২৪ ঘণ্টায় বন্যামুক্ত আরও দুই জেলা

শার্শায় ইছামতির পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত আছে। ২৪ ঘণ্টায় একসঙ্গে দুই জেলা বন্যামুক্ত হয়। বর্তমানে চার জেলায় বন্যা চলছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে- নাটোর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর। ২৪ ঘণ্টায় বন্যামুক্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এ তথ্য জানিয়েছে।

যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত নদী ইছামতির পানির প্রভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েকশ’ হেক্টর জমির আমন ফসল তলিয়ে গেছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভাঙন হুমকির মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনা সেতুসহ সংযোগ সড়ক।

এদিকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে পানি প্রবাহ বেড়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই নদের পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্র নদের নিচের অংশ যমুনার পানির সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। গঙ্গা-পদ্মা এবং আপার মেঘনা অববাহিকা থেকে বানের পানি হ্রাসের ধারাও অব্যাহত আছে। গঙ্গা-পদ্মায় আরও ৪৮ ঘণ্টা এবং আপার মেঘনা আরও ২৪ ঘণ্টা পানি হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকবে। বন্যাকবলিত উল্লিখিত চার জেলা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও ২৪ ঘণ্টা উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাত চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট অঞ্চলের লাউড়েরগড়ে ১১৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অন্য এলাকায়ও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত আছে। অন্যদিকে ভারতের অরুণাচলের পাসিঘাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ২৪ ঘণ্টায় ৮৬ মিলিমিটার ও আসামের ধুবরিতে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সোমবার এক বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টা মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৫ মিলিমিটার এবং অরুণাচলের পাসিঘাটে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড অনুযায়ী ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে।

তবে এফএফডব্লিউসির বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেড়ে গেলেও বাংলাদেশে আর বন্যার আশঙ্কা নেই। উজান থেকে যে পরিমাণ বানের পানি আসবে তা নদ-নদীগুলো ধারণ করতে পারবে।

বর্তমানে ছয়টি নদী ৭ পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- গুড়, ধলেশ্বরী, তুরাগ, টঙ্গী খাল, কালিগঙ্গা ও পদ্মা। এর মধ্যে নাটোরের সিংড়ায় সবচেয়ে বেশি ২৭ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে গুড় নদী। আর সবচেয়ে কম বিপদসীমার উপরে আছে পদ্মা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে এটি মাত্র বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপরে আছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

বেনাপোল (যশোর) : যশোরের শার্শা উপজেলার আউশ আমনসহ সবজি ক্ষেতও ডুবেছে পানিতে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে ইছামতি নদীর পানি বেড়েছে। দক্ষিণের কায়বা, গোগা, বাগআঁচড়া, উলাশী ও পুটখালী ইউনিয়নের বিল অঞ্চল তলিয়ে ভেসে গেছে জমির ফসল। বিশেষ করে ইছামতি নদী খনন না করায় পলি জমে নদী ভরাট হয়ে পানি বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। রুদ্রপুর গ্রামের খালধারপাড়ার সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিদিন আধাফুট করে পানি বাড়ছে বিলে।

রংপুর : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় লক্ষীটারী ইউনিয়নের শঙ্করদহ থেকে বাগেরহাট যাওয়ার সড়কটি তিস্তার পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে তিস্তার মূল স্রোত শঙ্করদহ গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় একটি শাখা নদী সৃষ্টি হয়েছে। সেই শাখা নদীপথে এখন তিস্তার মূল স্রোতধারার একটি অংশ প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষায় তিস্তা নদীর বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যায় লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর শঙ্করদহ গ্রাম থেকে বাগেরহাট যাওয়া সড়কটি। এতে গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়া তিস্তার মূল সে াতধারা গতিপথ পরিবর্তন করে শঙ্করদহ গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় সেখানে একটি শাখা নদী দিয়ে এখন তিস্তার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওই শাখা নদী মূল নদীতে পরিণত হয়ে পুরো শঙ্করদহ গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত