দিনাজপুরে ৬ বছর আগে হামলার শিকার হন ইউএনও ফরহাদ
jugantor
দিনাজপুরে ৬ বছর আগে হামলার শিকার হন ইউএনও ফরহাদ

  দিনাজপুর ও বিরামপুর প্রতিনিধি  

১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি বাসভবনে ঢুকে ২ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। শুধু তাই নয়, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও কোপানো হয়।

এ ঘটনায় গ্রেফতার তিনজন রিমান্ডে আছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ২০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখনও উদ্ঘাটন হয়নি ঘটনার রহস্য।

দিনাজপুরে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ৬ বছর আগে এ উপজেলার পাশের নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাইটগার্ড নিয়োগ নিয়ে নবাবগঞ্জের ইউএনও ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ইউএনওর কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকলে বিক্ষোভকারীরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন ইউএনও ফরহাদ হোসেন ওয়াশরুমে ছিলেন।

হামলাকারীরা ইউএনওকে ওয়াশরুম থেকে বের করে মারধর করে। ওই সময়ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক। কাকতালীয় হলেও বর্তমান ঘোড়াঘাট থানার বর্তমান ওসি আমিরুল ইসলাম ওই সময় নবাবগঞ্জ থানার ওসি ছিলেন।

ঘটনার ৩ দিন পর ইউএনও ফরহাদ হোসেন ২৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। ২০১৫ সালের শেষের দিকে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছে।

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই : ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির খবর দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং চারজন সরকারি কর্মচারী। জিজ্ঞাসাবাদের পর অধিকাংশকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ময়নুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর জানান, ময়নুল ইসলাম নামে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি জানান, এখানে পুলিশ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

দিনাজপুর জেলা পুলিশ তাকে আটক করেনি, অন্য কেউ আটক করলেও করতে পারে। রিমান্ডে নেয়া ৩ জন ছাড়া তাদের কাছে কেউ আটক বা গ্রেফতার নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমাম জাফর জানান, ঢাকা থেকে আগত পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি টিমের সহযোগিতায় রিমান্ডে নেয়া ৩ জনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি নবীরুল ইসলাম এবং সান্টু কুমার দাসের রিমান্ড আজ শেষ হবে। আর আসাদুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হবে আগামীকাল।

এদিকে ঘটনার ৮ দিন পার হলেও তদন্তকাজ শুরু করেনি রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের গঠন করা টিম। বেঁধে দেয়া ৭ দিনের সময় শেষ হওয়ায় আবারও সময় বাড়ানো হয়েছে কিনা, তাও জানা যায়নি।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। এটি তদন্ত কমিটির সদস্যরাই বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির প্রধান রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফরকে।

দিনাজপুরে ৬ বছর আগে হামলার শিকার হন ইউএনও ফরহাদ

 দিনাজপুর ও বিরামপুর প্রতিনিধি 
১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি বাসভবনে ঢুকে ২ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। শুধু তাই নয়, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও কোপানো হয়।

এ ঘটনায় গ্রেফতার তিনজন রিমান্ডে আছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ২০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখনও উদ্ঘাটন হয়নি ঘটনার রহস্য।

দিনাজপুরে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ৬ বছর আগে এ উপজেলার পাশের নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাইটগার্ড নিয়োগ নিয়ে নবাবগঞ্জের ইউএনও ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ইউএনওর কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকলে বিক্ষোভকারীরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন ইউএনও ফরহাদ হোসেন ওয়াশরুমে ছিলেন।

হামলাকারীরা ইউএনওকে ওয়াশরুম থেকে বের করে মারধর করে। ওই সময়ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক। কাকতালীয় হলেও বর্তমান ঘোড়াঘাট থানার বর্তমান ওসি আমিরুল ইসলাম ওই সময় নবাবগঞ্জ থানার ওসি ছিলেন।

ঘটনার ৩ দিন পর ইউএনও ফরহাদ হোসেন ২৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। ২০১৫ সালের শেষের দিকে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছে।

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই : ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির খবর দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং চারজন সরকারি কর্মচারী। জিজ্ঞাসাবাদের পর অধিকাংশকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ময়নুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর জানান, ময়নুল ইসলাম নামে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি জানান, এখানে পুলিশ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

দিনাজপুর জেলা পুলিশ তাকে আটক করেনি, অন্য কেউ আটক করলেও করতে পারে। রিমান্ডে নেয়া ৩ জন ছাড়া তাদের কাছে কেউ আটক বা গ্রেফতার নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমাম জাফর জানান, ঢাকা থেকে আগত পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি টিমের সহযোগিতায় রিমান্ডে নেয়া ৩ জনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি নবীরুল ইসলাম এবং সান্টু কুমার দাসের রিমান্ড আজ শেষ হবে। আর আসাদুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হবে আগামীকাল।

এদিকে ঘটনার ৮ দিন পার হলেও তদন্তকাজ শুরু করেনি রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের গঠন করা টিম। বেঁধে দেয়া ৭ দিনের সময় শেষ হওয়ায় আবারও সময় বাড়ানো হয়েছে কিনা, তাও জানা যায়নি।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। এটি তদন্ত কমিটির সদস্যরাই বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির প্রধান রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফরকে।