ পেয়েছে। এছাড়া প্রতি টন পণ্যের ওপরও চার্জ পাবে বন্দর। সেখানে কাস্টমস কর্মকর্তারা থাকবেন। তারা পণ্যের শুল্কায়ন দেখাশোনা করবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর

নির্মাণের সাত বছরেও চালু হয়নি ৪ লাইটারেজ জেটি

সংযোগ সড়ক জটিলতায় আটকে আছে অপারেশনাল কার্যক্রম
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্মাণের সাত বছর পরও চালু হয়নি চট্টগ্রাম বন্দরের ৪টি লাইটারেজ জেটি। বছরখানেক আগে চারটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া এসব জেটি এখনও পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করে দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ফলে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো জেটি ব্যবহার করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালে সদরঘাটে চারটি লাইটারেজ জেটি নির্মাণ করা হয়। ওই এলাকায় বালি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জেটিগুলো ব্যবহার করা যায়নি। ২০১৮ সালে নতুন করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হওয়ার পর বালি অপসারণ করে জেটি জাহাজ ভেড়ার উপযোগী করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক সংস্কার না হওয়ায় অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান যুগান্তরকে জানান, নতুন ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় সদরঘাটে অবস্থিত চার লাইটারেজ জেটির বালি অপসারণ করে ৪ মিটার গভীর করা হয়েছে। ফলে এসব জেটিতে এখন অনায়াসেই লাইটার জাহাজ (অভ্যন্তরীণ রুটের পণ্যবাহী জাহাজ) ভিড়তে পারবে। গত জুনে পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল রুটের দুটি জাহাজ ভিড়িয়ে ড্রাফট পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা সফল হয়েছে। এখন জেটি চারটি জাহাজ ভেড়ানোর সম্পূর্ণ উপযোগী। ড্রেজিং শেষে জেটিগুলো বন্দরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাইটিংসহ অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজ সহসাই শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করা হলেও দুটি কারণে জেটি চালু করা যাচ্ছে না। কয়েকদিন আগে বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বৈঠক করেছে। সেখানে তারা দুটি বিষয় তুলে ধরেছে। এর একটি হল সংযোগ সড়ক। জেটি থেকে পণ্যবাহী বড় বড় লরি যদি ফিরিঙ্গি বাজার দিয়ে বের হয়, তাহলে জ্যাম লেগে যেতে পারে। এজন্য বরাদ্দ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো কার শেডের পাশ দিয়ে ইউটার্ন করে সদরঘাট থেকে মাঝিরঘাট দিয়ে বের হয়ে যেতে চায়। তাহলে ফিরিঙ্গিবাজার সড়কে চাপ পড়বে না। দ্বিতীয় বিষয়টি হল- সদরঘাটে একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল রয়েছে। বড় বড় লরির সঙ্গে এদিক দিয়ে যদি যাত্রী আসা-যাওয়া করে তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে একটি ফুটওভারব্রিজ করলে এই আশঙ্কা থাকবে না। এ দুটি কাজ করে দিলে বরাদ্দ গ্রহীতারা অপারেশনাল কাজ শুরু করতে পারবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।’

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালে ২২৯ কোটি টাকার কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাজ পায় মালয়েশিয়ান মেরিটাইম অ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সদরঘাট এলাকায় লাইটার জেটি নির্মাণসহ কিছু কাজ করলেও ২০১৩ সালে পুরো কাজ না করেই চলে যায় মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে এই অভিযোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি জটিলতার কারণে প্রায় পাঁচ বছর বন্ধ থাকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে ২৪২ কোটি টাকার এ প্রকল্প এখনও চলমান। এই প্রকল্পের আওতায় ৪০০ মিটার সদরঘাট লাইটারেজ জেটি ড্রেজিং করে জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

২০১৮ সালে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে চারটি শিল্পগ্রুপকে এ চারটি জেটি ১০ বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। শিল্পগ্রুপগুলো হল- খাদ্যপণ্যের বিএসএম, লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের বিএসআরএম, কেএসাআরএম এবং আবুল খায়ের স্টিল। এসব গ্রুপ বরাদ্দ পেলেও এখনও জেটি বুঝে পায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জেটি জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী করে দিতে হবে। সেটা এখনও পুরোপুরি করা যায়নি। ড্রেজিং শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ হয়নি। এই সড়ক বন্দরকে করে দিতে হবে।’

তিনি জানান, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বন্দর এককালীন একটি অর্থ পেয়েছে। এছাড়া প্রতি টন পণ্যের ওপরও চার্জ পাবে বন্দর। সেখানে কাস্টমস কর্মকর্তারা থাকবেন। তারা পণ্যের শুল্কায়ন দেখাশোনা করবেন।