ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
jugantor
ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি  

১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আখাউড়া) আদালতে মামলা করা হয়েছে। বুধবার আখাউড়া উপজেলার পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক জাহিদ হোসেন মামলাটি তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- আখাউড়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মতিউর রহমান, হুমায়ুন কবির, উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই খোরশেদ) এবং কনস্টেবল প্রশান্ত ও সৈকত। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আখাউড়ার পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া প্রতিবেশী হাসিনা বেগম (চিকুনী বেগম) ও তার মেয়ে তানিয়া এবং তানজিনার সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা একযোগে মিলিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন। হারুন মিয়া প্রতিবেশী হাসিনা বেগমের (চিকুনী বিগম) মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে হাসিনা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের হারুন মিয়া পেছনে লেলিয়ে দেয়। ২৬ মে গভীর রাতে অভিযুক্ত ৫ পুলিশ সদস্য নাটকীয়ভাবে হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার দেখিয়ে তার প্ররোচনায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হারুন মিয়া বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশির নামে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এ সময় ক্রসফায়ার ও হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়াও তারা তার ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে। পরে ওইদিনই ভোর ৪টার দিকে পুনরায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে হারুন মিয়া ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মাদক মামলা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। তা না হলে তাদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। ওই সময় তারা প্রাণরক্ষায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রফাদফা করলে হারুন মিয়া ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেন। চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি উপরের অফিসারদের জানালে হারুন মিয়াকে ক্রসফায়ার দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী হারুন মিয়া বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা আমাকে বিভিন্ন সময় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নিয়েছে। তাদের কারণে আজ আমি বাড়িছাড়া। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে অভিযোগ দিয়েছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বুধবার বিকালে যুগান্তরকে জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে কোনো অফিশিয়ালি আদেশ পৌঁছেনি। হাতে পাওয়ার পর বলতে পারব।

ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আখাউড়া) আদালতে মামলা করা হয়েছে। বুধবার আখাউড়া উপজেলার পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক জাহিদ হোসেন মামলাটি তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- আখাউড়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মতিউর রহমান, হুমায়ুন কবির, উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই খোরশেদ) এবং কনস্টেবল প্রশান্ত ও সৈকত। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আখাউড়ার পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া প্রতিবেশী হাসিনা বেগম (চিকুনী বেগম) ও তার মেয়ে তানিয়া এবং তানজিনার সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা একযোগে মিলিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন। হারুন মিয়া প্রতিবেশী হাসিনা বেগমের (চিকুনী বিগম) মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে হাসিনা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের হারুন মিয়া পেছনে লেলিয়ে দেয়। ২৬ মে গভীর রাতে অভিযুক্ত ৫ পুলিশ সদস্য নাটকীয়ভাবে হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার দেখিয়ে তার প্ররোচনায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হারুন মিয়া বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশির নামে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এ সময় ক্রসফায়ার ও হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়াও তারা তার ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে। পরে ওইদিনই ভোর ৪টার দিকে পুনরায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে হারুন মিয়া ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মাদক মামলা ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। তা না হলে তাদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। ওই সময় তারা প্রাণরক্ষায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রফাদফা করলে হারুন মিয়া ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেন। চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি উপরের অফিসারদের জানালে হারুন মিয়াকে ক্রসফায়ার দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী হারুন মিয়া বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা আমাকে বিভিন্ন সময় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নিয়েছে। তাদের কারণে আজ আমি বাড়িছাড়া। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে অভিযোগ দিয়েছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বুধবার বিকালে যুগান্তরকে জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে কোনো অফিশিয়ালি আদেশ পৌঁছেনি। হাতে পাওয়ার পর বলতে পারব।