কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ৬০ দালাল
jugantor
পৌর মেয়র ও পরিবারের ১১ ব্যাংক হিসাব স্থগিত
কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ৬০ দালাল

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে বিভিন্ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে ৬০ দালালের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিক।

ইতোমধ্যে এ দালালদের মধ্যে তিনজনের ব্যাংক হিসাব থেকে ২১ কোটি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৭ টাকা জব্দ করেছে দুদক। এরা হলেন- কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেল ও অ্যাডভোকেট নোমান শরীফ।

তিনজনের মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে মেয়র মুজিব ও তার পরিবারের ১১টি হিসাব থেকে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯০ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কক্সবাজার শাখা থেকে অ্যাডভোকেট নোমান শরীফের ৪ লাখ ৪৭ হাজার ১৮৭ টাকা। সোমবার দুদক এ দু’জনের হিসাব জব্দ করে। এর আগে বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখা ও জেলা ডাকঘর থেকে সাবেক পৌর কাউন্সিলর নোবেলের নামে সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে সাবেক কাউন্সিলর নোবেলের ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৪টি ফ্ল্যাট এবং পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের ৬ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে দুদক। মঙ্গলবার দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উক্ত সম্পত্তিগুলো হস্তান্তর না করার জন্য কক্সবাজারের সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখা ম্যানেজার মো. সামাদ যুগান্তরকে জানান, এ বিষয়ে দুদক তদন্ত করছে। তদন্তের প্রয়োজনে যে তথ্য চেয়েছে তা দিয়েছি। বিশেষ করে কয়েকটি হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে। কতজনের হিসাব জব্দ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তদন্তাধীন বিষয়। দুদক ভালো বলতে পারবে।

পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছেলে মেহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমার রাজনীতি এবং ব্যবসার সঙ্গে এগুলোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ সম্পর্কে আমি জানি না।’

দুদক সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ-দুর্নীতি চালিয়ে আসছে ৬০ দালালের সিন্ডিকেট। সম্প্রতি এসব দালালের সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে দুদক।

বর্তমান অনেক বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে কক্সবাজারে। ৭০টির বেশি প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। এগুলোর জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২০ হাজার একরের বেশি জমি। এসব জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে কমিশন বাণিজ্যই ছিল এ দালাল চক্রের মূল কাজ।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম কাজ ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে দালালদের সিন্ডিকেটটি তৈরি হয়েছে। এসব দালাল জমির মালিকদের নাম দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানে নামে। শুরুতেই দুদক ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ ওয়াসিম নামের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক সার্ভেয়ারকে নগদ ৯৩ লাখ টাকাসহ আটক করে। তার তথ্যের ভিত্তিতে পরে ২২ জুলাই মো. সেলিম উল্লাহ, ৩ আগস্ট মোহাম্মদ কামরুদ্দিন ও সালাহ উদ্দিন নামের তিন দালালকে আটক করে দুদক। আটকের সময় এসব দালালের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার নগদ চেক ও ভূমি অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি উদ্ধার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেলের কাছ থেকে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রোববার কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে অভিযান চালিয়ে নোবেলের নামে জমা থাকা ৮০ লাখ এবং ১ সেপ্টেম্বর বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০ কোটি টাকা জব্দ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা র্কাযালয়-২-এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক ও তাদের অবৈধ অর্থ জব্দ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। পাশাপাশি চারজন দালালকে গ্রেফতার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়েছি। তিনি বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে মূলত ভূমি অফিসের বাইরে এবং ভেতরে বড় ধরনের চক্র আছে। তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের হিসাবে যে লেনদেন তাতে আদৌ কমিশনের টাকা ঢুকেছে কিনা অথবা তাদের হিসাবে থাকা টাকার ব্যাখ্যা কি? এ বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছি। পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী এবং ছেলের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ১১টি হিসাব পেয়েছি। এখানে বেশ কিছু টাকাও পাওয়া গেছে। আপাতত লেনদেন স্থগিত রাখার জন্য বলেছি।’

দুদকের অনুসন্ধান ও আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ৬০ দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরা হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলা ও পৌর এলাকার গ্রেফতার সালাউদ্দিন, কামরুউদ্দিন। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, তার ছেলে মেহেদী, মাসেদুল হক রাশেদ, কায়সারুল হক, কাউন্সিলর ওমর ছিদ্দিক লালু, কাউন্সিলর মিজান, সিরাজুল মোস্তফা, ক্যাচিং মং, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেল, আলমগীর টাওয়ারের মালিক আলমগীর, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, জেলা প্রশাসনের কর্মচারী ফরিদুল আলম, কুতুবী, সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, শাহীন, সরওয়ার, অ্যাডভোকেট যথাক্রমে মো. সাঈদ হোসেন, আনসারুল করিম, মোসলেম উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম গুন্দু, নুরুল হক ও দুলাল।

মহেশখালী উপজেলার হোয়ানকের ছাবের মো. ইব্রাহিম, আমান উল্লাহ, কালামারছড়ার চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, তার বড়ভাই অ্যাডভোকেট নোমান শরীফ, কালামারছড়ার জালাল উদ্দিন, নুরুল উসলাম বাহাদুর, জসিম উদ্দিন, জাকারিয়া, নুরুল আমিন, আবদুল গাফ্ফার, মৌলভী জাকারিয়া, শাপলাপুরের সেলিম উল্লাহ, নুরুল হুদা কাজল, মাতারবাড়ির নাছির উদ্দিন মো. বাবর চৌধুরী, মো. হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, আহমদ উল্লাহ, রেজাউল করিম আশেক, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুস সাত্তার, মো. মামুন, রেজাউল, ওয়ালিদ চৌধুরী, ধলঘাটার আবু ছৈয়দ, মো. তাজ উদ্দিন, রমজান আলী, মো. হোছন, কামরুল ইসলাম, স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার মহিবুল্লাহ, মো. হোসেন, জসিম উদ্দিন ও আরিফুর রহমান।

এদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

এদিকে উল্লিখিতদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে এ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সরকারের চলমান সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকেন্দ্রিক বেশ কয়েকজন দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে।

পৌর মেয়র ও পরিবারের ১১ ব্যাংক হিসাব স্থগিত

কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ৬০ দালাল

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারে বিভিন্ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে ৬০ দালালের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিক।

ইতোমধ্যে এ দালালদের মধ্যে তিনজনের ব্যাংক হিসাব থেকে ২১ কোটি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৭ টাকা জব্দ করেছে দুদক। এরা হলেন- কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেল ও অ্যাডভোকেট নোমান শরীফ।

তিনজনের মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে মেয়র মুজিব ও তার পরিবারের ১১টি হিসাব থেকে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯০ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কক্সবাজার শাখা থেকে অ্যাডভোকেট নোমান শরীফের ৪ লাখ ৪৭ হাজার ১৮৭ টাকা। সোমবার দুদক এ দু’জনের হিসাব জব্দ করে। এর আগে বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখা ও জেলা ডাকঘর থেকে সাবেক পৌর কাউন্সিলর নোবেলের নামে সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে সাবেক কাউন্সিলর নোবেলের ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৪টি ফ্ল্যাট এবং পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের ৬ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে দুদক। মঙ্গলবার দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উক্ত সম্পত্তিগুলো হস্তান্তর না করার জন্য কক্সবাজারের সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখা ম্যানেজার মো. সামাদ যুগান্তরকে জানান, এ বিষয়ে দুদক তদন্ত করছে। তদন্তের প্রয়োজনে যে তথ্য চেয়েছে তা দিয়েছি। বিশেষ করে কয়েকটি হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে। কতজনের হিসাব জব্দ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তদন্তাধীন বিষয়। দুদক ভালো বলতে পারবে।

পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছেলে মেহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমার রাজনীতি এবং ব্যবসার সঙ্গে এগুলোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ সম্পর্কে আমি জানি না।’

দুদক সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ-দুর্নীতি চালিয়ে আসছে ৬০ দালালের সিন্ডিকেট। সম্প্রতি এসব দালালের সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে দুদক।

বর্তমান অনেক বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে কক্সবাজারে। ৭০টির বেশি প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। এগুলোর জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২০ হাজার একরের বেশি জমি। এসব জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে কমিশন বাণিজ্যই ছিল এ দালাল চক্রের মূল কাজ।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম কাজ ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে দালালদের সিন্ডিকেটটি তৈরি হয়েছে। এসব দালাল জমির মালিকদের নাম দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানে নামে। শুরুতেই দুদক ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ ওয়াসিম নামের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক সার্ভেয়ারকে নগদ ৯৩ লাখ টাকাসহ আটক করে। তার তথ্যের ভিত্তিতে পরে ২২ জুলাই মো. সেলিম উল্লাহ, ৩ আগস্ট মোহাম্মদ কামরুদ্দিন ও সালাহ উদ্দিন নামের তিন দালালকে আটক করে দুদক। আটকের সময় এসব দালালের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার নগদ চেক ও ভূমি অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি উদ্ধার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেলের কাছ থেকে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রোববার কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে অভিযান চালিয়ে নোবেলের নামে জমা থাকা ৮০ লাখ এবং ১ সেপ্টেম্বর বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০ কোটি টাকা জব্দ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা র্কাযালয়-২-এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক ও তাদের অবৈধ অর্থ জব্দ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। পাশাপাশি চারজন দালালকে গ্রেফতার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়েছি। তিনি বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে মূলত ভূমি অফিসের বাইরে এবং ভেতরে বড় ধরনের চক্র আছে। তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের হিসাবে যে লেনদেন তাতে আদৌ কমিশনের টাকা ঢুকেছে কিনা অথবা তাদের হিসাবে থাকা টাকার ব্যাখ্যা কি? এ বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছি। পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী এবং ছেলের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ১১টি হিসাব পেয়েছি। এখানে বেশ কিছু টাকাও পাওয়া গেছে। আপাতত লেনদেন স্থগিত রাখার জন্য বলেছি।’

দুদকের অনুসন্ধান ও আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ৬০ দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরা হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলা ও পৌর এলাকার গ্রেফতার সালাউদ্দিন, কামরুউদ্দিন। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, তার ছেলে মেহেদী, মাসেদুল হক রাশেদ, কায়সারুল হক, কাউন্সিলর ওমর ছিদ্দিক লালু, কাউন্সিলর মিজান, সিরাজুল মোস্তফা, ক্যাচিং মং, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেল, আলমগীর টাওয়ারের মালিক আলমগীর, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, জেলা প্রশাসনের কর্মচারী ফরিদুল আলম, কুতুবী, সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, শাহীন, সরওয়ার, অ্যাডভোকেট যথাক্রমে মো. সাঈদ হোসেন, আনসারুল করিম, মোসলেম উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম গুন্দু, নুরুল হক ও দুলাল।

মহেশখালী উপজেলার হোয়ানকের ছাবের মো. ইব্রাহিম, আমান উল্লাহ, কালামারছড়ার চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, তার বড়ভাই অ্যাডভোকেট নোমান শরীফ, কালামারছড়ার জালাল উদ্দিন, নুরুল উসলাম বাহাদুর, জসিম উদ্দিন, জাকারিয়া, নুরুল আমিন, আবদুল গাফ্ফার, মৌলভী জাকারিয়া, শাপলাপুরের সেলিম উল্লাহ, নুরুল হুদা কাজল, মাতারবাড়ির নাছির উদ্দিন মো. বাবর চৌধুরী, মো. হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, আহমদ উল্লাহ, রেজাউল করিম আশেক, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুস সাত্তার, মো. মামুন, রেজাউল, ওয়ালিদ চৌধুরী, ধলঘাটার আবু ছৈয়দ, মো. তাজ উদ্দিন, রমজান আলী, মো. হোছন, কামরুল ইসলাম, স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার মহিবুল্লাহ, মো. হোসেন, জসিম উদ্দিন ও আরিফুর রহমান।

এদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

এদিকে উল্লিখিতদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে এ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সরকারের চলমান সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকেন্দ্রিক বেশ কয়েকজন দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে।