ডিএসসিসি’র ৬২ নম্বর ওয়ার্ড

চাহিদা ৪ গুণ, পানি সরবরাহ কমে অর্ধেক

নিয়মিত বিল দিলেও পানি মেলে না * পাঁচ বছর ধরে সংকটে গোবিন্দপুরবাসী

  খোরশেদ আলম শিকদার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি-যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের (গোবিন্দপুর) বাসিন্দারা পাঁচ বছর ধরে পানি সংকটে ভুগছেন।

তাদের অভিযোগ, নিয়মিত পানির বিল পরিশোধ করা হলেও তারা পানি পান না। আবার সরবরাহ করা পানি নোংরা, কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় তারা ব্যবহারও করতে পারেন না।

তাদের দাবি, চাহিদা চারগুণ বাড়লেও ওয়াসার পানি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন একটিমাত্র পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করে সরবরাহ করা হচ্ছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

ঢাকা ওয়াসার যাত্রাবাড়ী মডস জোন-৭ এর আওতাধীন গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন পানির পাম্পটি ২০০৬ সালে স্থাপন করা হয়। তখন এলাকায় হোল্ডিং সংখ্যা ছিল ৬০০। ওই সময় এ পাম্প থেকে প্রতি মিনিটে তিন হাজার ৩০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হতো।

বর্তমানে এ এলাকায় হোল্ডিং সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৫০০ হয়েছে। অথচ এখন পাম্পটি থেকে মিনিটে এক হাজার ৬০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। চাহিদা তিন থেকে চারগুণ বৃদ্ধি পেলেও পানি উত্তোলনের পরিমাণ কমেছে অর্ধেক।

গোবিন্দপুরবাসী জানান, বর্তমানে পানির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বালি আসছে। এতে পাইপ বন্ধ হয়ে পানি সরবরাহে বাধার সৃষ্টি করছে। এ কারণে সরাসরি পাম্প থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুদের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হাঁড়ি-পাতিল, কলস, ড্রাম নিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। অনেকে আবার খাবার পানি কিনতে বাধ্য হন।

এলাকার বাসিন্দা খোকন, রাইজ উদ্দিন মোল্লা, আবদুল আলীম ও সেলিম মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, ওয়াসার পানি দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টাও পাওয়া যায় না। আর পানি পেলেও তা ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত। এ পানি পান করা তো দূরের কথা গোসল ও কাপড় কাচা ও থালাবাসনসহ কোনো কাজেই লাগানো যায় না। পাঁচ বছর ধরে আমরা কষ্ট ভোগ করে আসছি। মৃধা মার্কেটের নিউ দারুচিনি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক জুয়েল রানা যুগান্তরকে বলেন, প্রতি মাসে পানির বিল দিচ্ছি। অথচ পানি পাচ্ছি না। পানির অভাবে প্রতি মাসেই তাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দা অহিদুল আবেদীন যুগান্তরকে বলেন, এলাকাটি খুবই ঘনবসতিপূর্ণ। কিন্তু এখানে ওয়াসার একটিমাত্র পানির পাম্প রয়েছে। যা চাহিদার ৩০ শতাংশও পূরণ করে না। ফলে বাসিন্দাদের গোসল, কাপড়চোপড় ধোয়া, অজুসহ আনুষঙ্গিক কাজ সারতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ওয়াসার পানি দুর্গন্ধযুক্ত। মাঝে মধ্যে আবার তাও থাকে না। ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৭ এর নির্বাহী পরিচালক বরাবর অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

গোবিন্দপুরের বাসিন্দা ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন বাচ্ছু যুগান্তরকে বলেন, এ এলাকায় পানির পাম্প দরকার তিনটি। সেখানে আছে মাত্র একটি। এতে বাসিন্দাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে পাম্প থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাসিন্দারা বাধ্য হচ্ছেন।

ডিএসসিসির ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজি মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এ এলাকার পানির সংকট দীর্ঘ দিনের। পাম্পটি পুরনো হওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি উত্তোলন হয় না। পুরাতন পাম্পটি দ্রুত মেরামত এবং এলাকার চাহিদা মেটাতে আরও কয়েকটি পাম্প স্থাপনে ওয়াসায় লিখিতভাবে জানিয়েছি।

ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৭ এর সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, গোবিন্দপুরের সমস্যা দ্রুতই কেটে যাবে। জানা গেছে, ওয়াসার পানির পাইপগুলো বহু পুরনো। সড়ক, ড্রেনেজ ও ডিএনডির খালের উন্নয়ন কাজের সময় ওয়াসার পাইপের অনেক জায়গা ফেটে গেছে। এ কারণে কালো ও দুর্গন্ধময় পানি ওয়াসার পাইপে প্রবেশ করছে। এ পানি আবার বাসাবাড়িতে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু একাধিক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, গোবিন্দপুর এলাকার সেনেটারি মিস্ত্রি জুয়েল, সোহেলসহ কিছু অসাধু মিস্ত্রি পাইপের ক্ষতি করছে। মডস জোন-৭ এর কিছু অসাধু লোকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকার চুক্তিতে ওয়াসার পাইপ ছিদ্র করে পানির লাইন দিচ্ছে। এভাবে পাইপগুলো ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে। এ কারণেও ওয়াসার পানির পাইপে ড্রেনেজের ময়লা ও নোংরা প্রবেশ করছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত