ভ্যাকসিন ও রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে আনবেন প্রধানমন্ত্রী
jugantor
জাতিসংঘ অধিবেশন
ভ্যাকসিন ও রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে আনবেন প্রধানমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ওইদিন বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় তার ভাষণ প্রচারিত হবে। আগে থেকে ধারণকৃত এ ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট ও সাশ্রয়ী মূল্যে করোনার ভ্যাকসিন কীভাবে বিশ্বের সবার জন্য নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কথা বলবেন তিনি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির আদান-প্রদান, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তিনি কথা বলবেন। সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সংযুক্ত ছিলেন।

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অধিবেশন শুরু হয়েছে। এ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কপর্ব আজ (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপের কারণে এবারের অধিবেশন আগের বছরগুলো থেকে একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুসরণ করে জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ দেশ থেকে সভায় অংশগ্রহণ করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাধারণ অধিবেশনের মূল বিতর্ক ছাড়াও আরও কয়েকটি শীর্ষ পর্যায়ের সভায়ও ধারণকৃত বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে আজ ভোর ৪টায় (বাংলাদেশ সময়) প্রথম বক্তব্য প্রচারিত হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত কয়েক বছরের মতো এবারও অধিবেশনে (২৬ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা সমস্যাটি তুলে ধরবেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিজেতে চলমান মামলা এবং আইসিসিতে রোহিঙ্গা নির্যাতনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা আগের বছরগুলোর মতোই গুরুত্বসহকারে আলোচিত হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই কোভিড-১৯ দমনে বিশ্ববাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার আবশ্যকতা, ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত ও দুর্দশা দমনে আমাদের গৃহীত কার্যক্রম প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির আদান-প্রদান, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ, লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকরণ, শিশুস্বাস্থ্য ও তাদের অধিকার, শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলো উঠে আসবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কপর্বের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি সভায় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বুধবার (কাল) জাতিসংঘ আয়োজিত ডিজিটাল কো-অপারেশন : অ্যাকশন টুডে ফর ফিউচার জেনারেশন শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সভায় অংশগ্রহণ করে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত তহবিল প্রদান ও জলবায়ু শরণার্থীদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোভিড-১৯-এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর আলোচনা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অর্থায়ন এবং অভিবাসী ও রেমিটেন্স বিষয়ে জোরালো দাবি উত্থাপন করবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি জীববৈচিত্র্যের হুমকির কারণসমূহ এবং এ হুমকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাবেন। এ ছাড়া পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বেইজিং+২৫ শীর্ষক সভায় প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরবেন। জাতিসংঘ অধিবেশনের কয়েকটি সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কয়েকটি সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

জাতিসংঘ অধিবেশন

ভ্যাকসিন ও রোহিঙ্গা ইস্যু সামনে আনবেন প্রধানমন্ত্রী

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ওইদিন বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় তার ভাষণ প্রচারিত হবে। আগে থেকে ধারণকৃত এ ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট ও সাশ্রয়ী মূল্যে করোনার ভ্যাকসিন কীভাবে বিশ্বের সবার জন্য নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কথা বলবেন তিনি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির আদান-প্রদান, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তিনি কথা বলবেন। সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সংযুক্ত ছিলেন।

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অধিবেশন শুরু হয়েছে। এ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কপর্ব আজ (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপের কারণে এবারের অধিবেশন আগের বছরগুলো থেকে একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুসরণ করে জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ দেশ থেকে সভায় অংশগ্রহণ করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাধারণ অধিবেশনের মূল বিতর্ক ছাড়াও আরও কয়েকটি শীর্ষ পর্যায়ের সভায়ও ধারণকৃত বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে আজ ভোর ৪টায় (বাংলাদেশ সময়) প্রথম বক্তব্য প্রচারিত হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত কয়েক বছরের মতো এবারও অধিবেশনে (২৬ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা সমস্যাটি তুলে ধরবেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিজেতে চলমান মামলা এবং আইসিসিতে রোহিঙ্গা নির্যাতনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা আগের বছরগুলোর মতোই গুরুত্বসহকারে আলোচিত হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই কোভিড-১৯ দমনে বিশ্ববাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার আবশ্যকতা, ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত ও দুর্দশা দমনে আমাদের গৃহীত কার্যক্রম প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির আদান-প্রদান, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ, লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকরণ, শিশুস্বাস্থ্য ও তাদের অধিকার, শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলো উঠে আসবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কপর্বের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি সভায় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বুধবার (কাল) জাতিসংঘ আয়োজিত ডিজিটাল কো-অপারেশন : অ্যাকশন টুডে ফর ফিউচার জেনারেশন শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সভায় অংশগ্রহণ করে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত তহবিল প্রদান ও জলবায়ু শরণার্থীদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

মন্ত্রী আরও জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোভিড-১৯-এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর আলোচনা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অর্থায়ন এবং অভিবাসী ও রেমিটেন্স বিষয়ে জোরালো দাবি উত্থাপন করবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি জীববৈচিত্র্যের হুমকির কারণসমূহ এবং এ হুমকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাবেন। এ ছাড়া পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বেইজিং+২৫ শীর্ষক সভায় প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরবেন। জাতিসংঘ অধিবেশনের কয়েকটি সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কয়েকটি সভায় অংশগ্রহণ করবেন।