ব্যাগে করে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দেয়া হয় বাছিরকে
jugantor
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
ব্যাগে করে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দেয়া হয় বাছিরকে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ছবি: সংগৃহীত

ঘুষ লেনদেনের মামলায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা সাক্ষ্য দেন।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত আগামী ২ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট জেরা ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন মিজানুর রহমান ও এনামুল বাছিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে ফানাফিল্যা বলেন, বাছির ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুদকের কর্মকর্তা হয়েও মিজানকে অবৈধ সুবিধা দিতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে ঘুষ দেয়ার বিষয়টি জাতির সামনে মিজানও স্বীকার করেছেন।

বিষয়টি দুদকের নজরে এলে শক্তিশালী বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির কাছে লিখিতভাবে বাছির ঘুষের টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। ফানাফিল্যা আরও বলেন, ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মিজান একটি বাজারের ব্যাগে করে ২৫ লাখ

টাকা এনামুল বাছিরকে দেয়ার জন্য রমনা পার্কে মিলিত হন। আলোচনা শেষে সেখান থেকে মিজানের গাড়িতে ওঠেন বাছির। গাড়িটি শাহজাহানপুরে থামলে মিজান ২৫ লাখ টাকা বাছিরের হাতে তুলে দেন। এরপর বাছির গাড়ি থেকে নেমে বাসার দিকে রওনা হন। একইভাবে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান তার আরদালি সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে উত্তরার বাসা থেকে পার্কে বাছিরের সঙ্গে দেখা করেন।

এরপর মিজানের গাড়িতে উঠে শান্তিনগরে যান বাছির। এ সময় মিজানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন বাছির। এ ছাড়া মিজানের কাছে বাছির একটি গাড়িও দাবি করেন। বিষয়টি বাছির লিখিতভাবে দুদকের কাছে স্বীকারও করেছেন।

এর আগে ১৮ মার্চ মামলার চার্জ (অভিযোগ) গঠনের আদেশ দেন আদালত। ১৯ জানুয়ারি দুদকের পরিচালক ফানাফিল্যা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বাছির অসৎ উদ্দেশ্যে, নিজে লাভবান হওয়ার আশায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মিজানকে অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার হীন উদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন।

অপরদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে অর্থাৎ অনুসন্ধানের ফলাফল নিজের পক্ষে নেয়ার জন্য মিজানও বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

চার্জশিটে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে অপর নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ ওঠার পর তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। এর চার মাস পর তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। কমিশনের উপপরিচালক ফরিদউদ্দিন পাটোয়ারির হাত ঘুরে ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান এনামুল বাছির।

একপর্যায়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অডিও রেকর্ডে ডিআইজি মিজান দুদক কর্মকর্তা বাছিরকে ঘুষ দিয়েছেন দাবি করেন। গত বছরের ১৭ জুলাই মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ব্যাগে করে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দেয়া হয় বাছিরকে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ছবি: সংগৃহীত
দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ফাইল ছবি

ঘুষ লেনদেনের মামলায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা সাক্ষ্য দেন।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত আগামী ২ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট জেরা ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন মিজানুর রহমান ও এনামুল বাছিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে ফানাফিল্যা বলেন, বাছির ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুদকের কর্মকর্তা হয়েও মিজানকে অবৈধ সুবিধা দিতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে ঘুষ দেয়ার বিষয়টি জাতির সামনে মিজানও স্বীকার করেছেন।

বিষয়টি দুদকের নজরে এলে শক্তিশালী বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির কাছে লিখিতভাবে বাছির ঘুষের টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। ফানাফিল্যা আরও বলেন, ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মিজান একটি বাজারের ব্যাগে করে ২৫ লাখ

টাকা এনামুল বাছিরকে দেয়ার জন্য রমনা পার্কে মিলিত হন। আলোচনা শেষে সেখান থেকে মিজানের গাড়িতে ওঠেন বাছির। গাড়িটি শাহজাহানপুরে থামলে মিজান ২৫ লাখ টাকা বাছিরের হাতে তুলে দেন। এরপর বাছির গাড়ি থেকে নেমে বাসার দিকে রওনা হন। একইভাবে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মিজান তার আরদালি সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে উত্তরার বাসা থেকে পার্কে বাছিরের সঙ্গে দেখা করেন।

এরপর মিজানের গাড়িতে উঠে শান্তিনগরে যান বাছির। এ সময় মিজানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন বাছির। এ ছাড়া মিজানের কাছে বাছির একটি গাড়িও দাবি করেন। বিষয়টি বাছির লিখিতভাবে দুদকের কাছে স্বীকারও করেছেন।

এর আগে ১৮ মার্চ মামলার চার্জ (অভিযোগ) গঠনের আদেশ দেন আদালত। ১৯ জানুয়ারি দুদকের পরিচালক ফানাফিল্যা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বাছির অসৎ উদ্দেশ্যে, নিজে লাভবান হওয়ার আশায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মিজানকে অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার হীন উদ্দেশ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন।

অপরদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে অর্থাৎ অনুসন্ধানের ফলাফল নিজের পক্ষে নেয়ার জন্য মিজানও বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

চার্জশিটে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে অপর নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ ওঠার পর তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। এর চার মাস পর তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। কমিশনের উপপরিচালক ফরিদউদ্দিন পাটোয়ারির হাত ঘুরে ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান এনামুল বাছির।

একপর্যায়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অডিও রেকর্ডে ডিআইজি মিজান দুদক কর্মকর্তা বাছিরকে ঘুষ দিয়েছেন দাবি করেন। গত বছরের ১৭ জুলাই মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।