সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
jugantor
বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ২ কোটি ১১ লাখ
সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে নাকাল বিশ্ব। গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণ গেছে ৭ লাখ ৫৮ হাজার মানুষের।

করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে দেশটি। মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে একশ’ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করেছে করোনাভাইরাস।

সংক্রমণ ঠেকাতে স্পেনের দুই অঞ্চলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের মেয়াদ। খবর রয়টার্স, এনডিটিভি, বিবিসি ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের। 

এক সাক্ষাৎকারে রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, হাজার হাজার মানুষ এ মহামারীতে সপ্তাহে ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা করে কাজ করছেন।

এতে আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, এ মুহূর্তে আমাদের পুরো মনোযোগটাই রয়েছে এ মহামারীর দিকে। যুক্তরাষ্ট্র মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর করোনাভাইরাসে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছে বুধবার।

এ দিন দেশটিতে মারা গেছেন ১ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা ও টেক্সাসে। 

করোনা মহামারীর আগে যুক্তরাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি বলে স্বীকার করেছেন রেডফিল্ড।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু বড় সংকট যখন এল- এটি মোটেই মামুলি নয়, একশ’ বছরের মধ্যে দেশকে নাস্তানাবুদ করার মতো সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকট- তখন আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও নেই।’

রেডফিল্ড বলেন, দেশ যাতে আবার একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে আর কখনও এমন অপ্রস্তুত না থাকে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা নিশ্চিত করতে আমরা দায়বদ্ধ। 

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী- বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ১১ লাখ ৪ হাজার ৪২৮, মারা গেছেন ৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৬২ জন।

অবস্থা আশঙ্কাজনক ৬৪ হাজার ৫০১, সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৪ হাজার ১১৩, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৬৬৫ জনের। 

বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ হাজার ৩৬৫ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ১ হাজার ২৮৪ জন।

এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ৫৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১, মারা গেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৬১ জন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪৭, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩০১ জনের।

এতে দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ৩২ লাখ ২৯ হাজার ৬৯২, মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৬৩ জনের। 

বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ হাজার ১৪২, একই সময়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৬ জন। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯১, মারা গেছেন ৪৮ হাজার ১৮৮ জন। 

চতুর্থ স্থানে রাশিয়ায় রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ১২ হাজার ৮৫৮, মারা গেছেন ১৫ হাজার ৪৯৮ জন। পঞ্চম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্ত ৫ লাখ ৭২ হাজার ৮১৯, মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ২৭০ জনের।

মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসা পেরুতে আক্রান্ত ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫৫, মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৫১৩ জনের। মেক্সিকোতে রোগী ৫ লাখ ৫ হাজার ৭৮০, মৃত্যু হয়েছে ৫৫ হাজার ২৬৬ জনের। 

স্পেনের দুটি অঞ্চলে ধূমপানে নিষেধাজ্ঞা : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রকাশ্যে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে স্পেনের দুটি অঞ্চল।

উত্তর-পশ্চিমের গ্যালিসিয়া ও ক্যানারি আইল্যান্ডে প্রকাশ্যে ও সড়কে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যানারি আইল্যান্ড ঘোষণা দেয়, মানুষ যখন একে অন্যের থেকে ২ মিটার (সাড়ে ছয় ফুট) দূরত্ব বজায় রাখতে পারবে না তখন ধূমপান নিষিদ্ধ থাকবে। এর আগে বুধবার গ্যালিসিয়াতে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়। 

অকল্যান্ডে বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ : দ্বিতীয় ধাপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম নগরী অকল্যান্ডে শুরুতে ৩ দিনের লকডাউন আরোপ করা হলেও তা এখন আরও ১২ দিন বাড়িয়েছে দেশটির সরকার।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেন, মন্ত্রিপরিষদ এ অবস্থা (লকডাউন) আরও ১২ দিন ধরে রাখার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণহীন টানা ১০২ দিন পর মঙ্গলবার চারজন আক্রান্তের খোঁজ মেলে। আক্রান্তদের সবাই অকল্যান্ডের বাসিন্দা এবং তারা একই পরিবারের সদস্য। নতুন সংক্রমণের সংখ্যা এরই মধ্যে ৩০ জনে পৌঁছেছে।
 

বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ২ কোটি ১১ লাখ

সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসে নাকাল বিশ্ব। গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণ গেছে ৭ লাখ ৫৮ হাজার মানুষের।

করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে দেশটি। মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে একশ’ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করেছে করোনাভাইরাস।

সংক্রমণ ঠেকাতে স্পেনের দুই অঞ্চলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে বাড়ানো হয়েছে লকডাউনের মেয়াদ। খবর রয়টার্স, এনডিটিভি, বিবিসি ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।

এক সাক্ষাৎকারে রবার্ট রেডফিল্ড বলেছেন, হাজার হাজার মানুষ এ মহামারীতে সপ্তাহে ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা করে কাজ করছেন।

এতে আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, এ মুহূর্তে আমাদের পুরো মনোযোগটাই রয়েছে এ মহামারীর দিকে। যুক্তরাষ্ট্র মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর করোনাভাইরাসে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছে বুধবার।

এ দিন দেশটিতে মারা গেছেন ১ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা ও টেক্সাসে।

করোনা মহামারীর আগে যুক্তরাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি বলে স্বীকার করেছেন রেডফিল্ড।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু বড় সংকট যখন এল- এটি মোটেই মামুলি নয়, একশ’ বছরের মধ্যে দেশকে নাস্তানাবুদ করার মতো সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকট- তখন আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও নেই।’

রেডফিল্ড বলেন, দেশ যাতে আবার একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে আর কখনও এমন অপ্রস্তুত না থাকে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা নিশ্চিত করতে আমরা দায়বদ্ধ।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী- বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ১১ লাখ ৪ হাজার ৪২৮, মারা গেছেন ৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৬২ জন।

অবস্থা আশঙ্কাজনক ৬৪ হাজার ৫০১, সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৪ হাজার ১১৩, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৬৬৫ জনের।

বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ হাজার ৩৬৫ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ১ হাজার ২৮৪ জন।

এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ৫৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১, মারা গেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৬১ জন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৪৭, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩০১ জনের।

এতে দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ৩২ লাখ ২৯ হাজার ৬৯২, মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৬৩ জনের।

বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ হাজার ১৪২, একই সময়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৬ জন। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯১, মারা গেছেন ৪৮ হাজার ১৮৮ জন।

চতুর্থ স্থানে রাশিয়ায় রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ১২ হাজার ৮৫৮, মারা গেছেন ১৫ হাজার ৪৯৮ জন। পঞ্চম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্ত ৫ লাখ ৭২ হাজার ৮১৯, মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ২৭০ জনের।

মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসা পেরুতে আক্রান্ত ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫৫, মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৫১৩ জনের। মেক্সিকোতে রোগী ৫ লাখ ৫ হাজার ৭৮০, মৃত্যু হয়েছে ৫৫ হাজার ২৬৬ জনের।

স্পেনের দুটি অঞ্চলে ধূমপানে নিষেধাজ্ঞা : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রকাশ্যে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে স্পেনের দুটি অঞ্চল।

উত্তর-পশ্চিমের গ্যালিসিয়া ও ক্যানারি আইল্যান্ডে প্রকাশ্যে ও সড়কে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যানারি আইল্যান্ড ঘোষণা দেয়, মানুষ যখন একে অন্যের থেকে ২ মিটার (সাড়ে ছয় ফুট) দূরত্ব বজায় রাখতে পারবে না তখন ধূমপান নিষিদ্ধ থাকবে। এর আগে বুধবার গ্যালিসিয়াতে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়।

অকল্যান্ডে বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ : দ্বিতীয় ধাপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম নগরী অকল্যান্ডে শুরুতে ৩ দিনের লকডাউন আরোপ করা হলেও তা এখন আরও ১২ দিন বাড়িয়েছে দেশটির সরকার।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেন, মন্ত্রিপরিষদ এ অবস্থা (লকডাউন) আরও ১২ দিন ধরে রাখার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণহীন টানা ১০২ দিন পর মঙ্গলবার চারজন আক্রান্তের খোঁজ মেলে। আক্রান্তদের সবাই অকল্যান্ডের বাসিন্দা এবং তারা একই পরিবারের সদস্য। নতুন সংক্রমণের সংখ্যা এরই মধ্যে ৩০ জনে পৌঁছেছে।