পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর ঘিরে চীনের সামরিক আকাঙ্ক্ষা
jugantor
পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর ঘিরে চীনের সামরিক আকাঙ্ক্ষা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন ধরেই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি’র (পিএলএএন) সামরিক অভিযানের জন্য পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরকে উপযুক্ত বেস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ২০১৯ সালেই পাকিস্তান বন্দরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের হাতে তুলে দেয়। ভারতের ওপর নজরদারি চালাতে এর আগেও গোয়াদার বন্দরকে একাধিকবার ব্যবহার করতে দেখা গেছে বেইজিংকে। খবর এএনআই।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের চায়না মেরিটাইম স্টাডিজ ইন্সটিটিউট সম্প্রতি ‘গোয়াদার : পাকিস্তানে চীনের কৌশলগত শক্তিশালী অবস্থান’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে চীন কিভাবে এ বন্দরকে নিজেদের সামরিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যবহার করছে তার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে চায়না কমিউনিস্ট পার্টির একটি ‘কৌশলগত শক্তিশালী অবস্থান বা স্ট্যাটেজিক স্ট্রং পয়েন্ট’ রয়েছে। সে অনুসারে বিদেশি বন্দরে চীনা সংস্থাগুলো কৌশলে টার্মিনাল এবং বাণিজ্যিক অঞ্চল এমনভাবে তৈরি করে যাতে দেশটির সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে পারে। অবশ্যই চীনা কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় এই ধারণাটিকে কার্যকর করে তোলে দেশটি।

এ ধরনের ‘কৌশলগত শক্তিশালী ধারণা’ অনুসরণ করে ভারত মহাসাগরের কোলে পাকিস্তানের এ বন্দরে চীন সরবরাহ নেটওয়ার্ক, লজিস্টিক সহায়তা ও গোয়েন্দা জাল বিস্তার করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গোয়াদার দুটি কারণে বেইজিংয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এটি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিসি) হয়ে ভারত মহাসাগরে সরাসরি পরিবহন সংযোগ স্থাপন করছে। এ বন্দরে চীন আর্থিক রিটার্ন পাওয়া বিনিয়োগ করেনি, কারণ এটি কৌশলগত বিনিয়োগ। দ্বিতীয়ত, গোয়াদার পশ্চিম চীনের জাহাজ নোঙর করা বা স্থিতিশীল করতে সহায়তা করছে।

পারস্য উপসাগরের ঠিক মোহনায় এবং হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে গোয়াদার বন্দরের অবস্থান। বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ হচ্ছে এই হরমুজ প্রণালি। গোয়াদার গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর মাধ্যমে চীনের আমদানি করা তেলের ৪০ শতাংশ প্রবাহিত হয়। চীন ৪০ বছরের জন্য গোয়াদার বন্দর পরিচালনার অধিকার পেয়েছে। এটি চীনের জন্য বিরাট সামরিক সুযোগ তৈরি করেছে। চীন এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে আরব সাগরে একটি নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে দেশটির জন্য। ২০০২ সাল থেকে এ বন্দরের অর্থায়ন ও নির্মাণের সঙ্গে জড়িত রয়েছে চীন। এ বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮ সালে। গোয়াদার বন্দর থেকে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাশগার পর্যন্ত তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পথে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের জন্য একটি রুট রয়েছে।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কাছে অবস্থিত এ বন্দর ব্যবহার করে সেখানে নিজের নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করছে বেইজিং। গোয়াদার বন্দরকে চীন ব্যবহার করতে চলেছে নিজেদের নৌবাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে। সাম্প্রতিক কিছু উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায় ভারত মহাসাগরে নিজেদের শক্তি বাড়াতে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরকে বেছে নিয়েছে চীন।

পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর ঘিরে চীনের সামরিক আকাঙ্ক্ষা

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন ধরেই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি’র (পিএলএএন) সামরিক অভিযানের জন্য পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরকে উপযুক্ত বেস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ২০১৯ সালেই পাকিস্তান বন্দরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের হাতে তুলে দেয়। ভারতের ওপর নজরদারি চালাতে এর আগেও গোয়াদার বন্দরকে একাধিকবার ব্যবহার করতে দেখা গেছে বেইজিংকে। খবর এএনআই।

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের চায়না মেরিটাইম স্টাডিজ ইন্সটিটিউট সম্প্রতি ‘গোয়াদার : পাকিস্তানে চীনের কৌশলগত শক্তিশালী অবস্থান’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে চীন কিভাবে এ বন্দরকে নিজেদের সামরিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যবহার করছে তার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি বন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে চায়না কমিউনিস্ট পার্টির একটি ‘কৌশলগত শক্তিশালী অবস্থান বা স্ট্যাটেজিক স্ট্রং পয়েন্ট’ রয়েছে। সে অনুসারে বিদেশি বন্দরে চীনা সংস্থাগুলো কৌশলে টার্মিনাল এবং বাণিজ্যিক অঞ্চল এমনভাবে তৈরি করে যাতে দেশটির সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে পারে। অবশ্যই চীনা কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় এই ধারণাটিকে কার্যকর করে তোলে দেশটি।

এ ধরনের ‘কৌশলগত শক্তিশালী ধারণা’ অনুসরণ করে ভারত মহাসাগরের কোলে পাকিস্তানের এ বন্দরে চীন সরবরাহ নেটওয়ার্ক, লজিস্টিক সহায়তা ও গোয়েন্দা জাল বিস্তার করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গোয়াদার দুটি কারণে বেইজিংয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এটি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিসি) হয়ে ভারত মহাসাগরে সরাসরি পরিবহন সংযোগ স্থাপন করছে। এ বন্দরে চীন আর্থিক রিটার্ন পাওয়া বিনিয়োগ করেনি, কারণ এটি কৌশলগত বিনিয়োগ। দ্বিতীয়ত, গোয়াদার পশ্চিম চীনের জাহাজ নোঙর করা বা স্থিতিশীল করতে সহায়তা করছে।

পারস্য উপসাগরের ঠিক মোহনায় এবং হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে গোয়াদার বন্দরের অবস্থান। বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ হচ্ছে এই হরমুজ প্রণালি। গোয়াদার গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর মাধ্যমে চীনের আমদানি করা তেলের ৪০ শতাংশ প্রবাহিত হয়। চীন ৪০ বছরের জন্য গোয়াদার বন্দর পরিচালনার অধিকার পেয়েছে। এটি চীনের জন্য বিরাট সামরিক সুযোগ তৈরি করেছে। চীন এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে আরব সাগরে একটি নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে দেশটির জন্য। ২০০২ সাল থেকে এ বন্দরের অর্থায়ন ও নির্মাণের সঙ্গে জড়িত রয়েছে চীন। এ বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮ সালে। গোয়াদার বন্দর থেকে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাশগার পর্যন্ত তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পথে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের জন্য একটি রুট রয়েছে।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কাছে অবস্থিত এ বন্দর ব্যবহার করে সেখানে নিজের নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করছে বেইজিং। গোয়াদার বন্দরকে চীন ব্যবহার করতে চলেছে নিজেদের নৌবাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে। সাম্প্রতিক কিছু উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায় ভারত মহাসাগরে নিজেদের শক্তি বাড়াতে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরকে বেছে নিয়েছে চীন।